← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

দোল পূর্ণিমা ২০২৭ — আবিরের ইতিহাস, নেড়াপোড়া, গৌর পূর্ণিমা ও শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব

🎉 উৎসব  ·  ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার

২২ মার্চ ২০২৭, সোমবার দোল পূর্ণিমা। রাধাকৃষ্ণের দোলনা থেকে শ্রীচৈতন্যের জন্মতিথি, আগের সন্ধ্যার নেড়াপোড়া থেকে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব — বাঙালির রঙের উৎসবের সম্পূর্ণ ইতিহাস ও অজানা তথ্য।

"খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল…" — বসন্তের পূর্ণিমায় বাঙালির দরজায় কড়া নাড়ে রঙের উৎসব। দোল পূর্ণিমা ২০২৭ পড়েছে ২২ মার্চ, সোমবার — ৭ চৈত্র ১৪৩৩; আগের সন্ধ্যায় নেড়াপোড়ার আগুন, আর দোলের সকালে আবিরে রাঙা আকাশ। উত্তর ভারত মাতবে পরদিন হোলিতে — কিন্তু বাংলার দোল শুধু রং নয়; এ হলো রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা, শ্রীচৈতন্যের জন্মতিথি, রবীন্দ্রনাথের বসন্ত উৎসব — তিন ঐতিহ্যের ত্রিবেণিসঙ্গম।

পলাশ ফুটেছে, শিমুল রাঙা, কোকিল ডাকছে — সরস্বতী পূজায় যে বসন্তের আবাহন হয়েছিল, দোলে তারই রাজ্যাভিষেক। সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।

এক নজরে দোল পূর্ণিমা ২০২৭

দোলযাত্রা — রাধাকৃষ্ণের দোলনায় বসন্ত

দোলের কেন্দ্রে বৃন্দাবনের সেই চিরন্তন যুগল — রাধা ও কৃষ্ণ। বসন্তের পূর্ণিমায় কুঞ্জবনে ফুলে সাজানো দোলনায় (হিন্দোলায়) রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ দুলিয়ে, আবির-ফাগ নিবেদন করে পালিত হয় দোলযাত্রা — বৈষ্ণব বিশ্বাসে বছরের অন্যতম মহোৎসব। কথিত আছে, এই তিথিতেই কৃষ্ণ রাধার অভিমান ভাঙাতে তাঁর গালে রং মাখিয়ে দিয়েছিলেন — সেই থেকেই রঙের প্রথা! মন্দিরে মন্দিরে চলে দোল-মহোৎসব, কীর্তন, পদাবলির আসর — বাংলার প্রাচীন রাজবাড়ি ও মঠে দোলের বিগ্রহ-শোভাযাত্রার ঐতিহ্য আজও জীবন্ত।

আর এই তিথিরই আরেক মহিমা — ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় নবদ্বীপে জন্ম নেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু — প্রেমভক্তির প্লাবনে যিনি ভাসিয়েছিলেন গোটা পূর্ব ভারত। তাই বৈষ্ণবদের কাছে দোল পূর্ণিমা মানেই গৌর পূর্ণিমা; নবদ্বীপ-মায়াপুরে এদিন লক্ষ ভক্তের সমাগম, ইসকনের বিশ্বজোড়া কেন্দ্রে মহা-অভিষেক আর নামসংকীর্তন। জন্মকালে শিশু গৌরাঙ্গকে দেখতে আসা প্রতিবেশীরা নাকি আবির খেলছিলেন — ইতিহাস আর কিংবদন্তি এখানে রঙে রঙে মিশে যায়। রথযাত্রার মাহেশ-কাহিনিতেও দেখেছি চৈতন্য-স্মৃতি — বাংলার উৎসব-মানচিত্রে মহাপ্রভু সর্বত্র।

নেড়াপোড়া — দোলের আগের আগুন-সন্ধ্যা

"আজ আমাদের নেড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল…" — দোলের আগের সন্ধ্যায় বাংলার পাড়ায় পাড়ায় জ্বলে ওঠে নেড়াপোড়া বা চাঁচরের আগুন — শুকনো ডালপালা, খড়, পুরোনো জঞ্জালের স্তূপে অগ্নিসংযোগ। এ হলো উত্তর ভারতের হোলিকা দহনের বাংলা সংস্করণ — পুরাণের সেই কাহিনি: হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা আগুনে-না-পোড়ার বরের জোরে ভক্ত প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে চিতায় বসেছিল; ঈশ্বরকৃপায় পুড়ল হোলিকাই, বাঁচল প্রহ্লাদ — অশুভের দহন, শুভর জয়। লোকজ চোখে নেড়াপোড়া আসলে শীত-পোড়ানো — জীর্ণ পাতা, পুরোনো আবর্জনা, রোগজীবাণুর সঙ্গে বিদায় নেয় জরা; ছাই থেকে জাগে নতুন বসন্ত। আগুনের চারপাশে ছোটদের ছড়া-হুল্লোড় — বাংলার নিজস্ব 'বনফায়ার নাইট'!

শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব — রঙের রবীন্দ্র-রূপ

দোলকে যিনি রুচি ও শিল্পের উৎসবে রূপান্তরিত করলেন, তিনি রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতনে ঋতু-উৎসবের ভাবনা থেকে জন্ম নেওয়া বসন্ত উৎসব ধীরে ধীরে হয়ে উঠল বিশ্বখ্যাত — ভোরে 'ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল' গানে প্রভাতফেরি, আম্রকুঞ্জে ছাত্রছাত্রীদের হলুদ-বাসন্তী পোশাকে নাচ-গান, তারপর শালীন আবির-খেলা — 'রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার আগে'। কাদা-রং-ভাংয়ের হুল্লোড়ের বদলে কবিতা-সংগীত-নৃত্যের এই দোল দেখিয়ে দিল — উৎসব মানে শুধু উচ্ছ্বাস নয়, সৌন্দর্যও। কবির জীবন ও সৃষ্টির সম্পূর্ণ কাহিনি পড়ুন এখানে। বিপুল ভিড়ের চাপে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আয়োজনের রূপ বদলেছে, তবু 'বসন্ত উৎসব' শব্দ দুটি উচ্চারণেই বাঙালির চোখে ভাসে সোনাঝুরির লাল মাটি আর আবিরের হলুদ মেঘ।

দোল বনাম হোলি — এক উৎসব, দুই দিন?

প্রশ্নটা প্রতি বছরের — বাংলায় দোল একদিন আগে, উত্তর ভারতে হোলি পরদিন কেন? উত্তর লুকিয়ে পঞ্জিকার গণনায়: বাংলা ও ওড়িশায় উৎসব পূর্ণিমা তিথিতে (দোলযাত্রা); উত্তর ভারতে পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হয় হোলিকা দহন, আর রং খেলা হয় পরদিন — প্রতিপদে (ধুলেন্ডি)। তাই ২০২৭-এ বাংলার দোল ২২ মার্চ, আর দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের হোলি ২৩ মার্চ। ব্রজভূমির হোলি অবশ্য একদিনের নয় — বসন্ত পঞ্চমী থেকে চল্লিশ দিনের মহাপর্ব: বরসানার লাঠমার হোলি (মেয়েদের লাঠির 'তাড়া' খান পুরুষরা!), বৃন্দাবনের ফুলের হোলি, বিধবা মায়েদের রং-উৎসব — প্রতিটি নিজেই এক-একটি প্রতিবেদন!

দোলের গান — কীর্তন থেকে রবীন্দ্রসংগীত, বলিউড পর্যন্ত

দোল যেমন রঙের, তেমনি সুরের উৎসব। প্রাচীনতম স্তর বৈষ্ণব কীর্তনের — দোল-মহোৎসবে পদাবলির 'হোরি' পর্যায়ের গান: রাধাকৃষ্ণের ফাগ-খেলার বর্ণনায় বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাসের উত্তরাধিকার; নবদ্বীপ-মায়াপুরের নগর-সংকীর্তনে সেই সুর আজও ফাল্গুনের বাতাসে। ধ্রুপদি সংগীতে হোরি-ধামার এক আস্ত ঘরানা — 'রং ডারুঙ্গি' বন্দিশে ঠুংরি-কণ্ঠের বসন্ত। আর আধুনিক বাঙালির দোল-প্লেলিস্টের মুকুটে অবশ্যই রবীন্দ্রসংগীত — 'ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল', 'রাঙিয়ে দিয়ে যাও', 'আজি দখিন দুয়ার খোলা', 'ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়' — শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব এই গানগুলিকে করেছে দোলের জাতীয় সংগীত; নৃত্যের ছন্দে 'নাচ ময়ূরী নাচ রে' ছাড়া প্রভাতফেরিই অসম্পূর্ণ। নজরুলের 'আজি দোল-পূর্ণিমাতে দোলা লাগে' মনে করিয়ে দেয় বিদ্রোহী কবির রোম্যান্টিক পিঠটিও। আর সর্বভারতীয় কানে দোল মানেই বলিউডের চিরসবুজ — 'রং বরসে' (অমিতাভের কণ্ঠ, হরিবংশ রাই বচ্চনের লোকগীতি-ঋণ), 'হোলি কে দিন', হালের 'বলম পিচকারি' — প্রজন্ম বদলায়, পিচকিরির গান ফুরোয় না!

ব্রজের হোলি-পঞ্জি — চল্লিশ দিনের রঙ্গমহোৎসব

হোলির 'তীর্থভূমি' মথুরা-বৃন্দাবনের উৎসব-ক্যালেন্ডারটি জানলে চোখ কপালে উঠবে — সেখানে হোলি একদিনের নয়, বসন্ত পঞ্চমী থেকে প্রায় চল্লিশ দিনের মহাপর্ব! মূল আকর্ষণগুলি — বরসানার লাড্ডু হোলি (লাড্ডু ছোড়াছুড়ি!) ও তার পরদিনের বিশ্বখ্যাত লাঠমার হোলি: রাধারানির গ্রাম বরসানার মেয়েরা লাঠি হাতে 'তাড়া' করেন নন্দগাঁওয়ের পুরুষদের — কৃষ্ণের ফাগ-দুষ্টুমির প্রত্যুত্তরের লোকনাট্য; পরদিন নন্দগাঁওয়ে পালা উলটে যায়! বৃন্দাবনের বাঁকেবিহারী মন্দিরে ফুলন কি হোলি — রং নয়, ফুলের বৃষ্টি; বিধবা মায়েদের হোলি (গোপীনাথ মন্দির-প্রাঙ্গণে) — সাদা থানের জীবনে রং ফেরানোর যুগান্তকারী সামাজিক উদ্যোগ; গোকুলের ছড়িমার হোলি, দাউজির হুরঙ্গা — প্রতিটির নিজস্ব পুরাণ ও পর্যটন! সংগীত-নৃত্য-রসিয়া গানের এই মহাপর্ব দেখতে বিশ্বের পর্যটক জড়ো হন ফাল্গুনের ব্রজে। বাংলার দোলযাত্রা এই বিশাল ভূগোলেরই পূর্ব-মোহনা — নবদ্বীপের গৌর-উৎসব আর ব্রজের লাঠমার আসলে এক প্রেমেরই দুই উপভাষা।

রং খেলার সুস্থ-পাঠ — ভেষজ আবির ও সাবধানতা

উৎসবের আনন্দ যেন ত্বক-চোখের কান্না না হয় — দোলের ব্যবহারিক গাইডটুকুও জরুরি। আবির বাছাইয়ে ভেষজ/হার্বাল লেখা প্রত্যয়িত রংই নিন — পলাশ-গাঁদা-বিট-হলুদের প্রাকৃতিক আবির আজ সহজলভ্য; সস্তা সিন্থেটিক রঙে থাকতে পারে সিসা-ক্রোমিয়াম-কাচগুঁড়ো — ত্বকের অ্যালার্জি থেকে চোখের ক্ষতি পর্যন্ত। খেলার আগে চুলে-গায়ে নারকেল তেল মেখে নেওয়া সাবেক টোটকাই সেরা বর্ম; চোখে রং গেলে ঘষা নয় — পরিষ্কার জলের ঝাপটা। শিশুদের পিচকিরিতে শুধু পরিষ্কার জল-ভেষজ রং; পোষ্যদের রং থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন — ওদের ত্বক ও জিভের পক্ষে রং বিপজ্জনক। 'বুরা না মানো হোলি হ্যায়'-এর নামে জোর করে রং দেওয়া আজ সৌজন্যবিধির (এবং ক্ষেত্রবিশেষে আইনেরও!) পরিপন্থী — সম্মতিই উৎসবের প্রথম রং। আর জল-সংকটের যুগে শুকনো আবিরের দোলই দায়িত্বশীল বিকল্প — শান্তিনিকেতনী ঘরানা এখানেও পথ দেখায়। খাওয়াদাওয়ায় ভাঙের শরবত উত্তর ভারতের ঐতিহ্য হলেও মাত্রাজ্ঞান জরুরি; বাংলার দোলে বরং মঠ-মুড়কি-মালপোয়া আর ঠান্ডাইয়ের নিরীহ মিষ্টিমুখই চিরকালীন। রং উঠুক সহজে, সম্পর্কে লাগুক গাঢ় হয়ে — দোলের আসল কেমিস্ট্রি তো সেটাই!

অজানা তথ্য — দোল-হোলি নিয়ে যা কম জানা

পুরাণের রং — হোলিকা, কামদেব ও পূতনার কাহিনি

দোল-হোলির উৎসব-শরীরে জমা আছে একাধিক পুরাণ-স্তর — প্রতিটির নিজস্ব দর্শন। প্রধানতম হোলিকা-প্রহ্লাদ আখ্যান: দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু নিজেকে ঈশ্বর ঘোষণা করেও টলাতে পারেনি বিষ্ণুভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে; শাস্তির শেষ অস্ত্র হলো পিসি হোলিকা — আগুনে অদাহ্য থাকার বরপ্রাপ্তা; কোলে প্রহ্লাদকে নিয়ে সে বসল জ্বলন্ত চিতায়। কিন্তু বর ছিল একা আগুনে বসার শর্তে — অন্যায়ে প্রযুক্ত হতেই তা ব্যর্থ; পুড়ল হোলিকা, ভক্ত রইল অক্ষত — হোলিকা দহনের মূল পাঠ: অন্যায়ের বর্মও অন্যায়ের ভারে গলে যায়। দ্বিতীয় স্তর কামদেবের কাহিনি — সতী-বিয়োগে ধ্যানমগ্ন শিবকে জাগাতে ফুলবাণ হেনেছিলেন মদন; তৃতীয় নয়নের আগুনে ভস্ম হয়ে রতির বিলাপে পরে পেলেন অশরীরী পুনর্জীবন — দক্ষিণ ভারতে হোলির লাগোয়া 'কামদহন' উৎসব এই স্মৃতিতেই; বসন্ত-মদন-রতির এই ত্রিভুজই ঋতুরাজের সঙ্গে প্রেমের চিরসংযোগের পুরাণ-সূত্র। তৃতীয় স্তরে কৃষ্ণকথা — শিশু কৃষ্ণকে বিষ-স্তন্যে মারতে আসা পূতনা রাক্ষসীর বধ-স্মৃতিতে ব্রজে পোড়ানো হয় পূতনার কুশপুতুল (হোলিকা-দহনের ব্রজ-পাঠ); আর কিশোর কৃষ্ণের সেই অমর অনুযোগ — মা, রাধা এত ফর্সা, আমি কালো কেন? — যশোদার সমাধান: যাও, রং মাখিয়ে দাও, যে রং মাখাবে সে-ই তোমার! গৌরবর্ণ-শ্যামবর্ণের ভেদ ঘুচিয়ে দেওয়া সেই প্রথম ফাগ — হোলির গভীরতম বার্তাটি হয়তো এখানেই: রং মাখলে সব মুখ সমান। আর বাংলার বৈষ্ণব-দর্শনে দোলনায় দোদুল্যমান যুগলমূর্তি প্রতীক জীবাত্মা-পরমাত্মার চিরন্তন দোলাচলের — ভক্তির পেন্ডুলামে বাঁধা প্রেম। এক উৎসবে এত তত্ত্ব — রঙের নিচে দর্শনের এমন স্তরবিন্যাস বিশ্বের কম উৎসবেই মেলে!

বাংলার দোল-ভূগোল — নবদ্বীপ থেকে পুরুলিয়া

শান্তিনিকেতনের বাইরেও বাংলার দোল-মানচিত্র বর্ণময়। নবদ্বীপ-মায়াপুর — গৌর পূর্ণিমার মহাতীর্থ; ইসকনের মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দিরে বিশ্বের নানা দেশের ভক্তের সমাগমে আন্তর্জাতিক গৌরোৎসব, পরিক্রমা, মহাভিষেক — দোলের দিন সেখানে যেন পৃথিবীর সব ভাষায় হরিনাম! শান্তিপুরের বিগ্রহবাড়িগুলিতে (বড় গোস্বামী, মেজো গোস্বামী বাড়ি) দোল-উৎসবের আভিজাত্য শতাব্দীপ্রাচীন; শান্তিপুর-গুপ্তিপাড়ায় দোলের আগের রাতের চাঁচর-উৎসবও বিখ্যাত। কোচবিহারের রাজ-ঐতিহ্যের মদনমোহন মন্দিরে দোল, পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় বসন্তের পলাশ-উৎসব — অযোধ্যা পাহাড়ের লালে-লাল টিলায় আজকাল পর্যটকদের 'পলাশ-পার্বণ' রীতিমতো ট্রাভেল-ট্রেন্ড; সঙ্গে ছৌ-নাচের বসন্ত-পালা। দাঁইহাটের ঐতিহাসিক দোল, বর্ধমান রাজবাড়ি-ঘরানার উৎসব, কলকাতার বনেদি বাড়ি ও মঠ-মন্দিরে (বলরাম মন্দির, পাথুরিয়াঘাটা) সাবেক দোল — তালিকা দীর্ঘ। ওপার বাংলাতেও ঢাকার পুরান শহরে, কুষ্টিয়ার লালন-আখড়ায় দোলের নিজস্ব রং — লালন স্মরণোৎসবের সাধুসঙ্গ দোল-পূর্ণিমাতেই বসে; বাউলের আখড়ায় আবির নয়, সুরের রং! আর প্রবাসে? টরন্টো থেকে টোকিও, প্রবাসী বাঙালির দোল মানে কমিউনিটি হলে রবীন্দ্রসংগীত, ভেষজ আবির আর ভুরিভোজ — 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি বাজলেই বিদেশের বরফেও ফাগুন নামে। দোলের এই ভূগোল-পাঠের সারমর্ম — উৎসবটি এক, উদ্‌যাপন শত; আর প্রতিটি ঠিকানাতেই মূলমন্ত্র অভিন্ন: রঙে রঙে ভেদাভেদ মুছে ফেলা। দোল পূর্ণিমার তিথি-নক্ষত্র দেখুন এখানে, আর সামনের বসন্তের বাকি উৎসবের হদিস চৈত্র মাসের ক্যালেন্ডারে

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

দোল পূর্ণিমা ২০২৭ কবে?

২০২৭ সালে দোল পূর্ণিমা ২২ মার্চ, সোমবার (৭ চৈত্র ১৪৩৩)। উত্তর ভারতের হোলি (ধুলেন্ডি) তার পরদিন।

দোল আর হোলির পার্থক্য কী?

উৎসবের মূল ভাবনা এক হলেও বাংলায় দোলযাত্রা হয় পূর্ণিমা তিথিতে — রাধাকৃষ্ণের দোলনা-উৎসব ও আবির খেলা; উত্তর ভারতে পূর্ণিমা-সন্ধ্যায় হোলিকা দহনের পর রং খেলা হয় পরদিন।

নেড়াপোড়া কী?

দোলের আগের সন্ধ্যায় শুকনো ডালপালা-খড়ের স্তূপ পোড়ানোর বাংলা লোকাচার — হোলিকা দহনের সমতুল্য; অশুভ ও জীর্ণকে পুড়িয়ে বসন্ত-বরণের প্রতীক। একে চাঁচর বা বুড়ির ঘর পোড়ানোও বলে।

গৌর পূর্ণিমা কী?

দোল পূর্ণিমার তিথিটিই গৌর পূর্ণিমা — ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের এই তিথিতে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম। নবদ্বীপ-মায়াপুরসহ বৈষ্ণব তীর্থে দিনটি মহাসমারোহে পালিত হয়।

শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব কী?

রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে দোল উপলক্ষে উদ্‌যাপিত সাংস্কৃতিক উৎসব — প্রভাতফেরি, রবীন্দ্রসংগীত-নৃত্য ও শালীন আবির খেলার এই আয়োজন বাঙালির রুচিশীল দোলের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


প্রতি বছরের তারিখ দেখুন দোল পূর্ণিমার পাতায়। পড়ুন সরস্বতী পূজা ২০২৭রথযাত্রার কাহিনিচৈত্র মাসের ক্যালেন্ডার এখানে

প্রচ্ছদ ছবি: KESHAV nsr, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 4.0

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার