🎉 উৎসব · ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার
৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার কালী পূজা ও দীপাবলি। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ থেকে দক্ষিণেশ্বর, ভূত চতুর্দশীর চোদ্দো শাক-চোদ্দো প্রদীপ থেকে বারাসতের আলো — শ্যামা মায়ের আরাধনার সম্পূর্ণ ইতিহাস ও অজানা তথ্য।
কার্তিকের ঘোর অমাবস্যা — বছরের গভীরতম অন্ধকারের রাত। আর সেই অন্ধকারেই বাঙালি জ্বালায় লক্ষ প্রদীপ, পোড়ায় বাজি, আর ডাকে মাকে — "আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল…"। এ বছর কালী পূজা ও দীপাবলি ৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার (২৩ কার্তিক ১৪৩৩) — দীপান্বিতা অমাবস্যায় শ্যামা মায়ের আরাধনা।
যে দেবী শ্মশানে নৃত্য করেন, গলায় মুণ্ডমালা, হাতে খড়্গ — তাঁকেই বাঙালি ডাকে 'মা' বলে, ভালোবেসে নাম দেয় 'শ্যামা'। ভয়ংকরকে মাতৃরূপে বরণের এই সাধনা পৃথিবীর ধর্ম-ইতিহাসে বাঙালির একান্ত নিজস্ব অধ্যায়। কীভাবে গড়ে উঠল এই ঐতিহ্য? ভূত চতুর্দশীর চোদ্দো শাকের রহস্যই বা কী? সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।
কালীর উল্লেখ প্রাচীন — মার্কণ্ডেয় পুরাণের চণ্ডীতে দেবী দুর্গার ভ্রুকুটি-কুটিল ললাট থেকে আবির্ভূতা কালরাত্রি চণ্ড-মুণ্ড বধ করেন, রক্তবীজের রক্ত পান করেন জিভ মেলে। কিন্তু ঘরে ঘরে কালী পূজার প্রচলন তুলনায় নবীন। ইতিহাস কৃতিত্ব দেয় নবদ্বীপের মহাতান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে (আনুমানিক ষোড়শ-সপ্তদশ শতক) — কথিত আছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি ভোরে বেরিয়ে প্রথম যে নারীকে দেখেন — এক হাত তুলে ঘুঁটে দিচ্ছেন দেওয়ালে, আলুথালু কেশ, লজ্জায় জিভ কাটা — সেই ভঙ্গিমাতেই গড়লেন দক্ষিণাকালীর মূর্তি। ঘরের মেয়ের আদলে দেবীগড়া — বাংলার ভক্তিসাধনার এই মানবিক মোড় ইতিহাসে বিরল।
অষ্টাদশ শতকে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কালী পূজা রাজ-উৎসবের মর্যাদা পেল — কথিত আছে, তাঁর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে হাজারো পূজার আয়োজন হতো। আর সাধক রামপ্রসাদ সেনের শ্যামাসংগীত কালীকে নামিয়ে আনল বাঙালির উঠোনে — "মন রে কৃষিকাজ জানো না" থেকে "ডুব দে রে মন কালী বলে" — দার্শনিক গভীরতা আর সন্তানের অভিমান মিলেমিশে জন্ম নিল এক আস্ত সংগীতধারা, যা আজও বাংলার রক্তে বাজে।
কালীঘাট — একান্ন সতীপীঠের অন্যতম; পুরাণমতে এখানে পড়েছিল সতীর ডান পায়ের আঙুল। কলকাতা শহরের নামের উৎস-বিতর্কেও 'কালীক্ষেত্র' এক প্রবল দাবিদার। দক্ষিণেশ্বর — ১৮৫৫ সালে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত ভবতারিণী মন্দির, যেখানে পূজারি হয়ে এলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায় — কালের বিচারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস; মা-কে তিনি এত জীবন্ত করে তুললেন যে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ আজও ছুটে আসে সেই গর্ভগৃহের টানে। আর বীরভূমের তারাপীঠ — সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধপীঠ; শ্মশানসাধনার সেই উন্মত্ত প্রেমের কাহিনি বাংলার লোকস্মৃতিতে অমর।
কালী পূজার রাতের আরেক বিস্ময় বারাসত-মধ্যমগ্রাম-নৈহাটি অঞ্চল — দুর্গাপূজায় কলকাতা যা, কালী পূজায় বারাসত তাই। বিশাল প্যান্ডেল, আলোর প্রতিযোগিতা, লক্ষ দর্শনার্থী; নৈহাটির 'বড়মা'-র বিসর্জন দেখতে জনসমুদ্র নামে গঙ্গার ঘাটে।
কালী পূজার আগের সন্ধ্যা বাঙালির নিজস্ব 'হ্যালোইন' — ভূত চতুর্দশী। বিশ্বাস, এই তিথিতে চোদ্দো পুরুষের আত্মারা নেমে আসেন বংশধরদের দেখতে, আর সঙ্গে ঘোরে অশরীরী নানা শক্তি। তাই দুই রক্ষাকবচ — দুপুরে পাতে চোদ্দো শাক (পালং, লাল, সুষনি, কালকাসুন্দে, নিম, সরষে, নোটে, গিমে, পুঁই, হিঞ্চে-সহ চোদ্দো রকম), আর সন্ধ্যায় ঘরের চোদ্দো কোণে চোদ্দো প্রদীপ। আয়ুর্বেদের চোখে ঋতুবদলের এই সময়ে চোদ্দো রকম শাক আসলে রোগপ্রতিরোধের টনিক — লোকাচারের মোড়কে পূর্বপুরুষের বিজ্ঞানবুদ্ধি!
উত্তর ভারতে এই তিথিই নরক চতুর্দশী — শ্রীকৃষ্ণের হাতে নরকাসুর বধের স্মরণ। পরদিন দীপাবলিতে সেখানে লক্ষ্মী-গণেশের পূজা, ঘরে ঘরে রঙ্গোলি; প্রচলিত বিশ্বাসে চতুর্দশ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তনের আনন্দেই প্রথম দীপমালা জ্বলেছিল। এক অমাবস্যা — বাংলায় শক্তির আরাধনা, উত্তরে লক্ষ্মীবরণ; ভারতের বহুত্বের এর চেয়ে ভালো উদাহরণ কমই আছে।
কালীভক্তির শ্রেষ্ঠ নিবেদন সম্ভবত বাংলার শ্যামাসংগীত — ভক্তি-সাহিত্যের এমন ধারা, যেখানে ভক্ত দেবীর সঙ্গে ঝগড়া করে, অভিমান করে, আবদার করে! অষ্টাদশ শতকে রামপ্রসাদ সেনের হাতে এই ধারার স্বর্ণযুগ — 'মন রে কৃষিকাজ জানো না', 'আমায় দে মা তবিলদারি', 'ডুব দে রে মন কালী বলে' — দর্শনের গভীরতম তত্ত্ব ঘরোয়া চাষ-আবাদ, হিসেব-তবিলের রূপকে! কিংবদন্তি, বেড়া বাঁধতে বাঁধতে রামপ্রসাদ গান ধরতেন আর মেয়ের বেশে স্বয়ং মা এসে বেড়ার দড়ি ধরে দিতেন। রামপ্রসাদের পরে কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (বর্ধমানের রাজসভার সাধক-কবি), আর আধুনিক যুগে কাজী নজরুল ইসলাম — একজন মুসলমান কবির লেখা শ্যামাসংগীত আজ কালীমন্দিরের নিত্য আরাধনায় গীত — পৃথিবীর ধর্মসংগীতের ইতিহাসে এমন নজির বিরল। পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠ এই ধারাকে দিয়েছে ঘরে ঘরে পৌঁছনোর ডানা — কালী পূজার রাতে 'আমার সাধ না মিটিল' বাজে না, এমন বাঙালি পাড়া নেই। ধনতেরাস-আতশবাজির আধুনিক জৌলুসের নিচে শ্যামাসংগীতই কালী পূজার আসল আবেগ-স্তর।
কালীক্ষেত্র বাংলার মন্দির-মানচিত্রটি চেনা থাকলে কালী পূজার রাতের পরিক্রমা সহজ হয় —
প্রতিটি মন্দিরের নিজস্ব রীতি — কোথাও অমাবস্যার নিশিপূজা, কোথাও ভোগে শোল-বোয়াল মাছ, কোথাও নিরামিষ; বৈচিত্র্যের এই বিস্তারই শাক্ত বাংলার চরিত্র।
কালী পূজা-দীপাবলি বাংলার 'দ্বিতীয় বৃহত্তম' উৎসব-অর্থনীতি — মৃৎশিল্পীর প্রদীপ থেকে ইলেকট্রিক টুনি, বাজি-বাজার থেকে মিষ্টির দোকান; নুঙ্গি-চম্পাহাটির মতো বাজি-গ্রামের হাজারো পরিবারের বার্ষিক রুজি এই মরসুমেই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বড় বদল — আদালত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধিতে কেবল সবুজ বাজি (কম দূষণের QR-প্রত্যয়িত) নির্দিষ্ট সময়সীমায় ফাটানোর অনুমতি; শব্দবাজির সীমা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই দেশের কঠোরতম রাজ্যগুলির একটি। চিকিৎসকদের পরামর্শও মনে রাখার — বয়স্ক, শ্বাসরোগী ও পোষ্যদের জন্য দীপাবলির রাত কঠিন; প্রদীপ-মোমবাতির উষ্ণ আলো আর ফানুসের বদলে আকাশপ্রদীপের সাবেক প্রথা ফিরিয়ে আনা তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, দায়িত্বও। প্রসঙ্গত, কার্তিক মাসজুড়ে সন্ধ্যায় আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর প্রাচীন বাংলা রীতি আছে — বাঁশের ডগায় প্রদীপ তুলে পিতৃপুরুষ ও দেবতাদের পথ দেখানো; দীপান্বিতা সেই মাসব্যাপী আলোক-ব্রতেরই মহারাত্রি।
কালী পূজা আসলে এক বৃহত্তর উৎসব-সপ্তাহের মধ্যমণি — দিনপঞ্জিটা সাজিয়ে নিলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে। শুরু ধনতেরাস (ত্রয়োদশী) — ধন্বন্তরীর আবির্ভাব-তিথি; সোনা-রুপা-বাসন কেনার শুভদিন হিসেবে উত্তর ভারতের এই প্রথা গত দুই দশকে বাংলাতেও মহাসমারোহে আত্তীকৃত — গয়নার দোকানের লাইন এখন কালীপুজোর মরসুমের চেনা দৃশ্য; ২০২৬-এ ধনতেরাস পড়ছে ৬-৭ নভেম্বর নাগাদ। পরদিন ভূত চতুর্দশী — চোদ্দো শাক, চোদ্দো প্রদীপের সেই বাঙালি সন্ধ্যা (বিস্তারিত আগেই বলেছি); উত্তর ভারতে এদিনই 'ছোটি দিওয়ালি'। তারপর মহারাত্রি — অমাবস্যায় কালী পূজা ও দীপাবলি (৯ নভেম্বর)। অমাবস্যার পরদিন উত্তর-পশ্চিম ভারতে গোবর্ধন পূজা ও অন্নকূট — গিরি গোবর্ধন ধারণের স্মৃতিতে খাবারের পাহাড় সাজিয়ে কৃষ্ণ-আরাধনা; বাংলার মঠ-মন্দিরেও (বিশেষত বৈষ্ণব ঘরানায়) অন্নকূটের ছোঁয়া মেলে। আর পঞ্চমীর আগে দ্বিতীয়ায় বাঙালির নিজস্ব মধুরতম পর্ব — ভাইফোঁটা (ভ্রাতৃদ্বিতীয়া): "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা" — বোনের চন্দন-ফোঁটায় ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা, যমুনার যম-নিমন্ত্রণের পুরাণকথা, আর মিষ্টির প্লেটের সেই প্রতিযোগিতা; ২০২৬-এ ভাইফোঁটা ১১ নভেম্বর নাগাদ। লক্ষ করুন নকশাটা — ধন (ধনতেরাস), পূর্বপুরুষ (ভূত চতুর্দশী), শক্তি (কালী), অন্ন (অন্নকূট), সম্পর্ক (ভাইফোঁটা) — পাঁচ দিনে জীবনের পাঁচ স্তম্ভের উদ্যাপন; আলোর উৎসব আসলে এক সম্পূর্ণ জীবনদর্শনের প্যাকেজ! পুরো সপ্তাহের তিথি-খুঁটিনাটি দেখে নিন কার্তিক মাসের ক্যালেন্ডারে।
কালী পূজার আচার-জগৎ দুর্গাপূজার চেয়ে স্বতন্ত্র — এ পূজা অমাবস্যার গভীর রাতের, তন্ত্রমতের প্রাধান্যে। মূল পূজা শুরু হয় রাত এগারোটা-বারোটার অমৃতযোগ ধরে, চলে ভোররাত পর্যন্ত; পাঠ হয় কালিকা-স্তোত্র, আদ্যাস্তোত্র। ভোগের তালিকায় বাংলার শাক্ত-ঐতিহ্যের ছাপ — খিচুড়ি, পাঁচ ভাজা, লুচি-ছোলার ডালের পাশাপাশি বহু মন্দিরে মাছ-ভোগের প্রথা (দক্ষিণেশ্বরেও ভবতারিণীর ভোগে মাছ থাকে — শাক্তমতে দেবী গৃহিণী-রূপে যা খান, তা-ই নিবেদ্য); কোথাও কারণ-বারির (প্রতীকী) তান্ত্রিক আচার। বলিপ্রথা ঘিরে বিতর্ক দীর্ঘদিনের — বহু ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে ছাগবলির প্রথা টিকে থাকলেও ক্রমবর্ধমান সংখ্যক পূজায় তার জায়গা নিয়েছে প্রতীকী বলি: চালকুমড়ো, আখ, মাগুর মাছ; রামকৃষ্ণ-ভাবধারার প্রভাবে 'অন্তরের পশু বলি দাও' দর্শনই আধুনিক ভক্তমনে জয়ী। ঘরোয়া শ্যামাপূজার চলও বাড়ছে — ছোট প্রতিমা বা পটে, ভক্তি-নিষ্ঠায়; জেনে রাখা ভালো, গৃহস্থের পূজায় দক্ষিণাকালীর ধ্যানমন্ত্রই প্রচলিত এবং তন্ত্রের জটিল আচার পুরোহিতের এক্তিয়ার — বাড়ির পূজার প্রাণ পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ আর মায়ের নাম-কীর্তন। এই রাতেই অনেক বাড়িতে পূর্বপুরুষের উদ্দেশে উলটো প্রদীপ বা চোদ্দ প্রদীপের রেশ টেনে দীপদান চলে; অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর সারি — শাক্ত আর লৌকিক আচারের সহাবস্থান। আর সময়সূচির খুঁটিনাটি — অমাবস্যা তিথির শুরু-শেষ, অমৃতযোগ, নিশিপূজার লগ্ন — সব মিলবে ৯ নভেম্বরের পঞ্জিকা পাতায়; বাড়ির পূজার সংকল্পের আগে একবার চোখ বুলিয়ে নিতেই হবে!
২০২৬ সালে কালী পূজা ৯ নভেম্বর, সোমবার (২৩ কার্তিক ১৪৩৩) — কার্তিকী অমাবস্যা তিথিতে। একই দিনে সারা ভারতে দীপাবলি পালিত হবে।
কালী পূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী — ২০২৬-এ ৮ নভেম্বর, রবিবার। এই দিন চোদ্দো রকম শাক খাওয়া এবং সন্ধ্যায় ঘরের চোদ্দো জায়গায় চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা — চোদ্দো পুরুষের স্মরণে ও অশুভ শক্তি থেকে রক্ষার বিশ্বাসে।
প্রচলিত মতে নবদ্বীপের তান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ স্বপ্নাদেশ পেয়ে ঘরোয়া নারীর আদলে দক্ষিণাকালীর মূর্তি কল্পনা করেন এবং বাংলায় ঘটা করে কালী পূজার সূচনা করেন।
তিথি এক — কার্তিকী অমাবস্যা — কিন্তু আরাধনা আলাদা। বাংলা, অসম, ওড়িশায় এই রাতে শক্তিদেবী কালীর পূজা হয়; উত্তর ও পশ্চিম ভারতে হয় লক্ষ্মী-গণেশের পূজা ও রামচন্দ্রের অযোধ্যা-প্রত্যাবর্তনের আলোক-উৎসব।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলের কালী পূজা জাঁকজমকে দুর্গাপূজাকেও টেক্কা দেয় — বিশাল থিম-প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড়ে এটি 'কালী পূজার কলকাতা' নামে পরিচিত।
প্রতি বছরের তারিখ দেখুন কালী পূজার পাতায়। পড়ুন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ও জগদ্ধাত্রী পূজার কাহিনি। কার্তিক মাসের সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার এখানে।
প্রচ্ছদ ছবি: Subhrajyoti07, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 4.0