← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

স্বামী বিবেকানন্দ — নরেন্দ্রনাথ থেকে শিকাগোর বিশ্বজয়ী সন্ন্যাসী, সম্পূর্ণ জীবনকথা

🌟 ব্যক্তিত্ব  ·  ২১ জুন ২০২৬, রবিবার

'আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতাগণ' — পাঁচটি শব্দে বিশ্বজয়! দক্ষিণেশ্বরের নরেন থেকে শিকাগোর বিবেকানন্দ, কন্যাকুমারীর শিলা থেকে বেলুড় মঠ — যুবসমাজের চির-প্রেরণার সম্পূর্ণ জীবনকথা ও অজানা তথ্য।

১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটের মঞ্চ। গেরুয়া পরা এক অচেনা ভারতীয় সন্ন্যাসী উঠে দাঁড়িয়ে বললেন মাত্র পাঁচটি শব্দ — "Sisters and Brothers of America" — আর সাত হাজার শ্রোতা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন মিনিট দুয়েক ধরে! ধর্মমহাসভার সেই মুহূর্তে পৃথিবী প্রথম চিনল ভারতের আত্মাকে — আর ভারত পেল তার নতুন যুগের সিংহনাদ: স্বামী বিবেকানন্দ

প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিন পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস হিসেবে — ২০২৭-এ দিনটি মঙ্গলবার, ২৭ পৌষ ১৪৩৩। মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের জীবনে যিনি বদলে দিলেন ভারতের আত্মপরিচয় — নেতাজি থেকে গান্ধীজি, সবার প্রেরণা সেই মানুষটির সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।

এক নজরে স্বামী বিবেকানন্দ

সিমুলিয়ার নরেন — প্রশ্ন যাঁর স্বভাব

১৮৬৩-র ১২ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে উত্তর কলকাতার দত্তবাড়িতে জন্ম নরেন্দ্রনাথের। বাবা বিশ্বনাথ দত্ত হাইকোর্টের নামী অ্যাটর্নি, যুক্তিবাদী ও উদার; মা ভুবনেশ্বরী দেবী তেজস্বিনী ও ভক্তিমতী — নরেনের চরিত্রে দুয়ের ছাপই আজীবন। ছেলেবেলার নরেন একাধারে দুরন্ত ও ধ্যানপ্রবণ — গল্প আছে, ধ্যানে বসলে সাপ এসে পড়লেও টের পেতেন না! স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার সময় ডুবে গেলেন পাশ্চাত্য দর্শনে — হিউম, কান্ট, মিল, স্পেনসার; অধ্যাপক হেস্টি বলেছিলেন, এমন মেধা তিনি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখেননি। কিন্তু দর্শনের বই যে প্রশ্নের উত্তর দেয় না — ঈশ্বর কি সত্যিই আছেন? — সেই প্রশ্ন নিয়ে তরুণ নরেন ঘুরলেন সাধু-পণ্ডিতদের দরজায়। উত্তর মিলল না, মিলল শুধু তত্ত্বকথা।

দক্ষিণেশ্বর — "হ্যাঁ, দেখেছি"

১৮৮১-তে সেই যুগান্তকারী সাক্ষাৎ — দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে মা ভবতারিণীর পূজারি রামকৃষ্ণ পরমহংসের সামনে দাঁড়িয়ে নরেন ছুড়লেন তাঁর চিরকালের প্রশ্ন — "আপনি কি ঈশ্বর দেখেছেন?" উত্তর এল সহজ, নিশ্চিত — "হ্যাঁ, দেখেছি; তোকে যেমন দেখছি তার চেয়েও স্পষ্ট। তুই চাইলে তোকেও দেখাতে পারি।" তর্কে অপরাজেয় যুবক এই প্রথম থমকালেন — বইয়ের বদলে সামনে জীবন্ত উপলব্ধি! তবু সহজে মানেননি; বছরের পর বছর গুরুকে পরীক্ষা করেছেন, তর্ক করেছেন — আর ঠাকুর হেসে সয়েছেন সব। ক্রমে ব্রাহ্ম-যুক্তিবাদী নরেন হয়ে উঠলেন রামকৃষ্ণের মানসপুত্র। ১৮৮৬-তে ঠাকুরের মহাপ্রয়াণের পর গুরুভাইদের নিয়ে বরানগরের ভাঙা বাড়িতে গড়লেন প্রথম মঠ — ভিক্ষার অন্নে দিন, ধ্যান-শাস্ত্রচর্চায় রাত।

পরিব্রাজক — ভারত-আবিষ্কার

১৮৯০ থেকে প্রায় তিন বছর সন্ন্যাসী নরেন পায়ে হেঁটে ভারত পরিক্রমা করলেন — হিমালয় থেকে রামেশ্বরম; রাজার অতিথিশালা থেকে দলিতের কুঁড়ে। এই পথেই তিনি আবিষ্কার করলেন আসল ভারতকে — অতুল আধ্যাত্মিক ঐশ্বর্যের পাশে মর্মান্তিক দারিদ্র্য আর কুসংস্কার। ১৮৯২-এর ডিসেম্বরে ভারতের শেষ বিন্দুতে, কন্যাকুমারীর সাগর-মাঝের শিলায় সাঁতরে গিয়ে তিন দিন-রাত্রি ধ্যান — সিদ্ধান্ত নিলেন: সন্ন্যাসীর মুক্তি নয়, লক্ষ্য হবে জনসেবা; আগে অন্ন-শিক্ষা, পরে ধর্মকথা। সেই শিলাই আজ বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল। শিষ্যদের তিনি পরে বলবেন সেই অমোঘ মন্ত্র — "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"

শিকাগো ১৮৯৩ — পাঁচ শব্দের বিশ্বজয়

মাদ্রাজের শিষ্যদের চাঁদায় আর খেতড়ির মহারাজার সহায়তায় ১৮৯৩-এর মে মাসে আমেরিকার জাহাজ ধরলেন স্বামীজি। পথ সহজ ছিল না — সম্মেলনের তারিখ ভুল জানা, প্রতিনিধিত্বের কাগজ নেই, শিকাগোর হিম রাতে স্টেশনের বাক্সে শুয়ে থাকা, দরজায় দরজায় প্রত্যাখ্যান — হার্ভার্ডের অধ্যাপক জে এইচ রাইটের সুপারিশে শেষমেশ মিলল প্রবেশপত্র; তিনি লিখেছিলেন, এই মানুষটির কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া সূর্যের কাছে আলোর অধিকার চাওয়ার শামিল!

১১ সেপ্টেম্বর ধর্মমহাসভায় সেই ঐতিহাসিক সম্ভাষণ — আর বাকিটা ইতিহাস। পত্রিকাগুলি লিখল, মহাসভার শ্রেষ্ঠ বক্তা এই ভারতীয় সন্ন্যাসী; নিউ ইয়র্ক হেরাল্ডের মন্তব্য বিখ্যাত — এঁকে শোনার পর মনে হয়, এমন জ্ঞানী জাতির দেশে ধর্মপ্রচারক পাঠানো কী মূর্খামি! পরের চার বছর আমেরিকা-ইউরোপে বক্তৃতা, 'রাজযোগ'-সহ গ্রন্থরচনা, মার্গারেট নোবলের মতো শিষ্য — যিনি পরে ভগিনী নিবেদিতা নামে বাংলার মেয়েশিক্ষায় জীবন দেবেন। বেদান্তের বাণী প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা পেল — কোনো তলোয়ার ছাড়াই।

ফেরা, মিশন, মঠ — আর ঊনচল্লিশে বিদায়

১৮৯৭-এ দেশে ফিরলেন বীরের সংবর্ধনায় — কলম্বো থেকে আলমোড়া, স্টেশনে স্টেশনে জনসমুদ্র। সে বছরই ১ মে গড়লেন রামকৃষ্ণ মিশন — যার মূলমন্ত্র 'আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ' (নিজের মুক্তি ও জগতের কল্যাণ); দুর্ভিক্ষ-মহামারিতে সেবা দিয়েই মিশনের পথচলা শুরু। ১৮৯৮-৯৯-এ গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে প্রতিষ্ঠা বেলুড় মঠ — যার স্থাপত্যেই মন্দির-মসজিদ-গির্জার মোটিফ মিলেমিশে; স্বামীজির সর্বধর্মসমন্বয়ের পাথরে-লেখা ঘোষণা।

শরীর কিন্তু ভাঙছিল — হাঁপানি, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা। তবু কাজ থামেনি। ১৯০২-এর ৪ জুলাই সন্ধ্যায় ধ্যানে বসলেন, আর সেই ধ্যানেই মহাসমাধি — মাত্র ঊনচল্লিশ বছর বয়সে। ভবিষ্যদ্বাণীই যেন ফলে গেল — বলতেন, চল্লিশ ছোঁব না। অথচ ওই ক'বছরে যা দিয়ে গেলেন, ভারত আজও তার সুদ ভাঙিয়ে চলেছে — নেতাজি সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, বিবেকানন্দ বেঁচে থাকলে তিনি তাঁর পায়ের কাছে বসে থাকতেন; নেতাজির জীবনে সেই প্রেরণার কথা পড়ুন এখানে

বিবেকানন্দ-জীবনপঞ্জি — এক নজরে

স্বামীজির বাণী — যে কথাগুলি আজও জাগায়

বিবেকানন্দের শক্তির বড় উৎস তাঁর ভাষা — বজ্রের মতো সরাসরি, আগুনের মতো সংক্রামক। কয়েকটি চিরন্তন বাণী —

এই বাণীগুলির প্রভাব-তালিকাও বিস্ময়কর — মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, বিবেকানন্দ পড়ে তাঁর দেশপ্রেম হাজারগুণ বেড়েছে; নেতাজি সুভাষচন্দ্রের কাছে তিনি 'আধুনিক ভারতের স্রষ্টা'; রবীন্দ্রনাথ রোমাঁ রোলাঁকে বলেছিলেন — ভারতকে জানতে হলে বিবেকানন্দ পড়ুন; আর জামশেদজি টাটা থেকে অগ্নিযুগের বিপ্লবী — সবার পাথেয় ছিল সেই এক পকেট-সংস্করণ 'বাণী ও রচনা'।

রামকৃষ্ণ মিশন আজ — সেবার শতাব্দী-পার

স্বামীজির হাতে-গড়া প্রতিষ্ঠান আজ তাঁর দর্শনের জীবন্ত প্রমাণ। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শাখা আজ বিশ্বজুড়ে দুইশোরও বেশি — ভারত ছাড়াও আমেরিকা, ইউরোপ, বাংলাদেশ, ফিজি থেকে আফ্রিকা। কর্মকাণ্ডের বিস্তার বিস্ময়কর — স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী (নরেন্দ্রপুর, বেলুড় বিদ্যামন্দিরের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলার শিক্ষা-মানচিত্রের গর্ব), হাসপাতাল-দাতব্য চিকিৎসালয়ে বছরে কোটি রোগীসেবা, আর প্রতিটি দুর্যোগে — বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, অতিমারি — গেরুয়া স্বেচ্ছাসেবকের সারি; ১৮৯৭-এর দুর্ভিক্ষ-সেবা থেকে আম্ফান-কোভিড — সেবার সেই ধারা অবিচ্ছিন্ন। প্রকাশনা-বিভাগ (উদ্বোধন কার্যালয় — স্বামীজিরই প্রতিষ্ঠিত বাংলা পত্রিকা 'উদ্বোধন' আজও চলে!) বেদান্ত-সাহিত্যের বৃহত্তম প্রকাশকদের একটি। বেলুড় মঠে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী; দুর্গাপূজা ও কুমারী পূজার দিনে লক্ষ ছাড়ায়। আর ১২ জানুয়ারির জাতীয় যুব দিবসে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা-আলোচনাসভা-ক্রীড়া — ঊনচল্লিশ বছরের এক সন্ন্যাসীর জন্মদিন দেড়শো বছর পরেও একটি জাতির 'যৌবনের উৎসব' — ইতিহাসে এমন নজির দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

অজানা তথ্য — স্বামীজি সম্পর্কে যা কম জানা

বিবেকানন্দ-তীর্থ — কোথায় ছোঁয়া যায় স্বামীজিকে

স্বামীজি-অনুরাগীর ভ্রমণ-তালিকাটি সাজিয়ে দেওয়া যাক। কলকাতায় প্রথম গন্তব্য ৩ গৌরমোহন মুখার্জি স্ট্রিটের জন্মভিটে — রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে অপূর্ব সংস্কারে আজ পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংগ্রহশালা; স্বামীজির ব্যবহৃত সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, আর সেই ঐতিহাসিক ঘরগুলি। এরপর দক্ষিণেশ্বর — যেখানে নরেন প্রথম প্রশ্ন করেছিলেন 'ঈশ্বর দেখেছেন?'; গঙ্গার ওপারে বেলুড় মঠ — স্বামীজির সমাধি-মন্দির, তাঁর ব্যবহৃত ঘর (যেখানে আজও সন্ধ্যায় শয্যা পাতা হয়), আর সেই সর্বধর্ম-স্থাপত্যের মূল মন্দির; ফেরিতে দক্ষিণেশ্বর-বেলুড় পারাপারের অভিজ্ঞতাটিই এক তীর্থ। উত্তর কলকাতার সিমলা পাড়ায় শ্যামপুকুর বাটী, কাশীপুর উদ্যানবাটী — রামকৃষ্ণ-পর্বের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী; আর গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার গবেষক-পাঠকের ঠিকানা। বাংলার বাইরে — কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল (একনাথ রানাডের অসাধারণ গণ-উদ্যোগে নির্মিত, ১৯৭০) ভারত-দর্শনের অবশ্য-গন্তব্য; হিমালয়ের মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম (স্বামীজিরই পরিকল্পিত নির্জন সাধনপীঠ, 'প্রবুদ্ধ ভারত' পত্রিকার ঠিকানা), রাজস্থানের খেতড়ি, চিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটের সেই ঐতিহাসিক হল (স্মারক ফলকসহ) আর মিশিগান-হাডসন তীরের বেদান্ত সোসাইটিগুলি — বিশ্বজোড়া পদচিহ্ন। প্রতিটি ঠিকানার শিক্ষা এক — 'ওঠো, জাগো' নিছক দেয়াল-লিখন নয়; পাথরে, নদীতে, স্থাপত্যে জমাট এক জীবনদর্শন। ভ্রমণের দিনক্ষণ বাছতে পঞ্জিকা আর শুভ মুহূর্ত পাশে রইলই — স্বামীজি অবশ্য বলতেন, শুভ কাজের সেরা মুহূর্ত 'এখনই'!

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম কবে?

১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতার সিমুলিয়ায়। পূর্বাশ্রমের নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। দিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়; ২০২৭-এ ১২ জানুয়ারি পড়েছে মঙ্গলবার।

শিকাগো বক্তৃতা কবে হয়েছিল?

১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায়। 'Sisters and Brothers of America' সম্ভাষণে শুরু সেই বক্তৃতা তাঁকে ও ভারতের বেদান্ত-দর্শনকে বিশ্বখ্যাতি এনে দেয়।

রামকৃষ্ণ মিশন কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৮৯৭ সালের ১ মে, স্বামী বিবেকানন্দের হাতে। সেবা ও আধ্যাত্মিকতার যুগল আদর্শে প্রতিষ্ঠিত মিশনের সদর দপ্তর বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৮-৯৯ সালে।

স্বামী বিবেকানন্দ কত বছর বেঁচে ছিলেন?

মাত্র ৩৯ বছর — ১৯০২ সালের ৪ জুলাই বেলুড় মঠে ধ্যানরত অবস্থায় তাঁর মহাসমাধি হয়।

জাতীয় যুব দিবস কবে পালিত হয়?

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ১২ জানুয়ারি — ১৯৮৫ সাল থেকে ভারতে দিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।


পড়ুন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকালী পূজা ও দক্ষিণেশ্বরের কাহিনি। প্রতিদিনের তিথি-নক্ষত্র আজকের পঞ্জিকায়

প্রচ্ছদ ছবি: Thomas Harrison, উইকিমিডিয়া কমন্স — পাবলিক ডোমেন

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার