💡 অজানা তথ্য · ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার
তিথি কেন হঠাৎ 'ক্ষয়' হয়ে যায়? রাহু কাল আসলে কীসের হিসাব? গুপ্তপ্রেস আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তের তারিখ আলাদা কেন? পঞ্চাঙ্গের পাঁচ অঙ্গ থেকে দেড়শো বছরের পঞ্জিকা-যুদ্ধ — বাংলা পঞ্জিকার মজার বিজ্ঞান ও অজানা ইতিহাস।
ঠাকুমার মাথার কাছে লাল মলাটের যে মোটা বইটি সারা বছর থাকত — বিয়ের তারিখ থেকে অন্নপ্রাশন, যাত্রা থেকে হালখাতা, সব প্রশ্নের উত্তর মিলত যার পাতায় — সেই পঞ্জিকা আসলে কী জানেন? নিছক ধর্মগ্রন্থ নয় — পঞ্জিকা হলো হাজার বছরের জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত আর লোকজীবনের এক আশ্চর্য সংকলন; বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভবত প্রাচীনতম 'বিজ্ঞান-বার্ষিকী'!
তিথি কেন কখনো রাত দুটোয় বদলায়? একই দিনে দুই পঞ্জিকায় দুই একাদশী কেন? রাহু কালের হিসাবই বা এল কোথা থেকে? আজকের পঞ্জিকা দেখার আগে চলুন ডুব দেওয়া যাক সেই গণনার জগতে — যেখানে চাঁদ-সূর্যের ডিগ্রি মেপে ঠিক হয় বাঙালির শুভ-অশুভ।
পঞ্জিকার শাস্ত্রীয় নাম পঞ্চাঙ্গ — পাঁচটি অঙ্গ যার: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ ও করণ। প্রতিটিই আকাশের মাপজোখ —
অর্থাৎ পঞ্জিকার প্রতিটি লাইন আসলে ত্রিকোণমিতির ফল! আমাদের সাইটের পঞ্জিকা পাতায় এই পাঁচ অঙ্গই প্রতিদিন হিসাব করা হয় প্রকৃত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনায়।
ইংরেজি তারিখ বদলায় ঘড়ি ধরে, মাঝরাতে; তিথি বদলায় চাঁদের গতিতে — আর চাঁদ বড় খামখেয়ালি যাত্রী! উপবৃত্তাকার কক্ষপথে চাঁদের গতি কখনো দ্রুত, কখনো ধীর — তাই এক তিথির আয়ু হতে পারে প্রায় ১৯ ঘণ্টা থেকে ২৬ ঘণ্টার বেশি — কখনো সূর্যোদয়ের পরে শুরু হয়ে পরের সূর্যোদয়ের আগেই শেষ! বাংলা পঞ্জিকার নিয়মে দিনের তিথি ধরা হয় সূর্যোদয়ের মুহূর্তের তিথি — ফলে যে তিথি কোনো সূর্যোদয়ই ছুঁতে পারল না, ক্যালেন্ডার থেকে সে বেমালুম 'হাওয়া' — এর নাম তিথিক্ষয়; আর যে তিথি দুটি সূর্যোদয় পেরিয়ে যায়, সে পায় দু'দিন — তিথিবৃদ্ধি। এ কারণেই কখনো দেখবেন পঞ্জিকায় দ্বিতীয়ার পর সরাসরি চতুর্থী, কিংবা পরপর দু'দিন একই একাদশী! আজকের বাংলা তারিখের পাতায় তিথির শুরু-শেষের সময় দেখলেই এই খেলা চোখে পড়বে।
আর এই সূর্যোদয়-নিয়মের সঙ্গেই জড়িয়ে বাংলা মাসের দিন-সংখ্যার রহস্য — সৌর মাসের সূচনাও (সংক্রান্তি) মাপা হয় সূর্যের রাশি-প্রবেশ থেকে; ফলে বাংলা মাস কখনো ২৯ দিনের, কখনো ৩২ দিনের! বঙ্গাব্দের সেই জন্মকথা বিস্তারিত পড়ুন বাংলা সনের ইতিহাসে।
দক্ষিণ ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে রাহু কাল আজ বাংলার পঞ্জিকা-সংস্কৃতিরও অঙ্গ। পুরাণমতে সমুদ্রমন্থনের অমৃত চুরি করে খাওয়া অসুরের কাটা মুণ্ডই রাহু — যে সূর্য-চাঁদকে গিলে গ্রহণ ঘটায়; জ্যোতিষে সে 'ছায়াগ্রহ'। হিসাবটি চমৎকার জ্যামিতিক: সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনমানকে আট ভাগ করা হয়; বারভেদে তার এক-একটি ভাগ রাহুর 'ডিউটি আওয়ার' — সোমবারে দ্বিতীয় ভাগ, শনিবারে তৃতীয়, শুক্রবারে চতুর্থ, বুধবারে পঞ্চম, বৃহস্পতিবারে ষষ্ঠ, মঙ্গলবারে সপ্তম, রবিবারে অষ্টম। লক্ষ করুন — ভাগগুলি দিনমান-নির্ভর, তাই রাহু কালের ঘড়ি-সময় প্রতিদিন বদলায়; 'সাড়ে সাতটা থেকে ন'টা' জাতীয় মুখস্থ ছক আসলে আনুমানিক। প্রথামতে এই সময়ে যাত্রা বা নতুন কাজ শুরু বর্জনীয় — চলমান কাজে বাধা নেই। আমাদের হোমপেজের রাহু কাল কার্ড ও শুভ মুহূর্ত পাতায় প্রতিদিনের নিখুঁত সময় হিসাব হয় কলকাতার প্রকৃত সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত ধরে — সঙ্গে থাকে গুলিক কাল ও যমগণ্ডও।
বাঙালির চিরকালীন ধাঁধা — এক বাড়ির পঞ্জিকায় একাদশী সোমবার, পাশের বাড়িরটায় মঙ্গলবার! রহস্যটা গণনা-পদ্ধতির। সাবেক পঞ্জিকাগুলি অনুসরণ করে প্রাচীন সূর্যসিদ্ধান্ত গ্রন্থের সূত্র — যা যুগান্তকারী হলেও দেড় হাজার বছরের পুরোনো; আকাশের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে তার হিসাবের ফারাক শতাব্দীতে শতাব্দীতে বেড়েছে। উনিশ শতকের শেষে (১৮৯০-এর দশকে) জ্যোতির্বিদ মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক মানমন্দিরের পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক সংস্কার এনে প্রকাশ করলেন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা — যাকে বলে দৃকসিদ্ধান্ত: 'দৃক' অর্থাৎ চোখে দেখা আকাশ যা বলে, হিসাব তা-ই। শুরু হলো বাংলার বিখ্যাত 'পঞ্জিকা-বিতর্ক' — যা আজও মেটেনি; পুরোনো ঘরানার গুপ্তপ্রেস বনাম সংস্কারপন্থী বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তের তিথিতে আজও এক-আধ দিনের ফারাক হয়, আর দুই মতেই চলে দুই ঘরের পুজো! ভারত সরকারের ক্যালেন্ডার-কমিটিও (মেঘনাদ সাহার নেতৃত্বে, ১৯৫০-এর দশক) দৃকগণনারই পক্ষে রায় দিয়েছিল। আমাদের এই ওয়েবসাইটের সব হিসাব — তিথি, নক্ষত্র, মাস-সংক্রান্তি — আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক (দৃক) গণনায়, কলকাতার স্থানাঙ্ক ধরে।
ছাপাখানার যুগে পঞ্জিকা ছিল বাংলা প্রকাশনার 'বেস্টসেলার'! গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার পথচলা শুরু ১৮৬৯ সালে — দেড়শো বছর পেরিয়ে আজও লাল মলাটের সেই ঐতিহ্য অটুট; পাশাপাশি পি এম বাগচী (১৮৮৩ থেকে প্রকাশনার ঐতিহ্য) আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত — বাংলা পঞ্জিকার 'বিগ থ্রি'। বিজ্ঞাপন-গবেষকদের কাছে পুরোনো পঞ্জিকা সোনার খনি — কবিরাজি তেল থেকে জাহাজের টিকিট, সেকালের সমাজজীবনের আস্ত ক্যাটালগ ছিল এর পাতায়! 'ফুল পঞ্জিকা', 'হাফ পঞ্জিকা', পকেট 'ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা' — ফরম্যাটের এই বৈচিত্র্যও প্রকাশনা-ইতিহাসে বিরল। আর একালে? সেই পঞ্চাঙ্গই এসে গেছে আপনার পকেটে — এই ওয়েবসাইটের মতো ডিজিটাল পঞ্জিকায়, যেখানে সূত্র এক — শুধু গণনা করে কম্পিউটার, ছাপে পিক্সেল।
তিথি-বার-নক্ষত্র মোটামুটি চেনা হলেও যোগ আর করণের নাম শুনে অনেকেই ভুরু কোঁচকান — অথচ পঞ্জিকার শুভাশুভ-বিচারে দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। যোগ — সূর্য ও চাঁদের দ্রাঘিমার যোগফল ১৩°২০′ করে ভাগ করলে যে ২৭টি ভাগ, তা-ই; বিষ্কুম্ভ থেকে বৈধৃতি। এর মধ্যে সিদ্ধি, শুভ, প্রীতি, আয়ুষ্মানের মতো যোগ শুভকাজের সহায়ক, আর ব্যতীপাত-বৈধৃতির মতো কয়েকটি পরিহার্য বলে ধরা হয়। জ্যোতিষীরা এর সঙ্গে বার-নক্ষত্রের বিশেষ মিলনে গোনেন 'অমৃতযোগ', 'সিদ্ধিযোগ', আবার 'দগ্ধা' বা 'মৃত্যুযোগের' মতো বর্জনীয় ক্ষণও — পঞ্জিকার পাতায় 'অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭।২৩ মধ্যে' জাতীয় লাইনের উৎস এটিই। করণ — তিথির অর্ধাংশ; এগারোটি করণের মধ্যে সাতটি (বব, বালব, কৌলব…) চক্রাকারে ঘোরে, চারটি (শকুনি, চতুষ্পাদ, নাগ, কিংস্তুঘ্ন) স্থির। করণ-পরিবারের 'কুখ্যাত' সদস্য বিষ্টি বা ভদ্রা — শুভকাজে একে এড়ানোর বিধান এতটাই প্রবল যে উত্তর ভারতে রাখি বাঁধার সময় পর্যন্ত ভদ্রা দেখে ঠিক হয়! এই স্তরের খুঁটিনাটিই বুঝিয়ে দেয় — পঞ্জিকা-নির্মাণ কতটা গাণিতিক শ্রমসাধ্য; প্রতিটি দিনের জন্য অন্তত পাঁচটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক রাশির শুরু-শেষ মুহূর্ত গণনা — বছরে হাজার হাজার হিসাব।
বিয়ের 'লগ্ন' থেকে গৃহপ্রবেশের 'মাহেন্দ্রক্ষণ' — মুহূর্ত-বিদ্যা পঞ্জিকার সবচেয়ে ব্যবহৃত প্রয়োগ। শাস্ত্রীয় সংজ্ঞায় এক মুহূর্ত = ৪৮ মিনিট — দিনরাত্রির ত্রিশ ভাগের এক ভাগ; ভোরের 'ব্রাহ্ম মুহূর্ত' (সূর্যোদয়ের আগের দ্বিতীয় মুহূর্ত, প্রায় ৯৬-৪৮ মিনিট আগে) ধ্যান-অধ্যয়নের প্রশস্ত সময় বলে আয়ুর্বেদ-যোগশাস্ত্রেও সমাদৃত। শুভকর্মের মুহূর্ত নির্ণয়ে জ্যোতিষী মেলান বহু স্তর — তিথির শুদ্ধতা, নক্ষত্রের অনুকূলতা (যেমন বিবাহে রোহিণী-মৃগশিরা-উত্তরফাল্গুনী প্রশস্ত), বার, যোগ-করণ, লগ্ন (উদীয়মান রাশি), চন্দ্রবল-তারাবল, আর বর্জনীয় কালগুলি — রাহু কাল ছাড়াও যমগণ্ড, গুলিক কাল, ভদ্রা, দগ্ধা তিথি, বিষ ঘটিকা; সব ছাঁকনি পেরিয়ে যে সময়টুকু টেকে, সেটিই 'শুভ মুহূর্ত'। এ জন্যই বিয়ের মরসুমে 'লগ্ন-খরা'র বছরে ম্যারেজ হল পাওয়া যায় না, আর লগ্নসায়রের রাতে শহরে ব্যান্ডপার্টির আকাল! বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী যে শিবিরেই থাকুন — এই ব্যবস্থার সামাজিক প্রভাব অনস্বীকার্য; আর হিসাবটুকু হাতের মুঠোয় পেতে আমাদের শুভ মুহূর্ত ক্যালকুলেটর তো আছেই — যেখানে যাত্রা, বিবাহ, ব্যবসা-সূচনাসহ আট রকম কাজের অনুকূল দিন দশ দিনের পূর্বাভাসে দেখে নেওয়া যায়।
পঞ্জিকার পাতায় গ্রহণের হিসাব বাঙালির কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণের — 'অমুক দিন ঘ অত মিনিটে স্পর্শ, অত মিনিটে মোক্ষ' — মিনিট-সেকেন্ডের এই ভবিষ্যদ্বাণী যে নির্ভুল ফলে যায়, সেটিই আমজনতার কাছে ছিল জ্যোতির্গণনার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদরা গ্রহণ-গণনায় ছিলেন বিশ্বমানের — আর্যভট (৪৯৯ খ্রি.) স্পষ্ট লিখেছেন, রাহু নয় — চাঁদের ছায়ায় সূর্যগ্রহণ, পৃথিবীর ছায়ায় চন্দ্রগ্রহণ; দেড় হাজার বছর আগের এই বিজ্ঞান-ঘোষণা আজও শিহরণ জাগায়। পঞ্জিকায় অবশ্য দুই স্তর পাশাপাশি চলে — গণনার বিজ্ঞান আর আচারের লোকবিশ্বাস: গ্রহণে রান্না-খাওয়া বন্ধ, তুলসীপাতা দেওয়া, গ্রহণ-শেষে স্নান — এগুলি শাস্ত্রাচার; আধুনিক বিজ্ঞান বলে, গ্রহণ সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রাকৃতিক ঘটনা — শুধু খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা চোখের পক্ষে বিপজ্জনক, চাই প্রত্যয়িত সোলার ফিল্টার। মজার তথ্য — গ্রহণই ছিল ঔপনিবেশিক যুগে দেশীয় পঞ্জিকা বনাম সাহেবি 'নটিক্যাল অ্যালম্যানাক'-এর মহড়ার ময়দান; আর আজ? আমাদের সাইটের পঞ্জিকা-ইঞ্জিন যে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অ্যালগরিদমে তিথি কষে, নাসার গ্রহণ-গণনাও সেই একই নিউটনীয়-কেপলারীয় গণিতের উত্তরসূরি — ঠাকুরদার লাল মলাটের পাঁজি আর মহাকাশ-গবেষণা, শিকড় আসলে একই আকাশে!
শেষ পাতে হাতে-কলমে অভ্যাস — পঞ্জিকার একটি দৈনিক এন্ট্রি কীভাবে পড়বেন? ধরা যাক লেখা আছে: "১২ আশ্বিন, সোমবার — শুক্লা তৃতীয়া দিবা ঘ ২।৩৫ পর্যন্ত, পরে চতুর্থী; নক্ষত্র স্বাতী রাত্রি ঘ ৮।১০; অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭।২৩ মধ্যে; রাহু কাল দিবা ঘ ৭।৩০ গতে ৯ মধ্যে।" পাঠোদ্ধার এক লাইনে এক করে — '১২ আশ্বিন, সোমবার': সৌর বাংলা তারিখ ও বার। 'শুক্লা তৃতীয়া দিবা ঘ ২।৩৫ পর্যন্ত': সূর্যোদয়ের মুহূর্তে তৃতীয়া তিথি চলছে (তাই দিনভর কার্যত 'তৃতীয়া'ই ধরা হবে), তবে তিথিটি শেষ হবে বেলা ২টো ৩৫-এ — তারপর চতুর্থী শুরু; ব্রত-উপবাসের ক্ষেত্রে এই শেষ-মুহূর্তটিই নির্ণায়ক। খেয়াল রাখুন — সাবেক পঞ্জিকার 'ঘণ্টা' অনেক সময় সূর্যোদয় থেকে গোনা দণ্ড-পল পদ্ধতির রূপান্তর; আধুনিক পঞ্জিকা ও আমাদের সাইট সরাসরি ঘড়ির সময়ই দেখায় — বিভ্রান্তি নেই। 'নক্ষত্র স্বাতী রাত্রি ৮।১০': চাঁদ স্বাতী নক্ষত্রে থাকবে রাত ৮:১০ পর্যন্ত — বিবাহাদির নক্ষত্র-বিচারে দরকারি। 'অমৃতযোগ… মধ্যে': ওই সময়সীমার ভিতরে কাজ শুরুর জন্য প্রশস্ত ক্ষণ; 'গতে' মানে ওই সময়ের পর থেকে, 'মধ্যে' মানে তার আগে পর্যন্ত — পঞ্জিকার এই দুটি শব্দ বুঝলেই অর্ধেক রহস্য ফাঁস! 'রাহু কাল ৭।৩০ গতে ৯ মধ্যে': সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ন'টা — নতুন কাজ শুরু এড়ানোর পরামর্শ। ব্যস — এবার যে-কোনো পঞ্জিকার পাতা আপনার কাছে আর হিব্রু নয়! রোজকার অনুশীলনের জন্য আজকের পঞ্জিকা খুলে মিলিয়ে দেখুন; তিথি-শেষের সময়, অমৃতযোগ, রাহু কাল — সবই সেখানে ঘড়ির কাঁটায় সাজানো। পাঁজি-পড়া আসলে সাইকেল চালানোর মতো — একবার শিখলে আর ভোলা যায় না, আর শিখে গেলে ঠাকুমার পাশে বসে লাল মলাটের পাতা ওলটানোর আনন্দই আলাদা!
তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ ও করণ — এই পাঁচ অঙ্গের দৈনিক হিসাবই পঞ্চাঙ্গ বা পঞ্জিকা। পাঁচটিই সূর্য-চাঁদের অবস্থান থেকে গণনা করা হয়।
সূর্য ও চাঁদের কৌণিক ব্যবধান প্রতি ১২ ডিগ্রি বাড়ার হিসাবে এক-একটি তিথি — অমাবস্যা (০°) থেকে পূর্ণিমা (১৮০°) পর্যন্ত শুক্লপক্ষ, তারপর কৃষ্ণপক্ষ। চাঁদের গতির তারতম্যে তিথির দৈর্ঘ্য কমবেশি হয় বলে তিথিক্ষয় ও তিথিবৃদ্ধি ঘটে।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের দিনমানকে আট ভাগ করে বারভেদে নির্দিষ্ট এক ভাগ রাহু কাল ধরা হয় — প্রথামতে এই সময়ে যাত্রা ও নতুন কাজ শুরু বর্জনীয়। দিনমান বদলায় বলে রাহু কালের সময়ও প্রতিদিন বদলায়; নিখুঁত সময় দেখুন আমাদের পঞ্জিকা ও শুভ মুহূর্ত পাতায়।
গণনা-পদ্ধতির পার্থক্যে — সাবেক পঞ্জিকা প্রাচীন সূর্যসিদ্ধান্তের সূত্র মানে, আর সংস্কারকৃত (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত/দৃকসিদ্ধান্ত) পঞ্জিকা আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করে; ফলে তিথি-উৎসবে এক-আধ দিনের ফারাক হতে পারে।
আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক (দৃক) গণনায় — সূর্য-চাঁদের প্রকৃত অবস্থান, কলকাতার স্থানাঙ্ক ও স্থানীয় সূর্যোদয় ধরে প্রতিটি তিথি, নক্ষত্র, রাহু কাল ও মাস-সংক্রান্তি হিসাব করা হয়।
প্রতিদিনের পঞ্চাঙ্গ দেখুন আজকের পঞ্জিকায়, শুভ দিন খুঁজুন শুভ মুহূর্ত পাতায়। পড়ুন বাংলা সনের ইতিহাস ও আজকের বাংলা তারিখ।
প্রচ্ছদ ছবি: আল-বিরুনির পাণ্ডুলিপি, উইকিমিডিয়া কমন্স — পাবলিক ডোমেন