🎉 উৎসব · ৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। পুরীর জগন্নাথদেবের রথ থেকে বাংলার ছয়শো বছরের পুরনো মাহেশের রথ — রথযাত্রার পৌরাণিক কাহিনি, তিন রথের পরিচয়, ছেরা পহরা, উল্টোরথ ও অজানা তথ্যসহ সম্পূর্ণ গাইড।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথি — বাঙালির কাছে এ দিনের একটাই নাম, রথযাত্রা। এ বছর রথযাত্রা পড়েছে ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার। পুরীর সমুদ্রতীরের বড়দাণ্ড থেকে হুগলির মাহেশ, কলকাতার ইসকন থেকে পাড়ার ছোট্ট কাঠের রথ — এই একটি দিনে গোটা বাংলা যেন রশিতে টান দেয় একসঙ্গে। রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এ হলো বাঙালির বর্ষার প্রথম বড় উৎসব, মেলার মরসুমের সূচনা, আর সেই সঙ্গে শারদীয়া দুর্গোৎসবের অদৃশ্য ঘণ্টাধ্বনি। এই নিবন্ধে রথযাত্রার সম্পূর্ণ ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি, তিন রথের খুঁটিনাটি, বাংলার নিজস্ব রথ-ঐতিহ্য আর কিছু চমকে দেওয়া অজানা তথ্য — সব একসঙ্গে পাবেন।
২০২৬ সালে রথযাত্রা পালিত হবে ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার — বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি। আর উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে আট দিন পরে, ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার উল্টোরথে, যাকে পুরীধামে বলা হয় বাহুড়া যাত্রা। রথযাত্রার দিনের তিথি, নক্ষত্র, রাহু কাল ও শুভ সময়ের সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন ১৬ জুলাইয়ের পঞ্জিকা পাতায়, আর গোটা মাসের তিথি-নক্ষত্র দেখতে পারেন আষাঢ় মাসের ক্যালেন্ডারে।
প্রতি বছর আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়ায় এই উৎসব পালিত হয় বলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে তারিখটি বদলে যায় — কখনও জুনের শেষে, কখনও জুলাইয়ের মাঝামাঝি। আগামী বছরগুলির তারিখ জানতে চোখ রাখুন আমাদের রথযাত্রা উৎসবের পাতায়।
রথযাত্রার শিকড় খুঁজতে গেলে পৌঁছে যেতে হয় পুরাণের যুগে। স্কন্দপুরাণ, ব্রহ্মপুরাণ ও পদ্মপুরাণে জগন্নাথদেবের মাহাত্ম্য ও রথযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনিটি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের। কথিত আছে, মালব দেশের এই বিষ্ণুভক্ত রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন — সমুদ্রে ভেসে আসা এক দিব্য দারুব্রহ্ম বা পবিত্র নিমকাঠ থেকে তৈরি হবে জগন্নাথের বিগ্রহ।
কাহিনি অনুসারে, স্বয়ং বিশ্বকর্মা ছদ্মবেশী বৃদ্ধ শিল্পীর রূপে এসে শর্ত দিলেন — একুশ দিন বন্ধ দরজার আড়ালে তিনি মূর্তি গড়বেন, কেউ যেন ভেতরে না তাকায়। কিন্তু কৌতূহল বড় বালাই! ভেতর থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে রানি গুণ্ডিচার অনুরোধে রাজা নির্ধারিত সময়ের আগেই দরজা খুলে ফেললেন। দেখা গেল, শিল্পী অন্তর্হিত — আর জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মূর্তি রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ, হাত-পা ছাড়াই। স্বপ্নে জগন্নাথ রাজাকে জানালেন, এই অসম্পূর্ণ রূপেই তিনি পূজিত হবেন যুগ যুগ ধরে। সেই থেকেই জগন্নাথদেবের এমন অনন্য রূপ — যা পৃথিবীর আর কোনো দেবমূর্তিতে দেখা যায় না।
রথযাত্রার তাৎপর্য নিয়েও রয়েছে একাধিক ব্যাখ্যা। কেউ বলেন, এ হলো শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি; কেউ বলেন মাসির বাড়ি গুন্ডিচায় সাত দিনের নিমন্ত্রণ। কঠোপনিষদের বিখ্যাত রূপকটিও এখানে স্মরণীয় — দেহ হলো রথ, আত্মা তার যাত্রী, বুদ্ধি সারথি আর ইন্দ্রিয়গুলি অশ্ব। রথযাত্রা তাই আধ্যাত্মিক পথচলারও প্রতীক।
ওড়িশার পুরীধামের জগন্নাথ মন্দির ভারতের চার ধামের অন্যতম। দ্বাদশ শতাব্দীতে গঙ্গ রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গদেবের আমলে বর্তমান মন্দিরের নির্মাণ শুরু হয় বলে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। প্রায় ২১৪ ফুট উঁচু এই মন্দিরের চূড়া বহু শতাব্দী ধরে বঙ্গোপসাগরের নাবিকদের দিক নির্দেশ করেছে — তাঁরা একে বলতেন 'হোয়াইট প্যাগোডা'।
পুরীর রথযাত্রা ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রথ উৎসব। জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বার থেকে গুন্ডিচা মন্দির পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার প্রশস্ত পথ — বড়দাণ্ড — জুড়ে জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা তিনটি সুবিশাল কাঠের রথে চড়ে যাত্রা করেন। ইউরোপীয় পর্যটক ও মিশনারিদের লেখায় ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতক থেকেই এই মহোৎসবের বিবরণ মেলে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সেই জনসমুদ্র দেখে বিস্মিত ইংরেজরা তাঁদের অভিধানেই ঢুকিয়ে নিয়েছিল একটি নতুন শব্দ — juggernaut, অর্থাৎ অপ্রতিরোধ্য শক্তি। শব্দটি এসেছে সরাসরি 'জগন্নাথ' থেকে।
অনেকেই জানেন না, রথযাত্রা আসলে একটি দীর্ঘ উৎসব-পরম্পরার মধ্যমণি — তার শুরু প্রায় এক মাস আগে থেকেই। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার দিন পালিত হয় স্নানযাত্রা বা দেবস্নান পূর্ণিমা। এই দিনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে মন্দিরের স্নানবেদিতে এনে ১০৮ কলসি সুগন্ধি জলে মহাস্নান করানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাসে, এত জলে স্নানের পর দেবতারা 'জ্বরে' পড়েন!
এরপর শুরু হয় অনসর পর্ব — প্রায় পনেরো দিন তিন বিগ্রহ জনসাধারণের দর্শনের আড়ালে থাকেন, চলে গোপন সেবা ও ভেষজ পাঁচন নিবেদন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সময়ে জগন্নাথ দর্শন দেন ব্রহ্মগিরির আলারনাথ মন্দিরে — তাই অনসরে আলারনাথ দর্শনের আলাদা মাহাত্ম্য। বাংলার মঠ-মন্দিরেও এই পর্বে জগন্নাথের খিচুড়ি ভোগ আর পাঁচনের সেবা চলে।
রথযাত্রার ঠিক আগের দিন নেত্র উৎসব বা নবযৌবন দর্শন — 'সুস্থ' হয়ে ওঠা জগন্নাথের চোখ নতুন করে আঁকা হয়, আর নবযৌবনের রূপে দেবতা প্রথম দর্শন দেন। তার পরদিনই মহাসমারোহে রথযাত্রা, সাত দিন গুন্ডিচায় অবস্থান, অষ্টম দিনে উল্টোরথ — আর উল্টোরথের পরে সোনার সাজে সুনা বেশ, রসগোল্লা নিবেদনের নীলাদ্রি বিজয় দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি। অর্থাৎ স্নানযাত্রা থেকে ধরলে প্রায় চল্লিশ দিনের এক মহাপরিক্রমা!
রথযাত্রার সবচেয়ে বড় বিস্ময় ওই তিনটি রথ। প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে নির্দিষ্ট প্রজাতির নিম, ফাসি ও ধউরা কাঠে সম্পূর্ণ নতুন করে রথ তিনটি তৈরি হয় — কোনো নকশা আঁকা ছাড়াই, বংশপরম্পরায় পাওয়া স্মৃতি-নির্ভর কারিগরিতে। শতাধিক ছুতোর, কামার, দর্জি ও শিল্পী মিলে প্রায় দু'মাস ধরে গড়ে তোলেন এই চলমান মন্দির।
রথ টানার আগে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রার অন্যতম হৃদয়স্পর্শী আচার — ছেরা পহরা। পুরীর গজপতি মহারাজ, যিনি জগন্নাথের 'প্রথম সেবক' বলে পরিচিত, সোনার হাতলওয়ালা ঝাড়ু দিয়ে নিজ হাতে তিনটি রথের বেদি পরিষ্কার করেন ও চন্দনজল ছিটিয়ে দেন। রাজা হয়েও ভগবানের সামনে ঝাড়ুদার — এই আচার শেখায়, জগন্নাথের দরবারে রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র সবাই সমান। এরপরই লক্ষ ভক্তের 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনিতে গড়াতে শুরু করে রথের চাকা। বিশ্বাস, রথের রশি একবার ছুঁতে পারলেই জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য হয়।
পুরীর পরেই ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা কিন্তু এই বাংলায় — হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের মাহেশে। ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া এই উৎসব ছয়শো বছরেরও বেশি সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে চলছে। কথিত আছে, বাঙালি সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে জগন্নাথের ভোগ রাঁধার অনুমতি না পেয়ে ভগ্নহৃদয়ে ফিরছিলেন; স্বপ্নাদেশে জগন্নাথ তাঁকে বলেন মাহেশে ফিরে গিয়ে সেবা প্রতিষ্ঠা করতে। সেই থেকেই মাহেশ হয়ে উঠল বাংলার 'নব নীলাচল' — প্রচলিত বিশ্বাসে এই নামটি দিয়েছিলেন স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
মাহেশের বর্তমান রথটিও এক বিস্ময় — প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো, ১৮৮৫ সালে তৈরি সুবিশাল লোহার রথ। ন'টি চূড়া, বারোটি লোহার চাকা, প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা — বাংলার রথ-স্থাপত্যের এ এক অনন্য নিদর্শন। সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে মাহেশের আলাদা টান আছে; বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'রাধারাণী' উপন্যাসের শুরুই মাহেশের রথের মেলায় — ছোট্ট রাধারাণী মেলায় হারিয়ে গিয়েছিল এই ভিড়েই। শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদার পদধূলিধন্য এই মাহেশ আজও রথের দিনে লক্ষ মানুষের মিলনমেলা।
"রথের রশিতে টান পড়লে বাঙালির মনে পড়ে — মাসির বাড়ি যাচ্ছেন জগন্নাথ, সঙ্গে যাচ্ছে গোটা বাংলার মেলা, পাঁপড়ভাজা আর জিলিপির গন্ধ।"
মাহেশে যাওয়াও খুব সহজ — হাওড়া থেকে মেন লাইনের ট্রেনে শ্রীরামপুর স্টেশন, সেখান থেকে রিকশা বা টোটোয় মিনিট দশেকেই জগন্নাথ মন্দির। রথের দিন জি.টি. রোড জুড়ে বসে বিশাল মেলা, চলে প্রায় এক মাস। ভিড় এড়াতে চাইলে সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়াই ভালো, কারণ বিকেলে রথ টানার সময় তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
মাহেশ ছাড়াও বাংলার রথ-মানচিত্র সমৃদ্ধ। হুগলির গুপ্তিপাড়ার রথ বিখ্যাত তার 'ভাণ্ডারা লুট'-এর জন্য — উল্টোরথের আগের দিন মালসায় সাজানো ভোগ লুট করার শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা দেখতে আজও হাজারো মানুষ ভিড় করেন। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ির রথ, হুগলির রাজবলহাট, কলকাতার জোড়াসাঁকো অঞ্চলের প্রাচীন রথ — প্রতিটির নিজস্ব ইতিহাস, নিজস্ব মেলা, নিজস্ব গল্প।
রথযাত্রা আজ আর শুধু পুরী বা বাংলার উৎসব নয়। ১৯৬৭ সালে শ্রীল প্রভুপাদের উদ্যোগে সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট পার্কে অনুষ্ঠিত হয় পাশ্চাত্যের প্রথম রথযাত্রা। তারপর থেকে ইসকনের হাত ধরে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, সিডনি, মস্কো, নাইরোবি — শতাধিক শহরের রাজপথে গড়িয়েছে জগন্নাথের রথের চাকা। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার বা নিউ ইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউতে 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনি আজ আর বিরল দৃশ্য নয়।
কলকাতার ইসকন রথযাত্রা এখন শহরের অন্যতম বৃহৎ উৎসব — অ্যালবার্ট রোড থেকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড পর্যন্ত লক্ষ মানুষের ঢল নামে, আর ব্রিগেডের মাঠে বসে সাত দিনের জমজমাট মেলা।
ওপার বাংলাতেও এই উৎসবের শিকড় সমান গভীর। ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের রথযাত্রা কয়েকশো বছরের ঐতিহ্য বহন করছে — যশোমাধবের এই রথ ছিল একসময় উপমহাদেশের বৃহত্তম কাঠের রথগুলির একটি। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক রথটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; পরে নতুন রথ তৈরি হয়ে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে ধামরাইয়ের রথের মেলা। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট — বাংলাদেশ জুড়েই আষাঢ়ের এই দিনে রথের রশিতে পড়ে টান।
বাংলার লোকজীবনে রথযাত্রার একটি মধুর তাৎপর্য আছে, যা অনেকেরই অজানা — রথের দিনেই সূচনা হয় দুর্গাপূজার কাঠামো পূজার। কুমোরটুলি থেকে পাড়ার মণ্ডপ, এই শুভ দিনে দেবী দুর্গার কাঠামোয় প্রথম মাটি পড়ে বা কাঠামো পূজা হয়। অর্থাৎ রথের রশিতে টান পড়া মানেই শারদীয়া দুর্গোৎসবের কাউন্টডাউন শুরু! অনেক বনেদি বাড়িতে আজও রথের দিন প্রতিমার কাঠামোয় প্রথম প্রণাম সেরে আসা হয়।
রথের মেলাও বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পাঁপড়ভাজা আর জিলিপি ছাড়া রথের মেলা ভাবাই যায় না — এ যেন অলিখিত নিয়ম। মেলায় বিক্রি হয় গাছের চারা; বর্ষার শুরুতে রথের মেলা থেকে ফলের চারা কিনে বাগানে লাগানোর প্রথা বহু পুরনো। ছোটদের হাতে হাতে ঘোরে ছোট্ট কাঠের বা টিনের রথ, যাতে ঠাকুর বসিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চলে খুদেদের নিজস্ব রথযাত্রা।
এই দিনটিকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয় বলে অনেকে নতুন ব্যবসা, দোকান উদ্বোধন বা গৃহপ্রবেশের মতো শুভ কাজ রথযাত্রার দিনেই সারেন। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দিন বাছতে দেখে নিতে পারেন শুভ মুহূর্তের পাতা, আর প্রতিদিনের তিথি-নক্ষত্র জানতে আজকের পঞ্জিকা।
রথযাত্রার আট দিন পরে, শুক্লা দশমী তিথিতে জগন্নাথদেব গুন্ডিচা মন্দির থেকে নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন — এই প্রত্যাবর্তন যাত্রাই উল্টোরথ, পুরীর ভাষায় বাহুড়া যাত্রা। ২০২৬ সালে উল্টোরথ ২৪ জুলাই, শুক্রবার। ফেরার পথে রথ থামে মৌসিমা মন্দিরের সামনে, যেখানে জগন্নাথকে নিবেদন করা হয় তাঁর প্রিয় পোড়া পিঠা। মাঝের দিনগুলিতে গুন্ডিচা মন্দিরে জগন্নাথ দর্শনের আলাদা মাহাত্ম্য আছে — এই দর্শনের নাম 'আড়প দর্শন'। উল্টোরথের পর সোনার অলংকারে সজ্জিত তিন বিগ্রহের 'সুনা বেশ' দেখতেও লক্ষ ভক্ত অপেক্ষা করেন।
২০২৬ সালে রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার (৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্লা দ্বিতীয়া) পালিত হবে। দিনটির সম্পূর্ণ তিথি-নক্ষত্র দেখুন এই দিনের পঞ্জিকায়।
উল্টোরথ বা বাহুড়া যাত্রা ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই, শুক্রবার — রথযাত্রার আট দিন পরে, শুক্লা দশমী তিথিতে।
জগন্নাথদেবের রথ নন্দীঘোষ (১৬ চাকা), বলভদ্রের রথ তালধ্বজ (১৪ চাকা) এবং দেবী সুভদ্রার রথ দর্পদলন (১২ চাকা)। প্রতি বছর নতুন কাঠে তিনটি রথই নতুন করে তৈরি হয়।
মাহেশের রথযাত্রা হয় পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে। ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া এই উৎসব পুরীর পরে ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা — বয়স ছয়শো বছরেরও বেশি।
রথের রশি টানা বা স্পর্শ করা অত্যন্ত পুণ্যের বলে মানা হয়। এই দিনে দুর্গাপূজার কাঠামো পূজার সূচনা হয়; অনেকে নতুন ব্যবসা বা শুভ কাজও শুরু করেন। দিন ও সময় বাছতে দেখুন শুভ মুহূর্ত।
রথযাত্রার প্রতি বছরের তারিখ, ইতিহাস ও রীতিনীতি পাবেন আমাদের রথযাত্রা উৎসবের পাতায়। আর আষাঢ় মাসের সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডারে দেখুন এ মাসের সব তিথি, নক্ষত্র ও উৎসব।
প্রচ্ছদ ছবি: Krupasindhu Muduli, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 3.0