🌟 ব্যক্তিত্ব · ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার
৭ আগস্ট ২০২৬ (২২শে শ্রাবণ ১৪৩৩) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস। জোড়াসাঁকো থেকে নোবেল, শান্তিনিকেতন থেকে দুই দেশের জাতীয় সংগীত — কবিগুরুর সম্পূর্ণ জীবনকথা ও অজানা তথ্য।
শ্রাবণের ভরা বর্ষায় বাঙালির মন ভারী হয়ে আসে একটি তারিখে — ২২শে শ্রাবণ। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে (৭ আগস্ট ১৯৪১) জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — বাঙালির রবি ঠাকুর, বিশ্বের কবিগুরু। এ বছর ২২শে শ্রাবণ ১৪৩৩ পড়েছে ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার — বিশ্বকবির ৮৫তম প্রয়াণ দিবস। আশ্চর্য সমাপতন, এবার বাংলা ও ইংরেজি তারিখ মিলে গেছে হুবহু — ২২শে শ্রাবণ আর ৭ আগস্ট একই দিনে।
কে ছিলেন এই মানুষটি, যাঁর গান দিয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র নিজেদের পরিচয় দেয়? যাঁর কবিতা এশিয়াকে এনে দিয়েছিল প্রথম নোবেল পুরস্কার? এই নিবন্ধে রইল রবীন্দ্রনাথের সম্পূর্ণ জীবনকথা — জোড়াসাঁকো থেকে শান্তিনিকেতন, গীতাঞ্জলি থেকে ২২শে শ্রাবণ, আর কিছু চমকে দেওয়া অজানা তথ্য।
১৮৬১ সালের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর চতুর্দশ সন্তান — রবীন্দ্রনাথ। ঠাকুরবাড়ি তখন বাংলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র; বাড়িজুড়ে গান, নাটক, পত্রিকা, ছবি আঁকার চর্চা। কিন্তু ছোট্ট রবির শৈশব কেটেছে ভৃত্যদের শাসনে, স্কুলপালানো মন নিয়ে। প্রথাগত স্কুল তাঁর কোনোদিনই ভালো লাগেনি — ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি, সেন্ট জেভিয়ার্স — কোথাও মন টেকেনি। পরে তিনি লিখেছিলেন, শিক্ষা যেন জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কারখানা না হয় — এই উপলব্ধিই একদিন জন্ম দেবে শান্তিনিকেতনের।
আট বছর বয়সে কবিতা লেখার শুরু। ষোলো বছর বয়সে 'ভানুসিংহ' ছদ্মনামে প্রকাশিত হলো ব্রজবুলি ভাষায় লেখা পদাবলি — পণ্ডিতেরা ভাবলেন কোনো প্রাচীন বৈষ্ণব কবির হারানো পুঁথি! ১৮৭৮-এ ব্যারিস্টারি পড়তে বিলেত যাত্রা, কিন্তু ডিগ্রি না নিয়েই ফেরা — সঙ্গে এল পাশ্চাত্য সংগীতের সুর, যা পরে রবীন্দ্রসংগীতে মিশে যাবে অবলীলায়।
১৮৯০-এর দশকে পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চলে যান পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসরে। পদ্মার বোটে ভেসে ভেসে তিনি প্রথমবার দেখলেন গ্রামবাংলার সত্যিকারের মুখ — কৃষকের দুঃখ, খেয়াঘাটের গল্প, বর্ষার আকাশ। এই পর্বেই লেখা হলো 'সোনার তরী', 'চিত্রা'র কবিতা আর সেই অবিস্মরণীয় ছোটগল্পগুলি — 'পোস্টমাস্টার', 'কাবুলিওয়ালা', 'ছুটি', 'অতিথি'। অনেক সমালোচকের মতে, বাংলা ছোটগল্পের প্রকৃত জন্ম রবীন্দ্রনাথের এই শিলাইদহ-পর্বেই।
১৯১২ সালে অসুস্থ শরীরে বিলেত যাত্রার আগে রবীন্দ্রনাথ নিজের 'গীতাঞ্জলি'র কবিতাগুলি ইংরেজি গদ্যে অনুবাদ করছিলেন — অনেকটা নিজের মনেই। লন্ডনে চিত্রশিল্পী উইলিয়াম রোদেনস্টাইনের বাড়িতে সেই খাতা পড়ে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস। ইয়েটসের ভূমিকাসহ প্রকাশিত হলো Song Offerings — আর ইউরোপের সাহিত্যমহলে ঝড় উঠল।
১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর খবর এল শান্তিনিকেতনে — সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এশিয়ার কোনো মানুষের প্রথম নোবেল প্রাপ্তি। সেদিন গোটা ভারতবর্ষ যেন প্রথমবার বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াল। এই ঐতিহাসিক দিনটির কথা আরও বিস্তারিত পড়ুন রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পাতায়। ১৯১৫-এ ব্রিটিশ সরকার দিল 'নাইট' উপাধি — কিন্তু ১৯১৯-এ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সেই উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ দেখালেন, কবির মেরুদণ্ড সাম্রাজ্যের খেতাবের চেয়ে দামি।
১৯০১ সালে বোলপুরের কাছে পিতার আশ্রমভূমিতে মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে রবীন্দ্রনাথ শুরু করলেন ব্রহ্মচর্যাশ্রম — খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায় ক্লাস। প্রকৃতির কোলে আনন্দময় শিক্ষার সেই স্বপ্ন ১৯২১ সালে পূর্ণতা পেল বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠায় — যেখানে বিশ্ব এসে মিলবে ভারতের নীড়ে ("যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্")। নোবেলের অর্থ, বইয়ের রয়্যালটি, এমনকি নিজের বাড়ি বিক্রির টাকাও তিনি ঢেলে দিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানে। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পড়ুন এখানে। আজকের পৌষমেলা বা বসন্তোৎসব — শান্তিনিকেতনের যে উৎসবগুলি বিশ্বখ্যাত, সবই কবির হাতে গড়া।
পৃথিবীর ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথই একমাত্র ব্যক্তি, যাঁর লেখা ও সুর করা গান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত — ভারতের 'জন গণ মন' আর বাংলাদেশের 'আমার সোনার বাংলা'। 'আমার সোনার বাংলা' লেখা হয়েছিল ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদপর্বে — যে আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ পথে নেমে হিন্দু-মুসলমানের হাতে রাখি বেঁধে দিয়েছিলেন। আর শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতের রচয়িতা আনন্দ সামারাকুন ছিলেন শান্তিনিকেতনে কবির ছাত্র — গবেষকদের অনেকে মনে করেন সেই সুরেও রবীন্দ্র-প্রভাব স্পষ্ট। এক কবির কলম তিন দেশের কণ্ঠে!
জীবনের শেষ দশকে আশ্চর্য কর্মযজ্ঞ চালিয়ে গেছেন রবীন্দ্রনাথ — নাচের নাটক, ছবি আঁকা, বিশ্বভ্রমণ, বিজ্ঞানের বই 'বিশ্বপরিচয়'। ১৯৪১-এর এপ্রিলে, আশিতম জন্মদিনে দিলেন শেষ ভাষণ — 'সভ্যতার সংকট' — যুদ্ধদীর্ণ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে যার শেষ পঙ্ক্তি আজও উচ্চারিত হয়: "মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।"
১৯৪১-এর জুলাইয়ে শরীর ভেঙে পড়ল। শান্তিনিকেতন থেকে নিয়ে আসা হলো জোড়াসাঁকোয়, যে বাড়িতে জন্ম — সেখানেই অস্ত্রোপচার। ৭ আগস্ট ১৯৪১, ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮, দুপুর ১২টা বেজে ১০ মিনিটে থেমে গেল বাংলার রবি। মৃত্যুশয্যাতেও মুখে মুখে বলে গেছেন শেষ কবিতা — "তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি"। সেদিন কলকাতার রাজপথে নেমেছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শোকমিছিল; নিমতলা ঘাটের চন্দনকাঠের ধোঁয়ায় মিশে গিয়েছিল লক্ষ মানুষের কান্না।
"যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে... তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।" — অথচ বাঙালি আজও প্রতি ২২শে শ্রাবণে তাঁকেই ডাকে।
রবীন্দ্র-রচনাবলির বিস্তার শুনলে বিস্ময় জাগে — প্রায় তিন হাজার কবিতা, দুই সহস্রাধিক গান, তেরোটি উপন্যাস, শতাধিক ছোটগল্প, প্রায় চল্লিশটি নাটক-গীতিনাট্য-নৃত্যনাট্য, অজস্র প্রবন্ধ, ভ্রমণকথা, চিঠিপত্র, শিশুপাঠ্য, এমনকি বিজ্ঞানের বই!
কবিতায় 'মানসী', 'সোনার তরী', 'চিত্রা', 'বলাকা', 'পুনশ্চ' হয়ে শেষ পর্বের 'শেষ লেখা' — প্রতিটি পর্বে নিজেকেই ভেঙেছেন। উপন্যাসে 'চোখের বালি' এনেছে মনস্তত্ত্ব, 'গোরা' জাতীয়তার দার্শনিক মহাকাব্য, 'ঘরে বাইরে' স্বদেশি যুগের আত্মসমালোচনা, আর 'শেষের কবিতা' — বাংলা রোমান্সের চির-আধুনিক শিখর। ছোটগল্পে 'পোস্টমাস্টার', 'কাবুলিওয়ালা', 'ক্ষুধিত পাষাণ', 'স্ত্রীর পত্র' — বিশ্বসাহিত্যের যে-কোনো সংকলনে জায়গা করে নেওয়ার মতো। নাটকে 'ডাকঘর', 'রক্তকরবী', 'রাজা', 'মুক্তধারা' — প্রতীকী নাট্যভাষায় তিনি সময়ের চেয়ে অন্তত অর্ধশতক এগিয়ে; 'ডাকঘর'-এর অমল তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইউরোপে ঘেটো-শিবিরেও অভিনীত হয়ে ইতিহাস।
আর 'বিসর্জন' থেকে 'চিত্রাঙ্গদা', 'শ্যামা', 'চণ্ডালিকা' — নৃত্যনাট্যে গান-নাচ-নাটকের যে সমন্বিত রূপ তিনি গড়লেন, তা আজও বাংলা মঞ্চের প্রধান সম্পদ। 'জীবনস্মৃতি' ও 'ছেলেবেলা'য় আত্মকথা, 'রাশিয়ার চিঠি'তে সমাজদর্শন, 'বিশ্বপরিচয়'-এ জ্যোতির্বিজ্ঞান — শেষ বইটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে। এক মানুষের কলমে এত অভিমুখ — বিশ্বসাহিত্যে তুলনা খুঁজতে হয় গ্যেটে ছাড়া কারও সঙ্গে মেলে না।
রবীন্দ্রনাথ বাঙালির কাছে 'সাহিত্যিক' নন — সংস্কৃতির অপারেটিং সিস্টেম! জন্মের শুভেচ্ছায় 'আজি এ প্রভাতে', বিয়ের পিঁড়িতে 'শুভদৃষ্টি'র গান, প্রেমে 'আমারো পরানো যাহা চায়', প্রতিবাদে 'একলা চলো রে' (যা প্রিয় ছিল গান্ধীজিরও), শোকে 'আছে দুঃখ আছে মৃত্যু' — জীবনের প্রতিটি স্টেশনে রবীন্দ্রসংগীত অপেক্ষা করে আছে। পঁচিশে বৈশাখ আর বাইশে শ্রাবণ — জন্ম ও প্রয়াণ দিবস দুটিই কার্যত বাঙালির সাংস্কৃতিক জাতীয় দিবস; পাড়ার জলসা থেকে রবীন্দ্রসদন, প্রবাসের বেসমেন্ট থেকে ঢাকার ছায়ানট — 'রবীন্দ্র-চর্চা' নিজেই এক জীবনধারা। শান্তিনিকেতন আজ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্রের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (২০২৩) — কবির গড়া আশ্রম-শহরটিই এখন মানবসভ্যতার সংরক্ষিত সম্পদ। আর কূটনীতিতেও রবীন্দ্রনাথ অনন্য 'সেতু' — ভারত-বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দুই জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধায়; দুই বাংলার মনের সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে পারেনি কেউ — পাহারায় যে রবি ঠাকুর!
প্রতি বছর ২২শে শ্রাবণে কলকাতার রবীন্দ্র সদন, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও শান্তিনিকেতনে বসে স্মরণানুষ্ঠান — রবীন্দ্রসংগীত, কবিতাপাঠ, নৃত্যনাট্যে কবিপ্রণাম। শান্তিনিকেতনে হয় বিশেষ উপাসনা ও বৃক্ষরোপণ উৎসব — মৃত্যুর দিনে নতুন প্রাণের প্রতিষ্ঠা, কবির দর্শনের সার্থক প্রতিফলন। বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হয় সমান মর্যাদায়। ২০২৬ সালের ২২শে শ্রাবণের তিথি-নক্ষত্রসহ পঞ্জিকা দেখুন এখানে, আর গোটা শ্রাবণ মাসের ক্যালেন্ডার এখানে।
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভ্রমণের খতিয়ান দেখলে মনে হয় জেট-যুগের কূটনীতিকের সফরসূচি — অথচ সবটাই জাহাজ-রেলের যুগে! ১৯১২-১৩-র ঐতিহাসিক ইংল্যান্ড-আমেরিকা সফর থেকে শুরু করে জীবনের শেষ বিদেশযাত্রা (১৯৩৪-এ সিংহল) পর্যন্ত তিনি পাড়ি দিয়েছেন তিরিশেরও বেশি দেশে — জাপান (পাঁচবার!), চিন (১৯২৪-এর বিতর্কিত-বিখ্যাত সফর, যেখানে তরুণ চিনা কবিরা তাঁকে দিয়েছিল 'চু চেন-তান' নাম), ইরান-ইরাক (আশি ছুঁইছুঁই বয়সে বিমানে!), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাভা-বালি (যেখানে রামায়ণ-সংস্কৃতি দেখে অভিভূত কবি), সোভিয়েত রাশিয়া (১৯৩০ — 'রাশিয়ার চিঠি'তে যে সফরের মুগ্ধ-সমালোচনামিশ্র বিবরণ), লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা (ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথ্য — 'বিজয়া'কে উৎসর্গ করলেন 'পূরবী')। এই সফরগুলি নিছক খ্যাতি-ভ্রমণ ছিল না — ছিল সভ্যতার সংলাপ: আইনস্টাইনের সঙ্গে সত্য-বাস্তবতা বিতর্ক, মুসোলিনির ইতালিতে প্রাথমিক সৌজন্যের পরে ফ্যাসিবাদের স্বরূপ বুঝে প্রকাশ্য নিন্দা (রোলাঁর সতর্কবার্তায়), জাপানে জাতীয়তাবাদের আগ্রাসী চেহারা নিয়ে অপ্রিয় সত্যভাষণ — সাম্রাজ্য ও উগ্র জাতীয়তার যুগে 'বিশ্বমানবতার' এই একক প্রচারক ছিলেন কার্যত ভারতের অনানুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত। সফরের অর্থনীতিও কৌতূহলকর — বক্তৃতার সম্মানীর সিংহভাগ যেত বিশ্বভারতীর তহবিলে; কবি রসিকতা করতেন, তিনি আসলে শান্তিনিকেতনের 'ভিক্ষুক-দূত'! এই বিশ্ব-অভিজ্ঞতাই তাঁর শিক্ষাদর্শে এনেছিল আন্তর্জাতিকতা — বিশ্বভারতীতে চিনা ভবন, নিপ্পন-চর্চা, ইউরোপীয় পণ্ডিতদের আবাস; 'যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্' শুধু নীতিবাক্য ছিল না, ছিল কর্মসূচি। ২২শে শ্রাবণে বিশ্বজুড়ে রবীন্দ্র-স্মরণের আজকের ব্যাপ্তি সেই বীজেরই মহীরুহ।
২০২৬ সালে ২২শে শ্রাবণ ১৪৩৩ পড়েছে ৭ আগস্ট, শুক্রবার — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস। কবি প্রয়াত হন ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ (৭ আগস্ট ১৯৪১)।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ৭ মে ১৮৬১, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে।
১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings-এর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ — তিনিই এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। খবরটি শান্তিনিকেতনে পৌঁছেছিল ১৩ নভেম্বর ১৯১৩।
ভারতের 'জন গণ মন' এবং বাংলাদেশের 'আমার সোনার বাংলা' — দুটিই রবীন্দ্রনাথের রচনা। শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতেও তাঁর প্রভাব আছে বলে গবেষকদের অনেকে মনে করেন।
কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে — যে বাড়িতে তাঁর জন্ম, সেখানেই ৭ আগস্ট ১৯৪১ (২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮) দুপুরে তিনি প্রয়াত হন।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি ও বিশ্বভারতীর ইতিহাস পড়ুন নোবেল প্রাপ্তি ও বিশ্বভারতী পাতায়। প্রতিদিনের তিথি-নক্ষত্র জানতে দেখুন আজকের পঞ্জিকা।
প্রচ্ছদ ছবি: Bain News Service, উইকিমিডিয়া কমন্স_LCCN2014702152.jpg) — পাবলিক ডোমেন