← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

মহালয়া ২০২৬ — তর্পণ, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও দেবীপক্ষের সূচনার সম্পূর্ণ কাহিনি

📅 বিশেষ দিন  ·  ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার

১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবীপক্ষের সূচনার এই ভোরে গঙ্গার ঘাটে তর্পণ, রেডিওতে 'মহিষাসুরমর্দিনী' — মহালয়ার ইতিহাস, তাৎপর্য ও অজানা তথ্যের সম্পূর্ণ গাইড।

ভোর চারটে। রেডিওর নব ঘোরালেই ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি, আর তারপর সেই কণ্ঠ — "আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর…"। বাঙালির কাছে এই একটি ভোরের নাম মহালয়া — যে ভোরে ঘুম ভাঙলেই বোঝা যায়, মা আসছেন। এ বছর মহালয়া পড়েছে ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার (২৫ আশ্বিন ১৪৩৩) — আর তার ঠিক পাঁচ দিন পরেই, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে শুরু দুর্গা পূজা ২০২৬

কিন্তু মহালয়া মানে কি শুধু ভোরের রেডিও? এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পিতৃতর্পণের সহস্র বছরের ঐতিহ্য, মহাভারতের কর্ণের কাহিনি, আর এক অন্ধ ঘোষকের কণ্ঠের এমন জাদু, যা ৯০ বছরেও ম্লান হয়নি। সম্পূর্ণ কাহিনি রইল এই নিবন্ধে।

এক নজরে মহালয়া ২০২৬

মহালয়া মানে কী?

আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের পনেরো দিন হিন্দুশাস্ত্রে পিতৃপক্ষ — বিশ্বাস, এই পক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষেরা নেমে আসেন মর্ত্যের কাছাকাছি, উত্তরপুরুষের জলদানের প্রতীক্ষায়। এই পক্ষের শেষ দিন, অমাবস্যাটিই মহালয়া — পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণের মহাতিথি। 'মহালয়' শব্দের ব্যাখ্যায় পণ্ডিতেরা বলেন পিতৃলোকের মহান আলয় বা আশ্রয়ের কথা — এই দিনে জল পেয়ে তৃপ্ত পিতৃপুরুষেরা আশীর্বাদ করে ফিরে যান নিজলোকে।

আর ঠিক এখান থেকেই শুরু দেবীপক্ষ — অমাবস্যা পেরোলেই প্রতিপদ, দেবী দুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা। তাই মহালয়া এক আশ্চর্য সন্ধিক্ষণ: একদিকে পূর্বপুরুষের স্মৃতিতে সজল চোখ, অন্যদিকে উমার ঘরে ফেরার আনন্দে উদ্বেল মন। শোক আর উৎসব হাত ধরাধরি করে আসে — বাঙালির মতো করে এ দুটিকে মেলাতে আর কে পারে!

তর্পণ — গঙ্গার ঘাটে ভোরের জনসমুদ্র

মহালয়ার ভোরে কলকাতার বাবুঘাট, আহিরীটোলা, নিমতলা থেকে ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, নবদ্বীপ — হুগলির প্রতিটি ঘাটে নামে লক্ষ মানুষের ঢল। বুকজলে দাঁড়িয়ে, কুশ হাতে, সূর্যের দিকে মুখ করে চলে তর্পণ — "ওঁ পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ…" মন্ত্রে তিল-জল অঞ্জলি। শাস্ত্রমতে যাঁদের পিতা-মাতা প্রয়াত, তাঁরাই তর্পণ করেন; তবে জ্ঞাত-অজ্ঞাত সব পূর্বপুরুষ, এমনকি বন্ধু, গুরু, দেশের শহিদদের উদ্দেশেও জলদানের বিধান আছে — একে বলে বিশ্বতর্পণ।

মহাভারতে আছে এই তিথির বিখ্যাত কাহিনি — দানবীর কর্ণের গল্প। মৃত্যুর পর স্বর্গে কর্ণ খেতে পেলেন শুধু সোনা-রত্ন, অন্ন নয়; কারণ জীবদ্দশায় তিনি সোনা দান করেছেন অকাতরে, কিন্তু পিতৃপুরুষকে জল-অন্ন দেননি — জানতেনই না নিজের বংশপরিচয়। শেষে পনেরো দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে সেই ঋণ শোধ করেন কর্ণ — সেই পনেরো দিনই নাকি পিতৃপক্ষ। কাহিনিটি মনে করিয়ে দেয়: শিকড়কে জল না দিলে কোনো দানই সম্পূর্ণ নয়।

'মহিষাসুরমর্দিনী' — এক অনুষ্ঠান, এক জাতির ভোর

১৯৩০-এর দশকের গোড়ায় কলকাতা বেতারকেন্দ্রের কয়েকজন তরুণ এক আশ্চর্য পরিকল্পনা করলেন — মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ, গান আর ভাষ্যে গাঁথা এক আলেখ্য। বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজকুমার মল্লিকের সুর, আর ভাষ্যপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র — জন্ম নিল 'মহিষাসুরমর্দিনী'। প্রথম দিকে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো সরাসরি — ভোররাতে স্টুডিওতে গোল হয়ে বসতেন শিল্পীরা; সুপ্রীতি ঘোষের 'বাজল তোমার আলোর বেণু', দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের 'জাগো দুর্গা', আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণের স্তোত্রপাঠ — "যা দেবী সর্বভূতেষু…"।

নব্বই বছর পেরিয়েও প্রতি মহালয়ার ভোর চারটেয় আকাশবাণীতে বাজে সেই একই রেকর্ডিং (১৯৬৬ সালে ধারণ করা সংস্করণ) — সম্ভবত পৃথিবীর দীর্ঘতম ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত বেতার অনুষ্ঠানগুলির একটি। প্রজন্ম বদলেছে, রেডিও বদলে হয়েছে মোবাইল অ্যাপ — কিন্তু ভোরের সেই কণ্ঠ বদলায়নি।

১৯৭৬ সালে আকাশবাণী পরীক্ষা করেছিল — বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বদলে মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে নতুন অনুষ্ঠান 'দেবীং দুর্গতিহারিণীম্‌'। ফল? শ্রোতাদের ক্ষোভে ভেসে গেল বেতারকেন্দ্র; খোদ উত্তমকুমারও নাকি বিব্রত হয়েছিলেন। পরের বছর থেকে ফিরল বীরেন্দ্রকৃষ্ণের 'মহিষাসুরমর্দিনী' — প্রমাণ হলো, কিছু কণ্ঠ প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়, মহানায়ককে দিয়েও নয়।

মহালয়া ও দুর্গা পূজার সংযোগ

মহালয়ার দিনেই কুমোরটুলি-সহ বাংলার প্রতিমাশিল্পীদের স্টুডিওতে হয় এক পবিত্র পর্ব — চক্ষুদান। দেবী দুর্গার চোখ আঁকা হয় এই দিনে; মাটির প্রতিমা যেন প্রাণ পায় শিল্পীর শেষ তুলির টানে। বহু বনেদি বাড়িতে মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজোর ঘণ্টা — চণ্ডীপাঠ, ঠাকুরদালান ধোয়ামোছা, আগমনি গান। রেডিওর 'মহিষাসুরমর্দিনী' শেষ হতেই যে অলিখিত কাউন্টডাউন শুরু হয়, তার সমাপ্তি মহাষষ্ঠীর বোধনে

মনে রাখা ভালো — শাস্ত্রীয় বিচারে মহালয়া কিন্তু 'দুর্গা পূজার প্রথম দিন' নয়; এটি পিতৃপক্ষের সমাপ্তি। দেবীপক্ষের প্রতিপদ শুরু হয় তার পর থেকে। তবে বাঙালির হৃদয়ে ও ব্যবহারিক অর্থে মহালয়াই পুজোর বোধনধ্বনি — এ নিয়ে তর্ক চলে না!

তর্পণের নিয়মকানুন — কীভাবে, কখন, কী লাগে

মহালয়ার তর্পণ ঘিরে সাধারণ পাঠকের প্রশ্ন অনেক — সেগুলির সহজ উত্তর একসঙ্গে। তর্পণের প্রশস্ত সময় ভোর থেকে দুপুরের মধ্যে; স্নানযোগ্য নদী, পুকুর এমনকি বাড়িতে গঙ্গাজল মিশিয়েও তর্পণ চলে — শাস্ত্র জলাশয়কে গুরুত্ব দেয়, জাঁকজমককে নয়। লাগে সামান্যই — কুশ, তিল, জল, হরীতকী, পৈতে বা শুদ্ধবস্ত্র; কুশের আংটি (পবিত্র) ধারণ করে দক্ষিণমুখো হয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে অঞ্জলি — সঙ্গে নাম-গোত্র উচ্চারণ। যাঁরা মন্ত্র জানেন না, পুরোহিতের সাহায্য নেন; ঘাটে ঘাটে এদিন পুরোহিতরা দলে দলে তর্পণ করান। প্রয়াত পিতা-মাতার সন্তানরাই মূল অধিকারী, তবে গুরু, শ্বশুরকুল, বন্ধু, এমনকি যাঁদের কেউ জলদান করার নেই — সেই সব আত্মার উদ্দেশেও জলদানের উদার বিধান শাস্ত্রে আছে; একেই বলা হয় ভীষ্ম-তর্পণ ও বিশ্বতর্পণ। তর্পণ শেষে অনেকে দুঃস্থদের অন্ন-বস্ত্র দান করেন — পিতৃঋণ শোধের সম্পূর্ণতা সেখানেই। আর একটি ব্যবহারিক পরামর্শ — বাবুঘাট-আহিরীটোলার মূল ঘাটে ভোর পাঁচটার পরে ভিড় বাড়ে হু-হু করে; নিরিবিলিতে তর্পণ সারতে চাইলে ভোর চারটের 'মহিষাসুরমর্দিনী' শুনেই বেরিয়ে পড়া ভালো!

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র — কণ্ঠের আড়ালের মানুষটি

যে কণ্ঠ ছাড়া বাঙালির ভোর হয় না, সেই মানুষটির জীবন কিন্তু প্রচারের আলো থেকে দূরেই কেটেছে। উত্তর কলকাতার আহিরীটোলার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ (১৯০৫-১৯৯১) ছিলেন একাধারে বেতার-ভাষ্যকার, নাট্যকার, অভিনেতা, সংগঠক — আকাশবাণীর আদিযুগের সর্বঘটে উপস্থিত প্রাণপুরুষ। 'মহিষাসুরমর্দিনী'র সেই আবেগমথিত চণ্ডীপাঠ তিনি করতেন নিজস্ব ঢঙে — শুদ্ধ উচ্চারণের সঙ্গে নাটকীয় আবেগের অননুকরণীয় মিশেলে; রেকর্ডিংয়ের সময় স্তোত্রের ভাবে চোখের জলে ভেসে যাওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন সহশিল্পীরা। অথচ এই কিংবদন্তির শেষ জীবন কেটেছে প্রায় নিভৃতে — পেনশনহীন, অনাড়ম্বর; আক্ষেপ করে বলতেনও, মহালয়া এলেই সবার মনে পড়ে বীরেনবাবুকে! ১৯৯১-এ তাঁর প্রয়াণের পর তিন দশক পেরিয়েও প্রতি আশ্বিনে তিনি ফিরে আসেন — বাঙালির একমাত্র 'অমর সম্প্রচারক'। তাঁর সহযাত্রীদের কথাও স্মরণীয় — বাণীকুমারের আলেখ্য-রচনা, পঙ্কজ মল্লিকের সুরস্থাপত্য, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সুপ্রীতি ঘোষ, উৎপলা সেনদের কণ্ঠ — 'মহিষাসুরমর্দিনী' আসলে এক প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাদের যৌথ শিল্পকীর্তি।

আগমনি — মহালয়ার গানের ঐতিহ্য

মহালয়ার সাংস্কৃতিক শিকড় আরও গভীরে — বাংলার আগমনি-বিজয়া গানের পরম্পরায়। শাক্ত পদাবলির এই ধারায় দুর্গা কোনো দূরের দেবী নন — তিনি ঘরের মেয়ে উমা, বছরে একবার কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি আসেন; মা মেনকার প্রতীক্ষা, গিরিরাজের উদাসীনতা, উমার ঘরকন্নার খবর — রামপ্রসাদ সেন ও বিশেষত কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের পদে সেই মাতৃহৃদয়ের আকুতি অমর ("যাও যাও গিরি, আনিতে গৌরী…")। আশ্বিনের ভোরে ঘরে ঘরে এই গান গাওয়াই ছিল মহালয়া-পর্বের আদি রেওয়াজ — রেডিও এসে সেই ঐতিহ্যকেই দিয়েছে আধুনিক মহাকাব্যের রূপ। আজও 'মহিষাসুরমর্দিনী'র কাঠামোয় চণ্ডীপাঠের ফাঁকে ফাঁকে যে গানগুলি বাজে, তার অনেকগুলিই আগমনি ঘরানার উত্তরসূরি। সংগীত-গবেষকরা বলেন — পৃথিবীর খুব কম সংস্কৃতিতে দেবীবন্দনা এমন মা-মেয়ের পারিবারিক আখ্যানে বাঁধা; এ একান্তই বাংলার শাক্ত-মানবিকতা, যেখানে ভক্তি আর স্নেহ সমার্থক।

অজানা তথ্য — মহালয়া নিয়ে যা চমকে দেয়

রেডিও থেকে টেলিভিশন — মহালয়ার মিডিয়া-যাত্রা

'মহিষাসুরমর্দিনী'র সাফল্য মহালয়াকে করে তুলেছে বাংলা গণমাধ্যমের বার্ষিক মহারণ! আশির দশক থেকে টেলিভিশন এল প্রতিযোগিতায় — দূরদর্শনের ভোরের 'মহালয়া' অনুষ্ঠানে মহিষাসুরমর্দিনীর দৃশ্যরূপ; দেবী দুর্গার ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, সেই ঘোষণা আজ প্রতি আশ্বিনে টলিউডের সবচেয়ে চর্চিত 'কাস্টিং নিউজ' — সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে হালের প্রতিটি প্রথম সারির নায়িকা কখনো না কখনো মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পর্দায় এসেছেন; চ্যানেলে চ্যানেলে ভিএফএক্স-যুদ্ধ, অসুরদলনের কোরিওগ্রাফি, ভোর চারটের টিআরপি-লড়াই — বাংলা টেলিভিশনের অলিখিত 'সুপার বোল'! তবু আশ্চর্য — এত জৌলুসের পরেও রেডিও-সংস্করণের আসন টলেনি এক চুলও; সমীক্ষা বারবার দেখিয়েছে, বাঙালি টিভি 'দেখে', কিন্তু মহালয়া 'শোনে'। প্রযুক্তির প্রতিটি ঢেউয়ে অনুষ্ঠানটি নতুন বাহন পেয়েছে — ক্যাসেট-সিডির যুগ পেরিয়ে আজ ইউটিউব-স্পটিফাই-পডকাস্ট; আকাশবাণীর অ্যাপে লাইভ স্ট্রিমিং, প্রবাসীর টাইমজোন-মাফিক প্লেলিস্ট, এমনকি স্মার্ট স্পিকারে 'ওকে গুগল, মহিষাসুরমর্দিনী চালাও'! ভাষাতত্ত্বের মজার পর্যবেক্ষণ — 'মহালয়া' শব্দটিই বাঙালির মুখে অনুষ্ঠানটির সমার্থক হয়ে গেছে ("কাল ভোরে মহালয়া শুনবি তো?") — তিথির নাম যে মিডিয়া-অনুষ্ঠানের নামে রূপান্তরিত হয়ে যায়, বিশ্বে এমন নজির হাতে গোনা। সংস্কৃতি-গবেষকদের ব্যাখ্যায় এর রহস্য 'কালেকটিভ রিচুয়াল' — একই মুহূর্তে কোটি মানুষের একই শব্দ-অভিজ্ঞতা; ডিজিটাল যুগের বিচ্ছিন্নতায় এমন গণ-একাত্মতার সুযোগ বিরল বলেই ৯০ বছরের পুরোনো এক রেডিও-অনুষ্ঠান আজও বাঙালির শ্রেষ্ঠ 'কমিউনিটি ইভেন্ট'। ভোর চারটের অ্যালার্মটি তাই নিছক নস্টালজিয়া নয় — জাতিগত পরিচয়ের রিনিউয়াল নোটিস!

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

মহালয়া ২০২৬ কবে?

২০২৬ সালে মহালয়া ১২ অক্টোবর, সোমবার (২৫ আশ্বিন ১৪৩৩)। এই দিন পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে।

মহালয়ার কত দিন পরে দুর্গা পূজা ২০২৬?

মহালয়ার পাঁচ দিন পরে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার মহাষষ্ঠী দিয়ে দুর্গা পূজা শুরু; বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর, বুধবার।

মহালয়ায় তর্পণ কেন করা হয়?

মহালয়া অমাবস্যা পিতৃপক্ষের শেষ দিন — শাস্ত্রমতে এই দিনে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তিল-জল অঞ্জলি (তর্পণ) দিলে তাঁরা তৃপ্ত হয়ে আশীর্বাদ করেন। তাই ভোর থেকে গঙ্গা-সহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের ঘাটে তর্পণ চলে।

মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠান কে সৃষ্টি করেন?

আকাশবাণী কলকাতার এই কালজয়ী আলেখ্যর রচনা বাণীকুমারের, সংগীত পরিচালনা পঙ্কজকুমার মল্লিকের এবং অবিস্মরণীয় চণ্ডীপাঠ ও ভাষ্য বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের। ১৯৩০-এর দশক থেকে এটি মহালয়ার ভোরে প্রচারিত হয়ে আসছে।

মহালয়া কি শুভ দিন?

মহালয়া মূলত পিতৃতর্পণের স্মরণ-তিথি, তাই শাস্ত্রীয় মতে এদিন বিবাহাদি শুভকাজ হয় না; আবার দেবীপক্ষের সূচনা বলে দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। শুভকাজের দিন বাছতে দেখুন শুভ মুহূর্ত পাতা।


মহালয়ার প্রতি বছরের তারিখ পাবেন মহালয়ার পাতায়। দুর্গা পূজার সম্পূর্ণ সূচি দেখুন দুর্গা পূজার পাতায়, আর আশ্বিন মাসের ক্যালেন্ডারে এ মাসের সব তিথি।

প্রচ্ছদ ছবি: Indrajit Das, উইকিমিডিয়া কমন্স — CC BY-SA 4.0

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার