← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

মকর সংক্রান্তি ও পৌষ পার্বণ ২০২৭ — পিঠেপুলি, গঙ্গাসাগর মেলা ও টুসু উৎসবের কাহিনি

📅 বিশেষ দিন  ·  ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার

১৪ জানুয়ারি ২০২৭, বৃহস্পতিবার মকর সংক্রান্তি। পাটিসাপটা-দুধপুলির পৌষ পার্বণ, 'সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার' — কপিল মুনির আশ্রমের মহামেলা, রাঢ়ের টুসু আর শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার সম্পূর্ণ কাহিনি।

পৌষের কনকনে ভোর। উঠোনে ধোঁয়া-ওঠা উনুনে মাটির সরায় বসেছে চালগুঁড়ির গোলা, পাশে নতুন খেজুর গুড়ের সুবাস — বাঙালির ঘ্রাণ-স্মৃতির সবচেয়ে আদরের ছবি: পৌষ পার্বণ। এ বছর মকর সংক্রান্তি ১৪ জানুয়ারি ২০২৭, বৃহস্পতিবার — ২৯ পৌষ ১৪৩৩; ঘরে ঘরে পিঠেপুলির উৎসব, আর সাগরদ্বীপে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর মহাসম্মিলন — গঙ্গাসাগর মেলা।

সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশের এই সন্ধিক্ষণ ভারতজুড়ে পালিত হয় নানা নামে — পাঞ্জাবে লোহরি, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, অসমে ভোগালি বিহু, গুজরাতে উত্তরায়ণের ঘুড়ি। কিন্তু বাংলার মকর সংক্রান্তির নিজস্ব তিন রত্ন — পিঠে, গঙ্গাসাগর আর টুসু। সম্পূর্ণ কাহিনি রইল।

এক নজরে মকর সংক্রান্তি ২০২৭

সংক্রান্তি মানে কী — সূর্যের ঘর বদল

পঞ্জিকার ভাষায় সূর্য যেদিন এক রাশি ছেড়ে পরের রাশিতে ঢোকে, সেই সন্ধিক্ষণ সংক্রান্তি — মাসের শেষ দিন। বারোটি সংক্রান্তির মধ্যে মকর সংক্রান্তি শ্রেষ্ঠ, কারণ শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যে এই দিনেই সূর্যের উত্তরায়ণ — দক্ষিণের হেলান ছেড়ে উত্তরমুখী যাত্রা — শুরু বলে ধরা হয়; দিন বড় হওয়ার, আলো ফেরার উদ্‌যাপন। মহাভারতে ইচ্ছামৃত্যু-বর পাওয়া ভীষ্ম শরশয্যায় অপেক্ষা করেছিলেন এই উত্তরায়ণেরই — পুণ্যতম প্রয়াণকালের জন্য। মজার কথা, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে অয়ন-পরিবর্তন ঘটে ডিসেম্বরের সলস্টিসে; অয়নচলনের কারণে তারিখ সরে গেলেও পরম্পরা রয়ে গেছে মকর-প্রবেশেই — পঞ্জিকার গণনার সেই রহস্য পড়ুন এখানে। আর যেহেতু এ গণনা সৌর, তাই বিশ্বকর্মা পূজার মতোই মকর সংক্রান্তির ইংরেজি তারিখ প্রায় অনড় — ১৪-১৫ জানুয়ারি।

পৌষ পার্বণ — পিঠেপুলির মহাযজ্ঞ

নবান্নে যে নতুন চাল ঘরে উঠেছিল, পৌষ সংক্রান্তিতে তারই মহোৎসব — পিঠে পার্বণ। নতুন চালের গুঁড়ি, খেজুরের নলেন গুড়, নারকেল, দুধ — এই চার মূল উপকরণে বাঙালি রাঁধুনির হাতে জন্ম নেয় শিল্পের এক-একটি ঘরানা: ভাপে সিদ্ধ ভাপা পিঠে, তাওয়ার পাটিসাপটা (ক্ষীর বা নারকেল-পুর), দুধে ডোবানো দুধপুলি, ভাজা গোকুল পিঠে, সরুচাকলি, চিতই, রসবড়া, আর আসকে পিঠে — তালিকা জেলায় জেলায় বদলায়, ভালোবাসা বদলায় না। ঠাকুমা-দিদিমাদের হাতের ছাঁচে (পিঠে-ছাঁচের কাঠ বা পাথরের নকশাও এক লোকশিল্প!) সন্ধ্যাভর চলে পিঠে গড়া; সঙ্গে মুড়ি-চিঁড়ে-খইয়ের মোয়া, তিলের নাড়ু। লোকবিশ্বাসে এই দিন ঘরে ঘরে বাউনি বাঁধা হয় — ধানের শিষের ছোট্ট গোছা দরজায়-গোলায়-তুলসীতলায়; লক্ষ্মীকে ঘরে বেঁধে রাখার প্রতীক। সংক্রান্তির আগের দিনগুলিতে চালগুঁড়ির আলপনায় সাজে উঠোন — মকরের আলপনা বাংলার লোকচিত্রের নিজস্ব অধ্যায়।

গঙ্গাসাগর — 'সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার'

মকর সংক্রান্তির মহাতীর্থ গঙ্গাসাগর — যেখানে গঙ্গা মিশেছে সাগরে, সাগরদ্বীপের সেই সংগমে সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে জড়ো হন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী — কুম্ভমেলার পরে ভারতের বৃহত্তম গণ-তীর্থস্নান বলে ধরা হয় একে। পুরাণকথায় এই সাগরতটেই কপিল মুনির অভিশাপে ভস্ম হয়েছিলেন রাজা সগরের ষাট হাজার পুত্র; তাঁদের উদ্ধারে ভগীরথ কঠোর তপস্যায় স্বর্গ থেকে নামিয়ে আনেন গঙ্গাকে — মর্ত্যে গঙ্গার সেই অবতরণ-কাহিনির সমাপ্তিবিন্দু গঙ্গাসাগর। কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে, সংগমে ডুব দিয়ে পুণ্যার্থীরা বলেন — "সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।" একসময় এই যাত্রা ছিল প্রাণ হাতে নিয়ে — নদীপথে ঝড়, বাঘ-কুমিরের ভয়; সেই দুর্গমতাই জন্ম দিয়েছিল প্রবাদটির। আজ বাস-ভেসেল-হেলিকপ্টারে মেলা অনেক সুগম, তবু কনকনে মাঘী ঠান্ডায় ভোরের সেই ডুব আজও পরীক্ষা বইকি!

একই সময়ে বীরভূমের জয়দেব-কেঁদুলিতে কবি জয়দেবের স্মৃতিধন্য অজয়ের তীরে বসে বাউল-কীর্তনের মহামেলা — আখড়ায় আখড়ায় সারারাত একতারার সুর; বাংলার আধ্যাত্মিক লোকসংগীতের বৃহত্তম সম্মিলন।

টুসু ও মকর পরব — রাঢ় বাংলার নিজস্ব সুর

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম — রাঢ় বাংলার মকর সংক্রান্তি মানে টুসু পরব। পৌষ মাসজুড়ে কুমারী মেয়েরা সন্ধ্যায় টুসুদেবীর পট বা চৌদলে জড়ো হয়ে গায় টুসুগান — মাটির সুরে সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিমান, এমনকি সমকালের রাজনীতিও! সংক্রান্তির ভোরে রঙিন কাগজের চৌদল মাথায় নদীঘাটে শোভাযাত্রা — গানে গানে টুসু বিসর্জন, আর সেই সঙ্গে মকর স্নান। এই অঞ্চলের ঘরে ঘরে বানানো হয় গুড়পিঠে; আদিবাসী জনপদে চলে মকর পরবের নাচ-গান-মোরগ লড়াই। শীতের রুক্ষ রাঢ়ে টুসু আসলে জীবনেরই জয়গান — লোকসংস্কৃতি গবেষকদের কাছে টুসুগান বাংলার শ্রমজীবী নারীর আত্মকথার আর্কাইভ।

আর শান্তিনিকেতনে পৌষ মানেই পৌষমেলা — ১৮৯৪ থেকে চলা এই মেলার শিকড় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্রহ্মোপাসনায়; ৭ পৌষের উপাসনা, ছাতিমতলার প্রার্থনা, আর হস্তশিল্প-বাউলগানের মেলা — রবীন্দ্র-ঐতিহ্যের জীবন্ত উত্তরাধিকার।

পিঠের অভিধান — কোন পিঠে কেমন, কীভাবে

পৌষ পার্বণের পিঠেগুলিকে একটু কাছ থেকে চিনে নেওয়া যাক — কারণ প্রতিটির চরিত্র আলাদা। ভাপা পিঠে — চালগুঁড়ির মধ্যে গুড়-নারকেলের পুর ভরে ভাপে সিদ্ধ; ওপার বাংলার শীত-সকালের রাজা, ঢাকার ফুটপাতে ধোঁয়া-ওঠা ভাপার দৃশ্য কিংবদন্তি। পাটিসাপটা — তাওয়ায় পাতলা রুটির মতো ছড়িয়ে ভিতরে ক্ষীর বা নারকেল-গুড়ের পুর দিয়ে মোড়া — পার্বণের সবচেয়ে 'গ্ল্যামারাস' সদস্য; নামের উৎস সম্ভবত পাটির মতো মোড়ানো ভঙ্গি। দুধপুলি — চালগুঁড়ির পুলি নারকেল-পুরসহ ঘন দুধে ফুটিয়ে — যত জ্বাল, তত স্বাদ। চিতই — মাটির খোলায় ফোটানো ছিদ্রময় নরম পিঠে; দুধচিতই রূপে রাতভর খেজুর-রসে ভিজলে অমৃত। সরুচাকলি — চাল-বিউলির গোলার পাতলা ক্রেপ, ঝোলা গুড়ে ডুবিয়ে। আসকে/আস্কে পিঠে — ভাপে-সেঁকা তুলতুলে গোল পিঠে, রাঢ়ের ঘরানা। গোকুল পিঠে — পুর-ভরা চাকতি বেসনে ডুবিয়ে ভেজে রসে ফেলা — পিঠে ও মিষ্টির সেতুবন্ধ। সঙ্গে মুগসামলি, ক্ষীরপুলি, রাঙা আলুর পুলি, তিল পিঠে — তালিকা অন্তহীন। আর সবকিছুর প্রাণভোমরা নলেন গুড় — শীতের খেজুর রস জ্বাল দিয়ে তৈরি ঝোলা ও পাটালি; জয়নগরের মোয়া (কনকচূড় খই + নলেন গুড়) তো জিআই-স্বীকৃত রত্ন। পুষ্টিবিদদের চোখেও পার্বণী মেনু বুদ্ধিদীপ্ত — শীতে দেহের বাড়তি ক্যালরি-চাহিদা মেটায় চাল-গুড়-নারকেল-তিলের এই কম্বিনেশন; ঐতিহ্য আর বিজ্ঞান এখানেও হাত ধরাধরি!

গঙ্গাসাগর যাত্রা — তীর্থপথের খুঁটিনাটি

গঙ্গাসাগর যেতে চাইলে পথের ছবিটা জেনে রাখুন। কলকাতা থেকে দুই প্রধান রুট — শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেনে বা ধর্মতলা থেকে বাসে কাকদ্বীপের লট নং ৮ ঘাট পৌঁছে ভেসেলে মুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়া, সেখান থেকে বাস-ম্যাজিকে ৩০ কিলোমিটার দূরের সাগরসংগম; বিকল্পে নামখানা-বেণুবন হয়ে। মেলার দিনগুলিতে (১০-১৭ জানুয়ারি নাগাদ) প্রশাসনের বিশাল আয়োজন — অতিরিক্ত ট্রেন-বাস-ভেসেল, মেগা কন্ট্রোল রুম, ই-পরিচয়পত্র, মেডিক্যাল ক্যাম্প, এমনকি জরুরি এয়ার-লিফটের ব্যবস্থা; 'সাগর আরতি' ও ই-স্নানের (বাড়িতে বসে পুণ্যজল!) মতো নতুন সংযোজনও এসেছে। ভিড় এড়াতে চাইলে সংক্রান্তির মূল স্নান-লগ্নের আগের দিন পৌঁছে পরদিন ভোরে স্নান সেরে ফেরা বুদ্ধিমানের; সঙ্গে গরম জামা অবশ্যই — সাগরের ভোরের হাওয়া হাড় কাঁপায়! কপিল মুনির মন্দির দর্শন, সাগরতটের সূর্যোদয়, নাগা সন্ন্যাসীদের আখড়া, ভারতের নানা প্রান্তের তীর্থযাত্রীর মিলনমেলা — ধর্মবিশ্বাস যা-ই হোক, অভিজ্ঞতাটি মানব-দর্শনের। ফেরার পথে অনেকে জুড়ে নেন জয়দেব-কেঁদুলির বাউলমেলা কিংবা বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জ — পুণ্য আর ভ্রমণ একসঙ্গে!

ভারতজুড়ে সংক্রান্তি — এক সূর্য, শত উৎসব

মকর সংক্রান্তির প্যান-ইন্ডিয়ান রূপগুলি পাশাপাশি রাখলে ভারতের সাংস্কৃতিক ফেডারেলিজমের চমৎকার ছবি ফোটে। তামিলনাড়ুর পোঙ্গল — চার দিনের ফসল-উৎসব; নতুন চালের পোঙ্গল উপচে পড়া মানেই সমৃদ্ধি, 'পোঙ্গালো পোঙ্গল' ধ্বনি; জাল্লিকাট্টুর ষাঁড়-খেলাও এই পর্বেই। পাঞ্জাবের লোহরি (সংক্রান্তির আগের রাতে) — আগুন ঘিরে ভাংড়া, রেউড়ি-চিনাবাদাম নিবেদন; মাঘী স্নান পরদিন। গুজরাতের উত্তরায়ণ — আকাশজোড়া ঘুড়ি; আমেদাবাদের আন্তর্জাতিক কাইট ফেস্টিভ্যাল বিশ্ববিখ্যাত। অসমের ভোগালি (মাঘ) বিহু — ভেলাঘর-মেজির আগুন, পিঠা-লারু; নামেই 'ভোগ'-এর উৎসব। মহারাষ্ট্রে তিলগুল বিনিময় — "তিলগুল ঘ্যা, গোড় গোড় বোলা" (তিল-গুড় নাও, মিষ্টি কথা বলো — কী চমৎকার সামাজিক প্রোটোকল!); কর্ণাটকে এল্লু-বেল্লা, তেলুগু ভূমে ভোগি-সংক্রান্তি-কানুমা তিন দিনের পর্ব, উত্তরপ্রদেশ-বিহারে খিচড়ি পরব ও মাঘমেলার সূচনা, রাজস্থানে ঘুড়ি ও ফিনি। প্রতিটির মূল সুর কিন্তু এক — ফসল ঘরে তোলার কৃতজ্ঞতা, আগুন-আলোয় শীত জয়, তিল-গুড়ের মিষ্টত্বে সম্পর্কের নবায়ন। নবান্ন দিয়ে যে হেমন্ত-চক্র শুরু, মকর সংক্রান্তিতে তারই সর্বভারতীয় মহাসমাপন।

অজানা তথ্য — মকর সংক্রান্তি নিয়ে যা কম জানা

পুরাণে মকর সংক্রান্তি — ভীষ্ম, ভগীরথ ও সূর্য-শনির গল্প

মকর সংক্রান্তির মাহাত্ম্য-কথায় পুরাণের তিনটি আখ্যান বারবার ফেরে। প্রথমটি ভীষ্মের — কুরুক্ষেত্রের শরশয্যায় শুয়ে ইচ্ছামৃত্যুর বরধারী পিতামহ অপেক্ষা করেছিলেন দক্ষিণায়নের 'অন্ধকার পক্ষ' পেরিয়ে উত্তরায়ণের আলো ফেরার — শাস্ত্রবিশ্বাসে উত্তরায়ণে দেহত্যাগে মেলে মোক্ষের সহজ পথ; মহাভারতের এই আখ্যানই তিথিটির আধ্যাত্মিক ওজনের ভিত। দ্বিতীয়টি ভগীরথ-কাহিনি — কপিল মুনির অভিশাপে ভস্ম সগর-বংশের ষাট হাজার পুত্রের উদ্ধারে ভগীরথের তপস্যায় গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণ; বিশ্বাসমতে মকর সংক্রান্তির দিনেই ভগীরথের পিছু পিছু গঙ্গা মিশেছিলেন সাগরে — সেই মিলনবিন্দুই আজকের গঙ্গাসাগর, আর সেই স্মৃতিতেই সংক্রান্তি-স্নানের মহাফল। তৃতীয় আখ্যানটি পারিবারিক ও মধুর — এই দিনে সূর্যদেব পুত্র শনির গৃহে যান; পিতা-পুত্রের চিরকালীন মনোমালিন্য ভুলে মকর-গৃহে (শনির রাশি!) সূর্যের এই আগমন সম্পর্ক-মেরামতির প্রতীক — তিল-গুড়ের মিষ্টত্বে পুরোনো তিক্ততা ভোলার লোকাচারের পুরাণ-ভিত্তি এটিই; মহারাষ্ট্রের 'তিলগুল ঘ্যা, গোড় বোলা' সেই দর্শনেরই মিষ্টি স্লোগান। এর সঙ্গে যোগ করুন উত্তরায়ণ-দক্ষিণায়নের 'দেবযান-পিতৃযান' তত্ত্ব (গীতা-উপনিষদের আলোক-পথ ও ধূম-পথের রূপক), মকরবাহিনী গঙ্গার মূর্তিকল্প, আর কুম্ভ-চক্রের যোগ — মকর সংক্রান্তি আসলে ভারতীয় সময়-দর্শনের এক ঘনীভূত পাঠ: অন্ধকার ফুরোয়, আলো ফেরে — টিকে থাকার এই আশাবাদই তিথিটির চিরকালীন বার্তা। তিথি-নক্ষত্রের সেই গণনার জগৎ আর ১৪ জানুয়ারির পূর্ণ পঞ্জিকা — দুই-ই হাতের কাছে রইল!

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

মকর সংক্রান্তি ২০২৭ কবে?

২০২৭ সালে মকর সংক্রান্তি ১৪ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার — ২৯ পৌষ ১৪৩৩, পৌষ সংক্রান্তির দিন।

পৌষ পার্বণে কী কী পিঠে বানানো হয়?

নতুন চালের গুঁড়ি, নলেন গুড়, নারকেল ও দুধে তৈরি হয় ভাপা পিঠে, পাটিসাপটা, দুধপুলি, চিতই, সরুচাকলি, গোকুল পিঠে, আসকে পিঠে প্রভৃতি — সঙ্গে তিলের নাড়ু ও মোয়া।

গঙ্গাসাগর মেলা কোথায়, কবে হয়?

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে, গঙ্গা-সাগর সংগমে — প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে। কপিল মুনির আশ্রম দর্শন ও সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী সমবেত হন।

টুসু উৎসব কী?

পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রামসহ রাঢ় বাংলার লোকউৎসব — পৌষ মাসজুড়ে মেয়েরা টুসুদেবীর আরাধনায় টুসুগান গায় এবং মকর সংক্রান্তির ভোরে রঙিন চৌদলসহ নদীতে টুসু বিসর্জন দেয়।

মকর সংক্রান্তিতে কেন স্নান করা হয়?

সূর্যের মকর-প্রবেশ ও উত্তরায়ণ সূচনার এই পুণ্যক্ষণে গঙ্গাসহ পবিত্র নদী-সংগমে স্নানে পাপক্ষয় ও পুণ্যলাভ হয় বলে শাস্ত্রীয় বিশ্বাস; ভীষ্মের উত্তরায়ণ-প্রতীক্ষার কাহিনিও এই তিথির মাহাত্ম্য বাড়িয়েছে।


প্রতি বছরের তারিখ দেখুন মকর সংক্রান্তির পাতায়। পড়ুন নবান্নের কাহিনিপঞ্জিকার অজানা তথ্যপৌষ মাসের ক্যালেন্ডার এখানে

প্রচ্ছদ ছবি: Goutam1962, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 4.0

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার