← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

সরস্বতী পূজা ২০২৭ — হাতেখড়ি, কুল-রহস্য ও বাগ্‌দেবীর আরাধনার সম্পূর্ণ কাহিনি

🎉 উৎসব  ·  ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭, বৃহস্পতিবার সরস্বতী পূজা। হাতেখড়ির মন্ত্র থেকে পূজার আগে কুল না খাওয়ার রহস্য, বাসন্তী শাড়ি-পাঞ্জাবির 'বাঙালি ভ্যালেন্টাইন' থেকে জোড়া ইলিশের বরণ — বসন্ত পঞ্চমীর সম্পূর্ণ গাইড।

সাদা রাজহাঁস, শ্বেতপদ্ম, হাতে বীণা — মাঘের শুক্লা পঞ্চমীতে বাংলার প্রতিটি স্কুল, পাড়া আর বাড়ির ঠাকুরঘরে আসেন বিদ্যার দেবী। সরস্वতী পূজা ২০২৭ পড়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার — ২৮ মাঘ ১৪৩৩, বসন্ত পঞ্চমীর পুণ্যতিথিতে। এই একটি পূজার 'পুরোহিত' কার্যত বাংলার ছাত্রসমাজ — বছরের এই একটি দিন বইখাতার ছুটি, কারণ বই তো দেবীর পায়ের কাছে!

ভোরে ঠান্ডা জলে স্নান করে বাসন্তী শাড়ি, অঞ্জলির ফুল হাতে "সরস্বতী মহাভাগে" — প্রতিটি বাঙালির স্মৃতিতে এই দৃশ্য অমলিন। কিন্তু কেন পূজার আগে কুল খাওয়া বারণ? হাতেখড়ির মন্ত্রে কী লেখা? আর কবে থেকে সরস্বতী পূজা হয়ে উঠল 'বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে'? সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।

এক নজরে সরস্বতী পূজা ২০২৭

বাগ্‌দেবী — ঋগ্বেদের নদী থেকে বীণাপাণি

সরস্বতীর বয়স জানলে চমকে যেতে হয় — ঋগ্বেদেরও দেবী তিনি! তবে বেদে সরস্বতী প্রথমত এক মহানদী — স্তোত্রে তাঁকে বলা হয়েছে 'অম্বিতমে নদীতমে দেবিতমে' — শ্রেষ্ঠ মাতা, শ্রেষ্ঠ নদী, শ্রেষ্ঠ দেবী। জলের স্রোত থেকেই কালক্রমে তিনি হলেন বাক্য ও জ্ঞানের স্রোতস্বিনী — বাগ্‌দেবী, বীণাপাণি, ভারতী, শারদা। তাঁর প্রতিটি প্রতীক এক-একটি পাঠ: শ্বেতবস্ত্র — জ্ঞানের নির্মলতা; রাজহাঁস — যে দুধ আর জল আলাদা করতে জানে, অর্থাৎ সার-অসার বিবেচনা; বীণা — শিল্প ও সুরের সাধনা; পুস্তক — শাস্ত্রজ্ঞান। মাঘ শুক্লা পঞ্চমীর এই পূজা আসলে বসন্তেরও আবাহন — তাই নাম বসন্ত পঞ্চমী; শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতি ও মন দুয়েরই জেগে ওঠার দিন।

হাতেখড়ি — অক্ষরের সঙ্গে প্রথম প্রণয়

বাঙালি জীবনের মধুরতম অনুষ্ঠানগুলির একটি ঘটে এই দিনে — হাতেখড়ি। শিশুর হাতে প্রথম খড়ি (চক) ধরিয়ে স্লেটে লেখানো হয় প্রথম অক্ষর — পুরোহিত বা গুরুজনের হাত শিশুর হাতের ওপরে; দেবীর সামনে বিদ্যারম্ভের এই আচারে শিশু আনুষ্ঠানিকভাবে অক্ষর-জগতে পা রাখে। কোথাও লেখানো হয় 'ওঁ' বা 'অ আ', কোথাও 'সরস্বত্যৈ নমঃ'। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় যাঁদের হাতে উঠবে, তাঁদের যাত্রা শুরু এই স্লেট-খড়িতে। আজকাল স্কুল-ক্লাবের মণ্ডপে গণ-হাতেখড়ির আয়োজন হয়; প্রবাসে কি-বোর্ডের যুগেও এই আচার টিকে আছে স্বমহিমায় — প্রযুক্তি বদলায়, অক্ষরের প্রতি প্রণাম বদলায় না।

এ দিনের আরেক নিয়ম ছাত্রদের সবচেয়ে প্রিয় — পূজার দিন পড়াশোনা বারণ! বই-খাতা-কলম সব দেবীর পায়ের কাছে; বিদ্যা এদিন বিশ্রামে, ভক্তিতে। পরদিন 'বিদ্যা ফেরত' নিতে গিয়ে অবশ্য অনেকেরই মনে পড়ে — পরীক্ষা সামনে!

কুল-রহস্য ও ভোগের খিচুড়ি

"পূজার আগে কুল খেলে সরস্বতী রাগ করেন, পরীক্ষায় ফেল!" — প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি ছেলেমেয়ে এই ভয়ে মাঘের টোপাকুলের দিকে তাকিয়ে ঢোঁক গিলেছে। রীতির মূলে অবশ্য মধুর যুক্তি — মাঘেই কুল পাকতে শুরু করে, আর নতুন ফসল বা ফল আগে দেবতাকে নিবেদন, তারপর নিজে — এই হলো বাঙালি লোকাচারের চিরকেলে সূত্র (নবান্নের নতুন চালের নিয়মও তাই)। পঞ্চমীর অঞ্জলি সেরে প্রসাদী কুলে প্রথম কামড় — সে স্বাদ কোনো বিদেশি ফলে নেই! সঙ্গে ভোগের খিচুড়ি-লাবড়া, বাঁধাকপির তরকারি, চাটনি, আর কুলের টক। বহু পরিবারে পূজার পরদিন শীতলষষ্ঠী — উনুন জুড়িয়ে গোটা সেদ্ধ (গোটা মুগ, ছ'রকম গোটা সবজি) ও পান্তা খাওয়ার প্রথা; ঋতুবদলের মুখে শরীর ঠান্ডা রাখার লোকজ্ঞান।

আর পূর্ববঙ্গীয় বহু পরিবারে সরস্বতী পূজার দিন জোড়া ইলিশ বরণের চল — বছরের প্রথম ইলিশজোড়াকে সধবার মতো বরণ করে ঘরে তোলা; পূজার দিনেই অনেক বাঙাল বাড়িতে মরসুমের ইলিশ-যাত্রা শুরু। ঘটি-বাঙাল রসিকতার এও এক চিরন্তন উপাদান!

বাসন্তী রঙের দিন — 'বাঙালির ভ্যালেন্টাইন'

সরস্বতী পূজার দিন বাংলার রাস্তার দিকে তাকালেই বোঝা যায় বসন্ত এসে গেছে — মেয়েদের বাসন্তী-হলুদ শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি; শাড়ির সঙ্গে প্রথম হিল, প্রথম কাজল। স্কুল-কলেজের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, 'ঠাকুর দেখার' ছুতোয় প্রথম ভালো-লাগার মানুষটিকে এক ঝলক — কবে যেন দিনটার ডাকনামই হয়ে গেল 'বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে'; মজার কথা, ১৪ ফেব্রুয়ারির আশেপাশেই পড়ে বলে আমদানি-ভ্যালেন্টাইনকে বাঙালি প্রায়ই বলে — আমাদেরটা তো আগে থেকেই ছিল! সাহিত্য থেকে সিনেমা — বাসন্তী শাড়ির এই দিন বাঙালি রোম্যান্সের চিরকালীন সেট-পিস।

উত্তর ভারতে বসন্ত পঞ্চমী মানে হলুদ সর্ষে খেত আর ঘুড়ি; পাঞ্জাবে 'বসন্ত' ঘুড়ি-উৎসব; আর এই তিথি থেকেই ব্রজে শুরু হয়ে যায় চল্লিশ দিনের হোলি-পর্ব — যার চূড়ান্ত রূপ দোল পূর্ণিমায়

পূজার জোগাড় — ফর্দ থেকে অঞ্জলি

বাড়িতে সরস্বতী পূজার আয়োজন তুলনায় সহজ — সেজন্যই তো এটি বাঙালির 'প্রথম নিজের পুজো'; কত কিশোর-কিশোরীর পুরোহিত-জীবনের হাতেখড়িও এই পূজায়! ফর্দের মূল উপকরণ — দেবীমূর্তি বা পট, ঘট, আম্রপল্লব, ফুল (বিশেষত পলাশ — সরস্বতী পূজায় প্রায় অপরিহার্য), বেলপাতা, দূর্বা, ধান, তুলসী নয় কিন্তু! — সঙ্গে দোয়াত-কলম, বই, হলুদ-সাদা বস্ত্র, ফল (কুল অবশ্যই!), মিষ্টি, ধূপ-দীপ, আর অভ্র-আবির। পূজাবিধিতে ঘট-স্থাপন, দেবীর আবাহন, পুষ্পাঞ্জলি, আর শেষে প্রণাম-মন্ত্র। সেই চিরচেনা অঞ্জলি-মন্ত্র — "সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে / বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তু তে" — অর্থটি জানা থাকলে অঞ্জলি আরও অর্থবহ: হে মহাভাগ্যবতী, কমললোচনা, বিশ্বরূপা, বিশালাক্ষী সরস্বতী — আমাকে বিদ্যা দাও, তোমাকে প্রণাম। প্রণামের পরে বই-খাতা দেবীর পায়ে, শিশুদের হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ — আর দুপুরে খিচুড়ির অপেক্ষা! পরদিন দধিকর্মা (দই-চিঁড়ে-খই-মুড়কি মাখা) নিবেদন করে বিসর্জনের রীতি বহু জায়গায়। শুভ সময় দেখে নিতে পঞ্চমী তিথির পঞ্জিকা আর শুভ মুহূর্তের পাতা তো রইলই।

স্কুল-কলেজের পুজো — বাঙালির প্রথম দায়িত্বশিক্ষা

সরস্বতী পূজার সমাজতত্ত্বটি ভারি সুন্দর — এ হলো বাঙালি ছাত্রজীবনের প্রথম 'প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট'! চাঁদা তোলা থেকে প্রতিমা বায়না, মণ্ডপ বাঁধা থেকে ফর্দ মিলিয়ে বাজার, ভোগ রান্নার তদারকি থেকে বিসর্জনের শোভাযাত্রা — পুরো আয়োজনটাই ছাত্রছাত্রীদের হাতে; মাস্টারমশাইরা শুধু ব্যাকবেঞ্চে! ক্লাস এইটের ক্যাশিয়ার প্রথম শেখে হিসাবের খাতা, ক্লাস টেনের 'সেক্রেটারি' শেখে টিম চালানো — কোনো ম্যানেজমেন্ট স্কুল যা পড়ায় না। স্কুলে স্কুলে প্রতিযোগিতা — কার প্যান্ডেল সেরা, কার খিচুড়ি বিখ্যাত; প্রাক্তনীদের ফেরার দিনও এটাই — পুরোনো স্কুলের মাঠে অ্যালামনাই-আড্ডার অঘোষিত রিইউনিয়ন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবির-খেলা, আর সেই বিখ্যাত ক্যাম্পাস-রোম্যান্স! মেসে-হোস্টেলে ঘটি-বাঙালের যৌথ খিচুড়ি-রান্না, পাড়ার ক্লাবে ফাংশন — সরস্বতী পূজা আসলে বাঙালির কমিউনিটি-জীবনের বার্ষিক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম। শিক্ষা-গবেষকরা মজা করে বলেন — বাংলার স্কুলে 'লিডারশিপ ট্রেনিং'-এর প্রাচীনতম মডিউলটির নাম সরস্বতী পূজা কমিটি!

দেবীর রূপভেদ — বীণাপাণি থেকে মহাসরস্বতী

সরস্বতীর মূর্তিতত্ত্বেও আছে বৈচিত্র্যের ইতিহাস। বাংলার প্রচলিত রূপ দ্বিভুজা বীণাপাণি — সাদা শাড়ি, রাজহাঁস, পদ্মাসন; কিন্তু শাস্ত্রে তাঁর চতুর্ভুজা রূপও প্রবল — চার হাতে বীণা, পুস্তক, অক্ষমালা ও কমণ্ডলু (দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের মূর্তিতে যা বেশি দেখা যায়); তন্ত্রে মহাসরস্বতী মহাদেবীর তৃতীয় প্রকাশ — দুর্গাপূজার নবরাত্রির শেষ তিন দিন তাঁরই আরাধনা। বৌদ্ধ ঐতিহ্যেও সরস্বতী পূজিতা — বজ্রযানে 'বজ্রসরস্বতী'; আর জাপানে তিনি বেনজাইতেন (弁才天) — সমুদ্রঘেরা মন্দিরে বীণা-সদৃশ 'বিওয়া' হাতে জলের দেবী; ভারত থেকে চিন-জাপানে দেবীর এই অভিযাত্রা সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিস্ময়-অধ্যায়। জৈন ঐতিহ্যে শ্রুতদেবী, কাশ্মীরে শারদা (শারদা পীঠের ধ্বংসাবশেষ আজ পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে — 'শারদা লিপি'র নামেও তিনি) — উপমহাদেশজুড়ে জ্ঞানদেবীর কত ঠিকানা! হাঁস-ময়ূর বিতর্কও মজার — বাংলায় হাঁস, দক্ষিণে অনেক মূর্তিতে ময়ূর; দুই-ই শাস্ত্রসম্মত। এত রূপের মধ্যে অটুট শুধু একটি জিনিস — হাতের বীণা আর বই; জ্ঞান ও শিল্পের সেই যুগলবন্দিই সরস্বতী-তত্ত্বের সার।

অজানা তথ্য — সরস্বতী পূজা নিয়ে যা কম জানা

শ্রীপঞ্চমীর ইতিহাস — প্রাচীন বসন্তোৎসব থেকে ছাত্রদের পূজা

সরস্বতী পূজার আজকের চেহারাটি যত চেনা, তার ইতিহাস তত সরলরেখ নয়। প্রাচীন ভারতে মাঘ শুক্লা পঞ্চমী ছিল মূলত বসন্তের আবাহন-উৎসব — কালিদাসের যুগে বসন্তোৎসবের সূচনা-তিথি, কামদেব-রতিরও পূজার দিন (তাই এক নাম মদনপঞ্চমী); ক্ষেত্র-ভেদে শস্যদেবীর আরাধনাও চলত। সরস্বতী-আরাধনার শাস্ত্রীয় বিধান শ্রীপঞ্চমীতে বহু পুরোনো হলেও বাংলায় ঘরে ঘরে-স্কুলে স্কুলে মূর্তিপূজার এই গণরূপটি মূলত উনিশ-বিশ শতকের বিকাশ — ছাপাখানা-যুগে শিক্ষার প্রসার, স্কুল-কলেজের বিস্তার আর নবজাগরণী বাঙালির 'বিদ্যা'কে সামাজিক মর্যাদার শিখরে তোলা — এই তিন স্রোত মিলেই বিদ্যার দেবীর উৎসবকে করে তুলল ছাত্রসমাজের নিজস্ব পার্বণ। গবেষকরা দেখান, বাংলার প্রাচীন পটে-পুথিতে সরস্বতীর যে রূপ, তাতে হাঁসের বদলে কোথাও মেষ-ও দেখা যেত; আজকের শ্বেতশুভ্র হংসবাহিনী মূর্তিটির মানকীকরণও ঘটেছে এই আধুনিক পর্বেই — কুমোরটুলির শিল্পী ও ছাপা ক্যালেন্ডার-ছবির (বিশেষত রবি বর্মা-ঘরানার) যৌথ অবদানে। ঔপনিবেশিক নথিতে মেলে আরেক কৌতুক-তথ্য — বিশ শতকের গোড়ায় ছাত্রদের সরস্বতী পূজার শোভাযাত্রা এতটাই জমজমাট হয়ে উঠেছিল যে কোনো কোনো স্কুল-কর্তৃপক্ষ ও ম্যাজিস্ট্রেট তাতে 'শৃঙ্খলাভঙ্গের' গন্ধ পেতেন; স্বদেশি যুগে পূজার চাঁদা আর জমায়েত জাতীয়তাবাদী সংগঠনেরও আড়াল হয়ে উঠেছিল — বঙ্গভঙ্গ-পর্বের সেই উত্তাল বাংলায় দেবী সরস্বতীও ছিলেন স্বদেশির শরিক! আজকের 'ইনস্টাগ্রাম-পঞ্চমী' — শাড়ি-পাঞ্জাবির রিল আর ক্যাপশন-কবিতা — সেই দীর্ঘ বিবর্তনেরই সাম্প্রতিক অধ্যায়; মাধ্যম বদলেছে, মাঘের হাওয়ায় প্রথম প্রেম আর প্রথম অক্ষরের গন্ধটি বদলায়নি।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

সরস্বতী পূজা ২০২৭ কবে?

২০২৭ সালে সরস্বতী পূজা ১১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার — ২৮ মাঘ ১৪৩৩, মাঘ শুক্লা পঞ্চমী (বসন্ত পঞ্চমী) তিথিতে।

হাতেখড়ি কী?

সরস্বতী পূজার দিন শিশুর আনুষ্ঠানিক বিদ্যারম্ভের আচার — দেবীর সামনে গুরুজনের সহায়তায় শিশু স্লেটে খড়ি দিয়ে জীবনের প্রথম অক্ষর লেখে।

সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া বারণ কেন?

লোকাচার অনুযায়ী মরসুমের নতুন ফল আগে দেবীকে নিবেদন করতে হয় — তাই পঞ্চমীর অঞ্জলির আগে কুল খাওয়া নিষেধ; প্রসাদী কুল দিয়েই মরসুমের প্রথম কুল খাওয়ার রীতি। 'আগে খেলে পরীক্ষায় ফেল' — কথাটি সেই নিয়ম মানানোরই মজার লোকজ ভয়!

সরস্বতী পূজার ভোগে কী থাকে?

খিচুড়ি, লাবড়া, বাঁধাকপির তরকারি, চাটনি, টোপাকুল ও মিষ্টি — বাংলার স্কুল-পাড়ার পূজার চিরায়ত মেনু। বহু বাড়িতে পরদিন শীতলষষ্ঠীতে গোটা সেদ্ধ-পান্তা খাওয়ার প্রথা আছে।

বসন্ত পঞ্চমী আর সরস্বতী পূজা কি একই?

হ্যাঁ — মাঘ শুক্লা পঞ্চমী তিথিটিই বসন্ত পঞ্চমী; বাংলায় এই দিনে সরস্বতীর আরাধনা হয়, উত্তর ভারতে দিনটি বসন্তের সূচনা-উৎসব হিসেবে হলুদ রঙে ও ঘুড়িতে পালিত হয়।


প্রতি বছরের তারিখ দেখুন সরস্বতী পূজার পাতায়। পড়ুন দোল পূর্ণিমার কাহিনিবিদ্যাসাগরের জীবনকথামাঘ মাসের ক্যালেন্ডার এখানে

প্রচ্ছদ ছবি: Aankan Das, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 3.0

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার