← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

ক্ষুদিরাম বসু — আঠারো বছরের শহিদ, ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে ওঠা বাংলার বিপ্লবী

🌟 ব্যক্তিত্ব  ·  ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার

১১ আগস্ট ১৯০৮, মাত্র ১৮ বছর বয়সে হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। মেদিনীপুরের গ্রাম থেকে মুজফ্‌ফরপুরের বোমা — ভারতের কনিষ্ঠতম শহিদ বিপ্লবীর সম্পূর্ণ জীবনকাহিনি ও অজানা তথ্য।

"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি" — এই একটি গানে বাংলার মায়েরা একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে চোখের জল ফেলছেন যাঁর জন্য, তিনি ক্ষুদিরাম বসু। বয়স তখন আঠারো বছর কয়েক মাস; মুখে অমলিন হাসি নিয়ে ছেলেটি উঠে গিয়েছিল মুজফ্‌ফরপুর জেলের ফাঁসির মঞ্চে। তারিখটি ছিল ১১ আগস্ট ১৯০৮ — এ বছর সেই আত্মবলিদানের ১১৮তম বার্ষিকী পড়েছে ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার (২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩)

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম শহিদদের একজন এই কিশোর বিপ্লবী কে ছিলেন? কেমন ছিল মেদিনীপুরের সেই গ্রাম্য কিশোরের ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত যাত্রা? এই নিবন্ধে ক্ষুদিরামের সম্পূর্ণ জীবনকথা।

এক নজরে ক্ষুদিরাম বসু

মেদিনীপুরের দুরন্ত কিশোর

১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুর জেলার হবিবপুর গ্রামে জন্ম ক্ষুদিরামের। বাবা ত্রৈলোক্যনাথ বসু, মা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। জন্মের আগে দুই ভাইকে হারিয়েছিলেন মা; প্রচলিত লোকাচার মেনে সদ্যোজাতকে তিন মুঠো খুদের (ভাঙা চালের) বিনিময়ে 'বিক্রি' করা হয়েছিল বড় দিদির কাছে — যাতে অকালমৃত্যু ছুঁতে না পারে। সেই খুদ থেকেই নাম 'ক্ষুদিরাম'। নিয়তির নির্মম পরিহাস — ছয়-সাত বছর বয়সের মধ্যে বাবা-মা দুজনকেই হারাল ছেলেটি; মানুষ হলো দিদি অপরূপার সংসারে।

স্কুলের পড়ায় মন ছিল না, কিন্তু ডানপিটে সাহসে জুড়ি ছিল না কারও। ১৯০২-০৩ নাগাদ মেদিনীপুরে স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণদের গুপ্ত সমিতির সংস্পর্শে এল কিশোর ক্ষুদিরাম — লাঠিখেলা, শরীরচর্চা আর দেশপ্রেমের পাঠ। ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গের আগুনে গোটা বাংলা যখন উত্তাল, পনেরো-ষোলো বছরের ক্ষুদিরাম তখন 'সোনার বাংলা' ইস্তাহার বিলি করতে গিয়ে প্রথমবার পুলিশের খাতায় নাম লেখাল — ধরা পড়েও পালিয়েছিল সিপাহির হাত ছাড়িয়ে! বিপ্লবী মহলে রটে গেল — মেদিনীপুরের এই ছেলেটির বুকের পাটা আলাদা ধাতুতে গড়া।

কিংসফোর্ড — যাঁর জন্য মুজফ্‌ফরপুর

কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ড তখন বিপ্লবীদের চোখে ঘৃণার প্রতীক — স্বদেশি মামলায় নির্মম সাজা আর তরুণ বিপ্লবী সুশীল সেনকে প্রকাশ্যে বেত মারার আদেশ দিয়ে তিনি বাংলার আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন। যুগান্তর গোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত হলো — কিংসফোর্ডকে চরম দণ্ড দেওয়া হবে। ব্রিটিশ সরকার আঁচ পেয়ে তাঁকে সরিয়ে দিল বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে; কিন্তু বিপ্লবীরা পিছু ছাড়লেন না।

দায়িত্ব পেল দুই তরুণ — ক্ষুদিরাম বসু আর প্রফুল্ল চাকী। ১৯০৮-এর এপ্রিলে ছদ্মনামে মুজফ্‌ফরপুরে পৌঁছে তারা দিনের পর দিন নজর রাখল কিংসফোর্ডের বাংলো আর ইউরোপিয়ান ক্লাবের গতিবিধিতে। ৩০ এপ্রিল রাতে ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসা ফিটন গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ল ক্ষুদিরাম — বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মুজফ্‌ফরপুর; ভারতের বিপ্লব-ইতিহাসে সেটিই প্রথম দিকের বোমা-অভিযানগুলির একটি। কিন্তু নিয়তি নিষ্ঠুর — গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না; প্রাণ হারালেন ব্যারিস্টার প্রিংল কেনেডির স্ত্রী ও কন্যা। এই নিরপরাধ মৃত্যু ক্ষুদিরামকেও ব্যথিত করেছিল — আদালতে সে জানিয়েছিল, লক্ষ্য ছিলেন কিংসফোর্ডই।

ধরা পড়া, বিচার ও ফাঁসির মঞ্চ

ঘটনার পর দু'জন দু'দিকে ছিটকে গেল। রেলস্টেশনে পুলিশের মুখোমুখি হয়ে প্রফুল্ল চাকী নিজের রিভলভারের শেষ গুলিতে আত্মবলিদান দিলেন — ব্রিটিশের হাতে ধরা দেবেন না বলে। আর প্রায় পঁচিশ মাইল হেঁটে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ক্ষুদিরাম ওয়াইনি স্টেশনের কাছে চায়ের দোকানে ধরা পড়ল — খালি পা, চোখে ঘুম নেই, তবু মুখে সেই হাসি।

বিচার চলল দ্রুত। কিশোর আসামির নির্ভীক জবানবন্দি দেখে বিচারকও নাকি বিস্মিত হয়েছিলেন — মৃত্যুদণ্ড শুনে ক্ষুদিরাম হেসেছিল, আর বিচারক জিজ্ঞেস করেছিলেন সে রায়ের অর্থ বুঝেছে কি না। প্রচলিত কাহিনি, ক্ষুদিরামের উত্তর ছিল — বুঝেছি; সময় পেলে বোমা বাঁধা শিখিয়ে দিয়ে যেতাম! ১১ আগস্ট ১৯০৮-এর ভোরে গীতা হাতে, হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠল আঠারো বছরের ছেলেটি। মুজফ্‌ফরপুর জেলের বাইরে সেদিন নীরব জনতার ঢল; বাংলায় ঘরে ঘরে জ্বলল না উনুন।

মৃত্যুর পরে ক্ষুদিরাম হয়ে উঠলেন কিংবদন্তি — চারণকবি পিতাম্বর দাসের 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি' গানে সেই আঠারো বছরের হাসিমুখ অমর হয়ে গেল; বাংলার তাঁতিরা বুনলেন 'ক্ষুদিরাম ধুতি', যার পাড়ে লেখা থাকত গানের কলি।

অগ্নিযুগের পটভূমি — যে বাংলায় বড় হয়েছিল ক্ষুদিরাম

ক্ষুদিরামকে বুঝতে হলে বুঝতে হবে তার সময়টাকে। ১৯০৫-এ কার্জনের বঙ্গভঙ্গ বাঙালির বুকে যে আগুন জ্বালিয়েছিল, আবেদন-নিবেদনের রাজনীতি তাকে ধারণ করতে পারেনি। বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল দুই কিংবদন্তি গুপ্ত সংগঠন — অনুশীলন সমিতি (১৯০২, প্রমথনাথ মিত্রের হাতে; বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, পুলিনবিহারী দাসদের নেতৃত্বে দুই বাংলায় শাখা) আর যুগান্তর গোষ্ঠী, যার মুখপত্র 'যুগান্তর' পত্রিকার আগুনঝরা লেখা তরুণদের ডাকত মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রে। ব্যায়ামাগার, লাঠি-তলোয়ার খেলা, গীতা-পাঠ আর স্বদেশমন্ত্র — আখড়ায় আখড়ায় তৈরি হচ্ছিল আত্মোৎসর্গের প্রজন্ম; বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' ছিল তাদের গসপেল, 'বন্দেমাতরম্‌' রণধ্বনি। ঋষি অরবিন্দ ও ভগিনী নিবেদিতার লেখা-ভাষণ জোগাত আদর্শের রসদ। মেদিনীপুর ছিল এই বিপ্লব-মানচিত্রের অন্যতম উর্বর জেলা — সত্যেন্দ্রনাথ বসুর (মাস্টারমশাই সত্যেন বসু) হাতে গড়া গুপ্ত সমিতিতেই কিশোর ক্ষুদিরামের হাতেখড়ি; পরে এই মেদিনীপুরই ব্রিটিশ জেলাশাসকদের কাছে হয়ে উঠবে 'আতঙ্কের জেলা' — পরপর তিন ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হবেন বিপ্লবীদের হাতে (১৯৩০-এর দশকে)। ক্ষুদিরাম সেই দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রথম উজ্জ্বল কড়া।

মুজফ্‌ফরপুর মামলার আর এক তাৎপর্য — এর সূত্রেই পুলিশ হানা দেয় কলকাতার মানিকতলার মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে; শুরু হয় ঐতিহাসিক আলিপুর বোমা মামলা (১৯০৮-০৯), যাতে অভিযুক্ত হন স্বয়ং অরবিন্দ ঘোষ — দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অমর সওয়ালে তিনি মুক্তি পান। আদালতে দেশবন্ধুর সেই ভবিষ্যদ্বাণী আজও উদ্ধৃত হয় — ইতিহাস একদিন এই মানুষদের দেখবে দেশপ্রেমের কবি ও নবজাগরণের দূত হিসেবে। ক্ষুদিরামের বোমা তাই শুধু একটি বিস্ফোরণ নয় — গোটা বিপ্লবযুগের বিস্ফোরণ-বিন্দু।

ক্ষুদিরাম-জীবনপঞ্জি

গানে-সাহিত্যে-স্মৃতিতে ক্ষুদিরাম

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ক্ষুদিরাম উঠে গেলেন লোকগাথায়। পিতাম্বর দাসের 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি' মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল এমনই যে ব্রিটিশ পুলিশ গানটির প্রকাশ্য গাওয়াও নজরদারিতে রাখত; পরবর্তীকালে লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে রেকর্ড হয়ে গানটি পেল সর্বভারতীয় অমরত্ব। তাঁতের ধুতির পাড়ে ফাঁসির মঞ্চের ছবি আর গানের কলি বোনা 'ক্ষুদিরাম ধুতি' হয়ে উঠল নীরব প্রতিবাদের পোশাক — পরা মাত্রই পুলিশের খাতায় নাম! মেদিনীপুরের মোহবনিতে জন্মভিটে আজ সংগ্রহশালা; কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে মুজফ্‌ফরপুর — মূর্তিতে মূর্তিতে সেই কিশোর মুখ; মুজফ্‌ফরপুরে তাঁর নামে শহিদ স্মারক ও ছাত্রাবাস, আর যে স্টেশনে ধরা পড়েছিলেন, তার নামই আজ 'ক্ষুদিরাম বোস পুসা'। বাংলা নাটক-যাত্রার তো তিনি চির-নায়ক — স্বাধীনতার আগে 'ক্ষুদিরাম' পালা মঞ্চস্থ করাই ছিল রাজদ্রোহ; আজ প্রতি ১১ আগস্ট আর ৩ ডিসেম্বর সেই পালাই শ্রদ্ধার্ঘ্য। ২০২৬-এর ১১ আগস্ট তাঁর ১১৮তম আত্মবলিদান দিবস — মেদিনীপুর থেকে মুজফ্‌ফরপুর, প্রভাতফেরি বেরোবে ঠিকই।

অজানা তথ্য — ক্ষুদিরাম সম্পর্কে যা কম জানা যায়

কেন ক্ষুদিরাম আজও প্রাসঙ্গিক

ক্ষুদিরামের ফাঁসি ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল যেভাবে, তা কোনো সামরিক বিজয়ের চেয়ে কম নয় — কারণ সাম্রাজ্য বুঝে গিয়েছিল, যে দেশের আঠারো বছরের ছেলে হাসতে হাসতে মরতে পারে, তাকে বেশিদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। ক্ষুদিরামের পথ বেয়েই এসেছে মাস্টারদার চট্টগ্রাম বিদ্রোহ, আজাদ হিন্দ ফৌজ, আর শেষমেশ ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা। প্রতি বছর ১১ আগস্ট তাই শুধু শোকের দিন নয় — বাঙালির সাহসের জন্মদিনও।

মেদিনীপুর — বিপ্লবের জেলা, ক্ষুদিরামের উত্তরাধিকার

ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান তাঁর জন্মজেলাকে দিয়ে গিয়েছিল এক জ্বলন্ত উত্তরাধিকার — পরবর্তী দশকগুলিতে মেদিনীপুর হয়ে উঠল ব্রিটিশ প্রশাসনের দুঃস্বপ্ন। ১৯৩০-এর দশকে আইন অমান্য আন্দোলনের উত্তাল পর্বে এই এক জেলাতেই পরপর তিন ইংরেজ জেলাশাসক বিপ্লবীদের গুলিতে নিহত হন — পেডি (১৯৩১), ডগলাস (১৯৩২), বার্জ (১৯৩৩); ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রে রটে গিয়েছিল, মেদিনীপুরের কালেক্টরি মানে মৃত্যুর পরোয়ানা! বিমল দাশগুপ্ত, প্রভাংশু পাল, প্রদ্যোত ভট্টাচার্য, মৃগেন দত্ত, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ — ফাঁসি ও দ্বীপান্তরের এই তালিকায় অধিকাংশই ক্ষুদিরামের মতোই কিশোর-তরুণ; প্রদ্যোতের বয়স ছিল উনিশ, মৃগেনের কুড়ির ঘরে। আর ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো পর্বে এই জেলাই দেখাল গণ-বিপ্লবের চূড়া — তমলুকে গঠিত হলো 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' (বিদ্যুৎবাহিনী-সহ পূর্ণাঙ্গ সমান্তরাল প্রশাসন, চলেছিল ১৯৪৪ পর্যন্ত!), আর ৭৩ বছরের মাতঙ্গিনী হাজরা তেরঙা হাতে গুলির সামনে বুক পেতে ইতিহাসে অমর হলেন — 'গান্ধীবুড়ি'র রক্তে মিশে গেল ক্ষুদিরামের ধারা। ইতিহাসবিদরা হিসাব কষে দেখিয়েছেন — আন্দামান সেলুলার জেলের বন্দি-তালিকায় মেদিনীপুরের নাম জেলা-ভিত্তিক তালিকার একেবারে ওপরের সারিতে। একটি আঠারো বছরের ছেলের হাসিমুখের ফাঁসি একটি জনপদকে কী করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জাগিয়ে রাখে — মেদিনীপুর তার জীবন্ত কেস-স্টাডি; সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় 'শহিদের গুণক-প্রভাব', আর বাংলার ভাষায় — রক্তবীজ। আজকের পশ্চিম মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম-পূর্ব মেদিনীপুরের স্কুলপাঠ্য, মূর্তি, মেলা, ক্লাবের নাম — সর্বত্র সেই উত্তরাধিকারের স্বাক্ষর; স্বাধীনতার মহাফেজখানায় মেদিনীপুরের পাতাগুলি তাই সবচেয়ে রক্তাক্ত, সবচেয়ে গর্বের।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি কবে হয়েছিল?

১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট, বিহারের মুজফ্‌ফরপুর জেলে ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৮ মাস। ২০২৬ সালে তাঁর আত্মবলিদান দিবস পড়েছে ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার।

ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম কোথায়?

১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর, অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার হবিবপুর (মোহবনি) গ্রামে ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম।

মুজফ্‌ফরপুরে কাকে মারতে বোমা ছোড়া হয়েছিল?

লক্ষ্য ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ড, যিনি স্বদেশি আন্দোলনকারীদের নির্মম সাজা দিয়ে কুখ্যাত ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত গাড়িতে ছিলেন ব্যারিস্টার কেনেডির স্ত্রী ও কন্যা, তাঁরাই নিহত হন।

প্রফুল্ল চাকীর কী হয়েছিল?

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে রেলস্টেশনে নিজের রিভলভারের গুলিতে আত্মবলিদান দেন প্রফুল্ল চাকী — ব্রিটিশের হাতে বন্দি হওয়ার চেয়ে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছিলেন উনিশ বছরের এই বিপ্লবী।

'একবার বিদায় দে মা' গানটি কার লেখা?

ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর চারণকবি পিতাম্বর দাসের লেখা এই শোকগাথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং আজও বাংলার অন্যতম আবেগময় দেশাত্মবোধক গান হয়ে আছে।


অগ্নিযুগের আরও কাহিনি পড়ুন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনস্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস নিবন্ধে। প্রতিদিনের তিথি-নক্ষত্র দেখুন আজকের পঞ্জিকায়

প্রচ্ছদ ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স — পাবলিক ডোমেন

সম্পর্কিত পাতা

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার