🎉 উৎসব · ২৮ জুন ২০২৬, রবিবার
২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। 'কে জাগরী' রাতের পৌরাণিক কাহিনি, আলপনা-পাঁচালি-নাড়ুর ঘরোয়া আচার, লক্ষ্মীর সরা আর পেঁচা-বাহনের রহস্য — বাঙালির ঘরের পুজোর সম্পূর্ণ গাইড।
বিজয়া দশমীর বিষাদ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে আবার উৎসবের প্রস্তুতি — উমা ফিরে গেছেন, কিন্তু ঘরের মেয়ে লক্ষ্মী আসছেন যে! দুর্গা পূজার ঠিক তিন দিন পরে, আশ্বিনের পূর্ণিমায় বাংলার প্রতিটি গৃহস্থ ঘরে পূজিতা হন ধনসম্পদ ও শ্রীর দেবী। এ বছর কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার (৭ কার্তিক ১৪৩৩)।
দুর্গাপূজা যদি হয় বারোয়ারি জাঁকজমকের উৎসব, লক্ষ্মী পূজা তবে একান্ত ঘরের — মায়ের হাতের আলপনা, ঠাকুমার মুখে পাঁচালি, নারকেল নাড়ুর গন্ধ। আর এই পুজোর নামের মধ্যেই লুকিয়ে এক আশ্চর্য প্রশ্ন — 'কে জাগে?' কেন সারারাত জেগে থাকার উৎসব এটি? সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।
সংস্কৃত 'কঃ জাগর্তি' — অর্থাৎ 'কে জেগে আছ?' — থেকেই কোজাগরী শব্দের জন্ম। পুরাণের বিশ্বাস, আশ্বিনের এই পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী স্বয়ং মর্ত্যে নেমে আসেন, আর দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রশ্ন করেন — কে জেগে আছ? যে গৃহস্থ জেগে থেকে দেবীকে বরণ করে, তার ঘরেই অধিষ্ঠান করেন চঞ্চলা লক্ষ্মী; আর যে ঘুমিয়ে থাকে, তার দুয়ার থেকে ফিরে যান দেবী। তাই কোজাগরী রাতের প্রধান ব্রত — জাগরণ। সেকালে জাগরণের রাতে পাশা বা কড়ি খেলার প্রথাও ছিল; কথিত আছে, এই রাতে জুয়ায় জিতলে সারা বছর লক্ষ্মীলাভ — যদিও শাস্ত্রকাররা বলেন, আসল 'জাগরণ' অর্থ সজাগ থাকা — কর্মে, ধর্মে, সংসারে।
দেবী লক্ষ্মীর স্বভাবটিও এই কাহিনির সঙ্গে মানানসই — তিনি চঞ্চলা, এক জায়গায় স্থির থাকেন না। অলস, অপরিচ্ছন্ন, কলহপূর্ণ গৃহ ছেড়ে তিনি চলে যান — তাই লক্ষ্মী পূজার প্রস্তুতিতে ঘরদোর পরিষ্কারের এত গুরুত্ব। অর্থনীতির আধুনিক ছাত্রও মানবেন — সম্পদ তার কাছেই থাকে, যে জেগে থাকে, যত্ন নেয়!
কোজাগরীর সন্ধ্যায় বাংলার গৃহস্থ বাড়ির দাওয়া-উঠোন সেজে ওঠে আলপনায় — চালবাটা গোলার সাদা নকশায় আঁকা হয় ধানের ছড়া, পদ্ম, আর সবচেয়ে জরুরি — মা লক্ষ্মীর চরণচিহ্ন, দরজার বাইরে থেকে ঘরের ভিতরমুখী। অর্থাৎ দেবী যেন পায়ে পায়ে ঘরে ঢোকেন, বেরিয়ে না যান! ঘটে বা সিংহাসনে দেবীমূর্তি কিংবা সরা বসিয়ে সাজানো হয় নৈবেদ্য — নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু, মুড়কি-মোয়া, চিঁড়ে-নারকেল, ফলমূল; বহু বাড়িতে ভোগে থাকে খিচুড়ি বা লুচি-সুজি।
পুজোর মধ্যমণি অবশ্য লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ — বাড়ির মেয়ে-বউরা শাঁখ বাজিয়ে, ধান-দূর্বা হাতে শোনেন সেই চিরচেনা ব্রতকথা। পাঁচালির ছত্রে ছত্রে সংসারধর্মের উপদেশ — অহংকার করলে লক্ষ্মী ছাড়েন, অন্নের অপমান করলে দারিদ্র্য আসে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুখে মুখে চলা এই পাঁচালি বাংলার নিজস্ব লোকসাহিত্যের এক জীবন্ত ধারা।
মূর্তি নয়, বহু বাঙাল (পূর্ববঙ্গীয়) পরিবারে লক্ষ্মী পূজিতা হন সরায় — মাটির সানকিতে আঁকা দেবীর পটচিত্রে। ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশালের ঘরানার এই 'লক্ষ্মীসরা'য় লাল-হলুদ-সবুজে আঁকা থাকে ধানের ছড়া হাতে দেবী, পেঁচা, কখনও দুর্গা পরিবারও। দেশভাগের পর এই শিল্প ওপার থেকে এপারে এসেছে উদ্বাস্তু শিল্পীদের হাত ধরে; আজও পুজোর আগে কুমোরপাড়ায় সরা আঁকার ধুম পড়ে। ঘটি বাড়িতে আবার মূর্তি বা আড়ি-লক্ষ্মীর (ধান-ভরা ঝুড়ি) চল — বাঙাল-ঘটির এই আচার-পার্থক্য বাংলার সংস্কৃতির মজার অধ্যায়।
আরেকটি অমোঘ নিয়ম — লক্ষ্মী পূজায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজে না। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায়, দেবী শান্তিপ্রিয়া; হট্টগোলে তিনি বিরক্ত হন। শুধু শাঁখের মঙ্গলধ্বনি আর উলুতেই তুষ্ট হন ঘরের লক্ষ্মী।
বাংলার কোজাগরী যে পূর্ণিমায়, সেই শরৎ পূর্ণিমা গোটা ভারতেই বিশেষ পবিত্র। উত্তর ভারতে বিশ্বাস, এই রাতে চাঁদ থেকে ঝরে অমৃতকণা — তাই ছাদে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয় ক্ষীর, ভোরে সেই 'চন্দ্রস্নাত' ক্ষীর প্রসাদ হয়। ব্রজভূমিতে এই রাত রাসপূর্ণিমার পূর্বাভাস — শ্রীকৃষ্ণের মহারাসের স্মরণ। ওড়িশায় কুমারী মেয়েদের 'কুমার পূর্ণিমা'। আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের চোখে, শরতের নির্মেঘ আকাশে এই পূর্ণিমার চাঁদই বছরের উজ্জ্বলতমগুলির একটি — 'শারদ চাঁদের' রূপের খ্যাতি তাই শুধু কবিতায় নয়, বিজ্ঞানেও!
কোজাগরীর সন্ধ্যার প্রাণ লক্ষ্মীর পাঁচালি — আর এই পাঁচালির আখ্যানগুলি আসলে বাংলার সমাজ-দর্পণ। সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনিটি অবন্তী নগরের ধনেশ্বর সওদাগরের — যার পুত্রবধূদের অহংকারে ও অনাচারে রুষ্ট লক্ষ্মী গৃহত্যাগ করেন; রাতারাতি সোনার সংসার ছারখার! শেষে ছোটবউয়ের ভক্তি আর লক্ষ্মীব্রত পালনে দেবীর প্রত্যাবর্তন, সংসারে শ্রী-ফেরা। আখ্যানের ছত্রে ছত্রে গৃহস্থ-জীবনের আচরণবিধি — অন্নের অপচয় নয়, দুপুরে গৃহকর্ম ফেলে ঘুম নয়, অতিথি ফেরানো নয়, কলহ নয়। আধুনিক চোখে কেউ এতে দেখেন পিতৃতান্ত্রিক অনুশাসন, কেউ দেখেন সম্পদ-ব্যবস্থাপনার লোকজ পাঠ — সঞ্চয়, শৃঙ্খলা, বিনয়। মজার তথ্য — ছাপা পাঁচালির যুগের আগে এই ব্রতকথা ছিল মৌখিক পরম্পরা; উনিশ শতকের বটতলা প্রেসের সস্তা সংস্করণে ছেপে পাঁচালি পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে — বাংলার মুদ্রণ-ইতিহাসের 'বেস্টসেলার' তালিকায় পাঁচালি সবসময় ওপরের দিকে! আজও কোজাগরীর রাতে তিন প্রজন্মের মেয়েরা এক আসনে বসে যখন পাঁচালি পড়েন, সেটি শুধু পূজা নয় — পারিবারিক গল্পপাঠের ঐতিহ্যও।
লক্ষ্মী পূজার উঠোনের আলপনা বাংলার লোকশিল্পের এক অনন্য ধারা — যে শিল্প আঁকা হয় জেনেই যে কাল তা মুছে যাবে! আতপচাল বাটা জলগোলা (পিটুলি), আঙুল বা কাপড়ের পলতে — এই সামান্য উপকরণে গৃহিণীর হাতে ফোটে পদ্ম, ধানের ছড়া, লতাপাতা, শঙ্খ, আর কোজাগরীর অবশ্য-অঙ্কনীয় লক্ষ্মীর পদচিহ্ন ও প্যাঁচা। আলপনার নকশার নিজস্ব ব্যাকরণ আছে — পূর্ণকলস মানে সমৃদ্ধি, পদ্ম মানে দেবীর আসন, ধানছড়া মানে অন্নপূর্ণ গোলা; অঞ্চলে অঞ্চলে মোটিফ বদলায় — রাঢ়ের জ্যামিতিক টান, পূর্ববঙ্গের বৃত্তীয় বিন্যাস। শান্তিনিকেতনের কলাভবন এই লোকশিল্পকে তুলে এনেছে আধুনিক শিল্পশিক্ষায় — নন্দলাল বসুর হাত ধরে আলপনা পেয়েছে অ্যাকাডেমিক মর্যাদা; কিরণমালা দেবী, সুকুমারী দেবীদের ঘরানা আজও সেখানে জীবন্ত। গবেষকরা আলপনার তুলনা টানেন রঙ্গোলি-কোলামের সঙ্গে, কিন্তু পার্থক্যটি দার্শনিক — আলপনা একরঙা, ক্ষণস্থায়ী, নিরাভরণ; শ্রী-র সাধনা এখানে জাঁকে নয়, নিষ্ঠায়।
কোজাগরীর ভোগ-তালিকা নিজেই এক সাংস্কৃতিক দলিল। নারকেল নাড়ু (গুড়ে ও চিনিতে দুই ঘরানা), তিলের নাড়ু, খইয়ের মুড়কি-মোয়া, চিঁড়ে-নারকেল — লক্ষ করুন, প্রতিটিই শুকনো, সংরক্ষণযোগ্য, হেমন্তের নতুন ফসলের উপাদানে তৈরি; কৃষি-ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ভোগের এমন মিলই লোকধর্মের বাস্তববুদ্ধি। সঙ্গে ফলমূল, আর বহু বাড়িতে সন্ধ্যায় ভোগের খিচুড়ি-লাবড়া বা লুচি-সুজি। পূর্ববঙ্গীয় বহু পরিবারে কোজাগরীতে জোড়া নারকেল আর চিঁড়ের ফলার বিশেষ প্রথা; কোথাও কোথাও পান-সুপারি-কড়ি সাজিয়ে 'লক্ষ্মীর ঝাঁপি'। এই ঝাঁপি বা ধানের চাঙারিই বাংলার নিজস্ব 'সেভিংস অ্যাকাউন্ট'-এর আদি প্রতীক — 'লক্ষ্মীর ভাঁড়' মাটির যে ছোট্ট ভাঁড়ে বাঙালি শিশু প্রথম সঞ্চয় শেখে, তার নামকরণও দেবীরই নামে। অর্থনীতিবিদ মজা করে বলতেই পারেন — বাঙালির ফিনান্সিয়াল লিটারেসির প্রথম পাঠশালা কোজাগরীর সন্ধ্যা!
লক্ষ্মী পূজার উপকরণগুলি খুঁটিয়ে দেখলে প্রতিটির ভিতরে মেলে অর্থনীতি আর নৃতত্ত্বের স্তর। প্যাঁচা — নিছক বাহন নয়; কৃষি-বাস্তুতন্ত্রে ইঁদুর-নিধনকারী এই পাখি ফসলের গোলার প্রকৃত রক্ষক — শস্যলক্ষ্মীর বাহন হিসেবে এর চেয়ে যোগ্য প্রার্থী কে! আধুনিক পক্ষীবিদরা মজা করে বলেন, লক্ষ্মীর প্যাঁচা আসলে বাংলার প্রথম 'ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট'-এর পোস্টার! লক্ষ্মীপ্যাঁচা (barn owl) আজ সংরক্ষিত প্রাণী — দেবীর বাহনকে কুসংস্কারে মারা আইনত দণ্ডনীয়, এ বার্তাও পূজার দিনে ছড়ানো জরুরি। ঝাঁপি বা লক্ষ্মীর চুবড়ি — বেত-বাঁশের ঢাকনাওয়ালা ঝুড়ি, ভিতরে ধান, কড়ি, হরীতকী, সিঁদুর-কৌটো; এ আসলে প্রাক্-ব্যাংক যুগের 'সেফ ডিপোজিট' — পরিবারের বীজধান ও মূল্যবান সঞ্চয়ের প্রতীকী ভাণ্ডার, বংশানুক্রমে মা-থেকে-মেয়েতে হস্তান্তরিত। কড়ি — ভাবা যায়, ভারত মহাসাগরের এই ঝিনুক-খোলস কয়েক শতাব্দী আগেও বাংলার বাজারে সত্যিকারের মুদ্রা ছিল! মলদ্বীপ থেকে জাহাজে আসা কড়িতে চলত কেনাবেচা-খাজনা; পূজার ঝাঁপিতে কড়ি তাই আক্ষরিক অর্থেই 'টাকা রাখা' — মুদ্রা-ইতিহাসের জীবন্ত জীবাশ্ম আজও প্রতি কোজাগরীতে পূজা পায়! ধানের ছড়া ও কলার পেটো-নৌকা — কোথাও কোথাও পূজায় রাখা হয় সপ্তডিঙার প্রতীক-নৌকা; স্মরণ করায় সওদাগরি যুগকে — চাঁদ সওদাগর, ধনপতির বাণিজ্যযাত্রার সেই বাংলা, যেখানে লক্ষ্মী ছিলেন বাণিজ্যলক্ষ্মীও। আর আলপনার পদচিহ্ন — দোরগোড়া থেকে ঘরমুখী; অর্থশাস্ত্রের ভাষায় 'ক্যাপিটাল ইনফ্লো'-র প্রাচীনতম ডায়াগ্রাম! প্রতীকগুলি জুড়লে যে ছবি ফোটে — লক্ষ্মী পূজা আসলে কৃষি, বাণিজ্য, সঞ্চয় আর পরিবেশ-জ্ঞানের এক সংহত লোকশিক্ষা; ঠাকুমার ঝাঁপিতে শুধু কড়ি নয়, গোটা একটা সভ্যতার সিলেবাস!
বাংলার লক্ষ্মী-আরাধনার ক্যালেন্ডারটি একনজরে দেখলে বোঝা যায়, দেবী আসলে বাঙালির সারা বছরের সঙ্গী। বছরের প্রধানতম কোজাগরী (আশ্বিন পূর্ণিমা) ছাড়াও — দীপান্বিতা লক্ষ্মী পূজা: কালী পূজার অমাবস্যায়, বিশেষত ব্যবসায়ী-গৃহে (উত্তর ভারতের দিওয়ালি-লক্ষ্মীর সমান্তরাল বাংলা রূপ); পৌষ ও ভাদ্র সংক্রান্তির লক্ষ্মী পূজা: ফসল-চক্রের সঙ্গে বাঁধা কৃষি-লক্ষ্মীর আরাধনা; চৈত্র মাসের বাসন্তী-লক্ষ্মী কোথাও কোথাও; আর প্রতি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীবার-ব্রত — সাদা ফুল, ধান-দূর্বা, পাঁচালি-পাঠের সাপ্তাহিক ঘরোয়া অনুষ্ঠান, যা বাংলার গৃহস্থ-সংস্কৃতির মেরুদণ্ড। এর সঙ্গে আছে আড়ি লক্ষ্মী, ধান্য লক্ষ্মী, ভাঁড়ার লক্ষ্মীর মতো লোকায়ত রূপভেদ — ধানের ঝুড়ি, গোলা বা ভাঁড়ারঘরে দেবীর অধিষ্ঠান কল্পনা; পূর্ববঙ্গের কোনো কোনো অঞ্চলে বৃহস্পতিবার 'লক্ষ্মীবারে' ঘর ঝাঁট না দেওয়ার প্রথাও (লক্ষ্মী বিদায় নেবেন!) এই বিশ্বাসেরই শাখা। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের চোখে মজার তথ্য — সর্বভারতীয় অষ্টলক্ষ্মী ধারণায় (আদি, ধান্য, ধৈর্য, গজ, সন্তান, বিজয়, বিদ্যা, ধন) বাংলার জোর ধান্যলক্ষ্মীতেই — কৃষিসভ্যতার স্বাক্ষর; আবার দাক্ষিণাত্যের ভেঙ্কটেশ্বর-মন্দিরের বৈভব-ঐশ্বর্যের বিপরীতে বাংলার লক্ষ্মী নিরাভরণ ঘরোয়া — সরায় আঁকা, ঝাঁপিতে রাখা, আলপনায় বরণ করা। দুই ঐতিহ্যই সত্য, তবে বাঙালির লক্ষ্মী-দর্শনের সারকথাটি বোধহয় পাঁচালিরই — লক্ষ্মী চঞ্চলা নন, চঞ্চল মানুষের মন; শ্রী আসলে অভ্যাসের নাম — পরিচ্ছন্নতা, মিতব্যয়, পরিশ্রম আর পরিবারে শান্তি। এই চারটি থাকলে দেবী থাকেন — পাঁচালির এই 'ফাইন প্রিন্ট'টুকুই আসল সম্পদ-পরামর্শ!
২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২৪ অক্টোবর, শনিবার (৭ কার্তিক ১৪৩৩) — আশ্বিনের পূর্ণিমা তিথিতে।
সংস্কৃত 'কঃ জাগর্তি' অর্থাৎ 'কে জেগে আছ?' থেকে কোজাগরী। বিশ্বাস, এই পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী দুয়ারে দুয়ারে এসে এই প্রশ্ন করেন এবং জাগ্রত গৃহস্থের ঘরেই অধিষ্ঠান করেন।
প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে দেবী লক্ষ্মী শান্তিপ্রিয়া — উচ্চ শব্দে তিনি গৃহত্যাগ করেন। তাই লক্ষ্মী পূজায় শুধু শাঁখ ও উলুধ্বনি দেওয়া হয়।
মাটির সরায় (সানকিতে) আঁকা দেবী লক্ষ্মীর পটচিত্র — ঢাকা-ফরিদপুর ঘরানার এই লোকশিল্পে বহু পূর্ববঙ্গীয় পরিবার মূর্তির বদলে সরাতেই লক্ষ্মী পূজা করেন।
বিজয়া দশমীর পরের পূর্ণিমাতেই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা — ২০২৬-এ দশমী ২১ অক্টোবর আর লক্ষ্মী পূজা ২৪ অক্টোবর, অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধান।
প্রতি বছরের তারিখ দেখুন লক্ষ্মী পূজার পাতায়। পড়ুন দুর্গা পূজা ২০২৬ গাইড ও কালী পূজা ২০২৬। কার্তিক মাসের ক্যালেন্ডার এখানে।
প্রচ্ছদ ছবি: Biswarup Ganguly, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY 3.0