🏛️ ইতিহাস · ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার
বঙ্গাব্দ কি আকবরের সৃষ্টি, নাকি রাজা শশাঙ্কের? কেন গ্রেগরিয়ান থেকে ৫৯৩ বছর পিছিয়ে বাংলা সন? মাসের নাম এল কোন নক্ষত্র থেকে? পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার আলাদা কেন — বাংলা সনের সম্পূর্ণ ইতিহাস।
"এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…" — প্রতি বছর এই গানে বাঙালি বরণ করে নতুন বছরকে। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, এই বঙ্গাব্দ গুনতে শুরু করল কে? কেন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে চলে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — ৫৯৩ বছরের এই ফারাকের হিসাব কোথা থেকে এল? আর কেনই বা কলকাতার পয়লা বৈশাখ কখনো কখনো ঢাকার একদিন পরে পড়ে?
উত্তর খুঁজতে গেলে পৌঁছে যেতে হয় মুঘল দরবারের রাজস্ব-দপ্তর থেকে গৌড়ের প্রাচীন রাজসভা পর্যন্ত। বাংলা সনের জন্মকাহিনি আসলে বাংলার কৃষি, রাজনীতি আর জ্যোতির্বিদ্যার এক আশ্চর্য ত্রিবেণিসঙ্গম — ইতিহাসটা জানা থাকলে ১লা বৈশাখের হালখাতার মিষ্টিও একটু বেশি মিষ্টি লাগবে!
মুঘল সাম্রাজ্যের সরকারি বর্ষপঞ্জি ছিল হিজরি — চান্দ্র বছর, ৩৫৪ দিনের। কিন্তু বাংলার খাজনা তো ফসলের হিসাবে — আর ফসল চলে সূর্যের ঋতুচক্রে, ৩৬৫ দিনে! ফলে প্রতি বছর হিজরি সন ঋতু থেকে এগারো দিন করে সরে যায়; বত্রিশ-তেত্রিশ বছরে পুরো এক বছরের গরমিল। ধান তখনও মাঠে, অথচ কাগজে খাজনার মরসুম হাজির — প্রজার নাভিশ্বাস, আমলার হিসাব-বিভ্রাট।
প্রচলিত ইতিহাসমতে, সমাধানে এগিয়ে এলেন আকবরের দরবারের জ্যোতির্বিদ ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ শিরাজি। হিজরি সনের সংখ্যা রেখে তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো সৌর বছরের গতি — জন্ম নিল 'তারিখ-ই-ইলাহি' ঘরানার ফসলি সন, যা বাংলায় শিকড় গেড়ে হলো বঙ্গাব্দ। গণনার সূচনা-বিন্দু ধরা হলো আকবরের সিংহাসনে বসার বছর — ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ৯৬৩। সেই থেকেই অঙ্কটা মেলে: হিজরির সংখ্যা নিয়ে সৌর গতিতে চললে আজ ১৪৩৩ — আর খ্রিস্টাব্দের সঙ্গে স্থায়ী ফারাক দাঁড়ায় ৫৯৩/৫৯৪ বছরের। 'সন' শব্দটি খোদ আরবি, 'সাল' ফারসি — বাংলা বর্ষপঞ্জির নামের ভেতরেই মুঘল দপ্তরের সিলমোহর!
বিকল্প এক মতও প্রবল — বঙ্গাব্দের জন্ম আরও হাজার বছর আগে, স্বাধীন গৌড়ের প্রথম সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজ্যাভিষেকে (আনুমানিক ৫৯৩-৯৪ খ্রিস্টাব্দ)। হিসাবটা লোভনীয় — ৫৯৩ যোগ করলেই খ্রিস্টাব্দ মেলে! সমর্থকেরা বলেন, বাংলার নিজস্ব অব্দ বিদেশি দরবারের দান হতে যাবে কেন? সংশয়ীরা পাল্টা বলেন — শশাঙ্ক-যুগের কোনো শিলালিপি বা নথিতে 'বঙ্গাব্দ' মেলে না; মধ্যযুগের আগে এর ধারাবাহিক ব্যবহারের প্রমাণও দুর্লভ। ঐতিহাসিকদের বড় অংশের মীমাংসা অনেকটা এ রকম: কাঠামো আকবরি ফসলি সনের, তবে তা দাঁড়িয়েছিল বাংলার আগে থেকে চলা সৌর কৃষি-বর্ষের ভিতের ওপর — নতুন বোতলে পুরোনো ধানের গন্ধ। বিতর্ক আজও জীবন্ত — আর সেটাই ইতিহাসের মজা।
বাংলা মাসের নামগুলি কিন্তু মুঘল নয় — খাঁটি ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার। প্রতিটি মাসের নাম এসেছে সেই নক্ষত্র থেকে, পূর্ণিমার চাঁদ যে নক্ষত্রের ঘরে থাকে — বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া (পূর্বাষাঢ়া-উত্তরাষাঢ়া) থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, অশ্বিনী থেকে আশ্বিন, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, মৃগশিরার প্রাচীন নাম আগ্রহায়ণী থেকে অগ্রহায়ণ, পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন, আর চিত্রা থেকে চৈত্র। অগ্রহায়ণ যে একদা বছরের *প্রথম* মাস ছিল — সেই কাহিনি পড়ুন নবান্নের নিবন্ধে। তিথি-নক্ষত্রের এই গণনা-জগতে ঢুঁ মারতে চাইলে আছে পঞ্জিকার অজানা তথ্য।
আজ মজার বাস্তবতা — একই বঙ্গাব্দ, কিন্তু দুই দেশে দুই নিয়মে চলে! বাংলাদেশ ১৯৬৬ সালে ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশে ক্যালেন্ডার সংস্কার করে (পরে কার্যকর ও ২০১৮-১৯-এ পরিমার্জিত): মাসের দিনসংখ্যা বাঁধা, আর পয়লা বৈশাখ স্থির ১৪ এপ্রিল। ফলে ঢাকায় নববর্ষ ক্যালেন্ডারে ছাপা যায় দশ বছর আগেই!
পশ্চিমবঙ্গ রয়ে গেছে সাবেক জ্যোতিষগণনার পথে — সূর্য যেদিন মেষ রাশিতে (সৌর হিসাবে) প্রবেশ করে, তার পরদিন পয়লা বৈশাখ; ফলে তারিখ পড়ে ১৪ বা ১৫ এপ্রিল, বছরভেদে। তাই কোনো কোনো বছর ঢাকার নববর্ষের পরদিন কলকাতার নববর্ষ — এক উৎসব, দুই দিন, দ্বিগুণ মিষ্টি! আমাদের এই ওয়েবসাইটের ক্যালেন্ডারও পশ্চিমবঙ্গের সেই ঐতিহ্যবাহী সৌর-গণনাই অনুসরণ করে — প্রতিটি মাসের সূচনা হিসাব হয় প্রকৃত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থান থেকে।
রাজস্ব-ক্যালেন্ডার হিসেবে জন্ম বলেই বাংলা নববর্ষের প্রাচীনতম আচারগুলো হিসাব-নিকাশের! মুঘল আমলে পয়লা বৈশাখে হতো 'পুণ্যাহ' — খাজনা আদায়ের শুভ সূচনার দরবার; জমিদারি যুগ পেরিয়ে তারই দোকানি-উত্তরসূরি হালখাতা — লাল মলাটের নতুন খাতা, স্বস্তিকচিহ্ন, ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ। আর ওপার বাংলায় ১৯৮৯ থেকে ঢাকার চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা — যা ২০১৬-য় পেয়েছে ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতি। ছায়ানটের রমনা বটমূলের বর্ষবরণ, চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক-গাজন, নববর্ষের প্রভাতফেরি — সাড়ে চারশো বছরের এই ক্যালেন্ডার আজ বাঙালি জাতিসত্তারই আরেক নাম।
গ্রেগরিয়ান মাসের দিনসংখ্যা মুখস্থ ছড়ায় বাঁধা; বাংলা মাস (পশ্চিমবঙ্গের প্রথায়) চলে আকাশের হিসাবে — তাই তার দিনসংখ্যা বছরে বছরে বদলায়! নিয়মটি সরল অথচ সূক্ষ্ম: সূর্য যেদিন এক রাশি থেকে পরের রাশিতে ঢোকে (সংক্রান্তি), সেদিনই সৌর মাসের সীমানা। কিন্তু পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার — সূর্যের আপাত গতি তাই অসম; কোনো রাশি পেরোতে সূর্য নেয় ২৯ দিন, কোনোটায় ৩১-৩২ দিন। ফলে বাংলা মাসের দৈর্ঘ্য ২৯ থেকে ৩২ দিনের মধ্যে দোলে — শীতের মাসগুলি (পৌষ-মাঘ) ছোট, বর্ষার মাসগুলি (আষাঢ়-শ্রাবণ) দীর্ঘ; কারণ জানুয়ারিতে পৃথিবী সূর্যের কাছে (অনুসূর) বলে দ্রুত ছোটে! আরও এক সূক্ষ্মতা — ইংরেজি তারিখ বদলায় মাঝরাতে, বাংলা তারিখ প্রথামতে সূর্যোদয়ে; সংক্রান্তির মুহূর্ত সূর্যোদয়ের আগে না পরে, তার ওপর নির্ভর করে মাস শুরুর দিন। এই সব হিসাবের বিস্তারিত কারিগরি — তিথিক্ষয়, রাহু কাল, নক্ষত্রগণনা — নিয়ে আলাদা নিবন্ধ আছে: পঞ্জিকার অজানা তথ্য; আর প্রতিটি মাসের প্রতিদিনের হিসাব পাবেন মাস-ক্যালেন্ডারের পাতায়।
বাংলা বছরের শেষ ও শুরু — দুটোই উৎসব। বিদায়ী চৈত্র সংক্রান্তিতে গ্রামবাংলায় চড়ক-গাজনের মেলা — শিবভক্তদের কৃচ্ছ্রসাধনা, চড়কগাছে ঘোরা, নীল পূজা; নৃতাত্ত্বিকদের চোখে যা প্রাক্-আর্য উর্বরতা-আচারের জীবন্ত ধারা। পরদিন পয়লা বৈশাখ — ভোরে ('এসো হে বৈশাখ' দিয়ে প্রভাতফেরি), স্নান সেরে নতুন জামা, বড়দের প্রণাম, মিষ্টিমুখ। ব্যবসায়ী-পাড়ায় দিনটির মধ্যমণি হালখাতা — সকালে গণেশ-লক্ষ্মীর পূজা, সিঁদুর-স্বস্তিকা আঁকা লাল খাতার উদ্বোধন, খদ্দেরদের নিমন্ত্রণ — বকেয়া মিটিয়ে মিষ্টির বাক্স আর নতুন ক্যালেন্ডার হাতে ফেরা; কলকাতার বড়বাজার-বউবাজারে আজও দিনটিতে উৎসবের চেহারা। খাওয়াদাওয়ায় 'বাঙালিয়ানার' পূর্ণ আয়োজন — সকালে পান্তা-ইলিশের (আধুনিক ঢাকাই সংযোজন!) হুজুগ, দুপুরে শুক্তো থেকে চাটনি-পাপড়ের পূর্ণাঙ্গ থালি, রেস্তোরাঁয় 'নববর্ষ স্পেশাল'। ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের ভোরের অনুষ্ঠান (১৯৬৭ থেকে — পাকিস্তানি শাসনের রক্তচক্ষুর সামনেই রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে বাঙালিয়ানার ঘোষণা!), চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, মিষ্টির দোকানে দোকানে ভিড় — নববর্ষ দুই বাংলার অভিন্ন হৃদস্পন্দন। পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাবেন বাংলা নববর্ষের পাতায়।
বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দ রূপান্তর নিয়ে ধাঁধায় পড়েন অনেকেই — সহজ সূত্রটি তুলে রাখুন। খ্রিস্টাব্দ থেকে বঙ্গাব্দ: পয়লা বৈশাখ (এপ্রিলের মাঝামাঝি) পেরিয়ে গেলে ৫৯৩ বিয়োগ, না পেরোলে ৫৯৪ — যেমন অক্টোবর ২০২৬ → ২০২৬−৫৯৩ = ১৪৩৩; ফেব্রুয়ারি ২০২৭ → ২০২৭−৫৯৪ = সেই ১৪৩৩-ই। বঙ্গাব্দ থেকে খ্রিস্টাব্দ: ৫৯৩ যোগ করলে পাবেন যে খ্রিস্টাব্দে বছরটি শুরু, আর তার পরের বছরে শেষ — ১৪৩৩ + ৫৯৩ = ২০২৬-২৭। ঐতিহাসিক তারিখ মেলাতেও কাজে দেয় — ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: ১১৭৬ + ৫৯৪ = ১৭৭০; রবীন্দ্র-প্রয়াণ: ১৩৪৮ + ৫৯৩ = ১৯৪১। শকাব্দ মেলাতে চাইলে সূত্র: শকাব্দ = খ্রিস্টাব্দ − ৭৮। আর দিন-তারিখের নিখুঁত রূপান্তরের জন্য তো আছে আমাদের সাইটের তারিখ কনভার্টার ও আজকের বাংলা তারিখ — যেখানে গণনা হয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতায়।
বাংলা তথা ভারতীয় ক্যালেন্ডার-সংস্কারের ইতিহাসে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর ভূমিকা বিশেষ স্মরণীয় — জ্যোতির্পদার্থবিদ মেঘনাদ সাহা। স্বাধীনতার পরে দেশজুড়ে তিরিশেরও বেশি ভিন্ন পঞ্জিকা-পদ্ধতির বিশৃঙ্খলা দেখে ১৯৫২ সালে গঠিত হয় ক্যালেন্ডার রিফর্ম কমিটি — সভাপতি সাহা; কমিটির ঐতিহাসিক রিপোর্ট (১৯৫৫) সুপারিশ করে বিজ্ঞানসম্মত দৃক-গণনা এবং শকাব্দ-ভিত্তিক ভারতীয় জাতীয় বর্ষপঞ্জি — যা ১৯৫৭-র ২২ মার্চ (১ চৈত্র ১৮৭৯ শক) থেকে সরকারিভাবে গৃহীত; আজও গেজেট-আকাশবাণীতে গ্রেগরিয়ানের পাশে শক-তারিখ বলা হয় সেই সূত্রেই। সাহার কমিটির বিশ্লেষণ বাংলা পঞ্জিকা-বিতর্কেও প্রাসঙ্গিক — তাঁরা দেখান, প্রাচীন সূর্যসিদ্ধান্তের ধ্রুবক ধরে চলা গণনায় ঋতু ও মাসের ফারাক ক্রমে বাড়ছে (অয়নাংশের সেই বিতর্ক!), তাই আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মান অপরিহার্য। মজার কথা — যুক্তিবাদী সাহা চেয়েছিলেন উৎসব-তিথিও বিজ্ঞানসম্মত অভিন্ন পঞ্জিতে বাঁধা পড়ুক; ধর্মীয় ঐতিহ্যের জোরে তা পুরোপুরি হয়নি, ফলে ভারত আজও চলে 'বহু ক্যালেন্ডারের সমবায়ে' — সরকারি কাজে গ্রেগরিয়ান, সংস্কৃতিতে বঙ্গাব্দ, ধর্মাচারে পঞ্জিকা-তিথি, আর দলিল-দস্তাবেজের ইতিহাসে ফসলি-হিজরি-শকের স্তর। ভাষাবিদদের চোখে এ 'ক্যালেন্ডার-বহুত্ব'ই ভারতীয় সভ্যতার চরিত্র — সময় গোনার প্রতিটি পদ্ধতি এক-একটি সভ্যতা-স্মৃতির জীবন্ত সংরক্ষণাগার। আর বাঙালির জন্য গর্বের ফুটনোট — জাতীয় বর্ষপঞ্জির স্থপতি, পঞ্জিকা-বিজ্ঞানের সেই মহারথী মেঘনাদ সাহা নিজে উঠে এসেছিলেন ঢাকার শেওড়াতলী গ্রাম থেকে — ভাষা-আন্দোলনের বাংলা আর ক্যালেন্ডার-বিজ্ঞানের বাংলা আসলে একই নদীর দুই ধারা!
প্রচলিত ইতিহাসমতে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে, জ্যোতির্বিদ ফতেহউল্লাহ শিরাজির পরিকল্পনায় হিজরি ও সৌর বছরের সমন্বয়ে ফসলি সন হিসেবে বঙ্গাব্দের সূচনা; গণনা ধরা হয় আকবরের সিংহাসন-আরোহণের বছর ১৫৫৬ থেকে। বিকল্প মতে এর উৎস রাজা শশাঙ্কের আমল।
পয়লা বৈশাখের পরে বঙ্গাব্দ = খ্রিস্টাব্দ − ৫৯৩; নববর্ষের আগে − ৫৯৪। যেমন এপ্রিল ২০২৬-এর নববর্ষ থেকে চলছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
১৫ এপ্রিল ২০২৭, বৃহস্পতিবার। পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত সৌর-গণনায় নববর্ষ ১৪-১৫ এপ্রিল পড়ে; বাংলাদেশের সংস্কারকৃত ক্যালেন্ডারে তা স্থির ১৪ এপ্রিল।
নক্ষত্র থেকে — পূর্ণিমার চাঁদ যে নক্ষত্রে থাকে তার নামে মাস: বিশাখা→বৈশাখ, শ্রবণা→শ্রাবণ, কৃত্তিকা→কার্তিক, মঘা→মাঘ, চিত্রা→চৈত্র ইত্যাদি।
বাংলাদেশ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কমিটির (১৯৬৬) সুপারিশে মাসের দিনসংখ্যা স্থির করে সংস্কারকৃত ক্যালেন্ডার চালু করেছে; পশ্চিমবঙ্গ ঐতিহ্যবাহী জ্যোতিষ-সৌর গণনাই অনুসরণ করে। তাই দুই বাংলায় কিছু তারিখে এক-দুই দিনের ফারাক হয়।
নববর্ষের ইতিহাস আরও বিস্তারিত বাংলা নববর্ষের পাতায়। পড়ুন পঞ্জিকার অজানা তথ্য ও নবান্নের কাহিনি। বৈশাখ মাসের ক্যালেন্ডার এখানে।
প্রচ্ছদ ছবি: NahidSultan, উইকিমিডিয়া কমন্স.jpg) — CC BY-SA 4.0