🏛️ ইতিহাস · ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
লাল মাটির দেশ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে গড়ে ওঠা বিশ্বখ্যাত টেরাকোটা মন্দিরসমূহের রোমাঞ্চকর ইতিহাস, মল্ল রাজাদের বৈষ্ণব ভক্তি এবং পোড়ামাটির অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও বিবরণ।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার এক প্রাচীন ও গৌরবময় শহর বিষ্ণুপুর। ধান্যক্ষেত্রের সবুজ সীমানা পেরিয়ে যেখানেই চোখ যায়, দেখা মেলে লাল ল্যাটেরাইট মাটির বিস্তৃত প্রান্তর। তবে বিষ্ণুপুর কেবল তার প্রাকৃতিক রূপের জন্য বিখ্যাত নয়; এই লাল মাটিই রূপ নিয়েছে এক কালজয়ী স্থাপত্যকলায়, যা বিশ্বদরবারে পরিচিত 'বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির' নামে। পাথরবিহীন পলিমাটির বাংলায় পোড়ামাটির ইট ও টাইলসের ওপর যেভাবে পুরাণ, সমাজজীবন ও আধ্যাত্মিক চেতনার গল্প খোদাই করা হয়েছে, তা পৃথিবীর স্থাপত্য ইতিহাসে বিরল।
মল্ল রাজাদের ছত্রছায়ায় ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই মন্দিরগুলো শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং তৎকালীন বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং চারুকলাবিদ্যার এক জীবন্ত দলিল। একসময় যে মল্লভূম সামরিক শক্তিতে বলীয়ান ছিল, বৈষ্ণব ধর্মের স্পর্শে তা কীভাবে এক অনুপম শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত হলো—তা জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে বিষ্ণুপুরের ইতিহাস ও মন্দির স্থাপত্যের গভীর শিকড়ে।
বিষ্ণুপুরের মন্দির স্থাপত্যের গল্প বুঝতে হলে মল্ল রাজবংশের ইতিহাস জানা অপরিহার্য। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল 'মল্লভূম' বা মল্ল রাজাদের রাজ্য। আনুমানিক ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মল্ল রাজা রঘুনাথ বা 'আদি মল্ল' এই রাজবংশের পত্তন করেন। তবে মল্ল রাজাদের শক্তি ও খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছাতে বেশ কয়েক শতাব্দী সময় লেগেছিল।
রাজা জগৎ মল্ল ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য শাসনকালে রাজধানী প্রদ্যুম্নপুর থেকে স্থানান্তর করে বিষ্ণুপুরে নিয়ে আসেন। লোকশ্রতি রয়েছে, রাজা জগৎ মল্ল যখন শিকারে বের হয়েছিলেন, তখন একটি ছোট্ট বুনো শিকারি কুকুরকে একটি বিশালাকার বুনো হাঁসের তাড়া খেতে দেখেন। রাজা বিস্মিত হয়ে ভাবেন, এই মাটির শক্তিতেই এমন তেজ লুকিয়ে আছে। তিনি কালবিলম্ব না করে এখানেই নিজের রাজপ্রাসাদ ও রাজধানী স্থাপন করেন। বিষ্ণুর উপাসক মল্ল রাজাদের আরাধ্যা দেবীর নামানুসারে এবং বিষ্ণু ভক্তির প্রতীক হিসেবে এই নগরের নাম রাখা হয় 'বিষ্ণুপুর'।
তবে বিষ্ণুপুরের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক স্বর্ণযুগ সূচনা হয় ৪৯তম মল্ল রাজা বীর হাম্বীরের আমলে (১৫৬৫-১৬২০ খ্রিস্টাব্দ)।
বীর হাম্বীর ছিলেন এক পরাক্রান্ত ও দস্যুভাবাপন্ন মল্ল রাজা। তিনি প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে লুণ্ঠন চালাতেন। ইতিহাস বলে, তৎকালীন বৈষ্ণব সাধক শ্রীনিবাস আচার্য যখন বৃন্দাবন থেকে সনাতন গোস্বামী ও রূপ গোস্বামীর মূল্যবান বৈষ্ণব গ্রন্থাবলী নিয়ে বাংলায় ফিরছিলেন, তখন বীর হাম্বীরের অনুচররা সেই রাজকীয় গ্রন্থপেটিকা ধনসম্পদ মনে করে চুরি করে বিষ্ণুপুরে নিয়ে আসে।
কিন্তু গ্রন্থপেটিকা খুলে যখন রাজা বীর হাম্বীর শ্রীনিবাস আচার্যের মুখে 'ভাগবত' পাঠ ও ব্যাখ্যা শুনলেন, তখন তাঁর হৃদয় আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেল। শস্ত্র পরিত্যাগ করে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হলেন। বীর হাম্বীর কেবল নিজেই বৈষ্ণব হলেন না, পুরো মল্লভূমকে বৈষ্ণব সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত করলেন।
এই ভক্তি আন্দোলনের জোয়ারেই বিষ্ণুপুরে শুরু হয় মন্দির নির্মাণের মহোৎসব। পাথরের অপ্রতুলতার কারণে বাংলার কাদা মাটি দিয়ে তৈরি ইট পুড়িয়ে তাকে অলঙ্কৃত করার যে লোকশিল্প আগে থেকে প্রচলিত ছিল, মল্ল রাজারা তাকে রাজকীয় মর্যাদা দিলেন। গড়ে উঠল একটার পর একটা টেরাকোটা বা পোড়ামাটির মন্দির।
'টেরাকোটা' (Terracotta) একটি ইতালীয় শব্দ, যার অর্থ 'পোড়ানো মাটি' (Baked Earth)। কাদা মাটি দিয়ে বিভিন্ন পাত্র, ফলক বা ফলকের ওপর কারুকার্য গড়ে তুলে তা আগুনে পুড়িয়ে শক্ত ও স্থায়ীরূপ দেওয়াকেই টেরাকোটা শিল্প বলা হয়।
বাংলায় পাথর বা গ্রানাইটের খনি ছিল অত্যন্ত সীমিত। সমতল ও পলিগঠিত গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে পাথর সরবরাহ করা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। অথচ বাংলার মাটি ছিল উর্বর, নমনীয় এবং সহজে রূপদানযোগ্য। তাই বাংলার কারিগররা মাটি দিয়েই ইটের পর ইট সাজিয়ে সুউচ্চ মন্দির তৈরির পথ খুঁজে পান।
বিষ্ণুপুরের মাটিকে প্রথমে ভালোভাবে ছাঁকা হতো, তারপর তা পদদলিত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। কাঠের ছাঁচে বা হাতে খোদাই করে নানা দেব-দেবী, রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্য, এবং সামাজিক জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হতো। এরপর নির্দিষ্ট উত্তাপে কাঠকয়লার আগুনে তা পোড়ানো হতো। তৈরি হতো লালচে-বাদামি রঙের শক্ত টেরাকোটা প্লেট বা টাইলস। এগুলো চুন-সুরকি ও ভেজানো বেল-কৈথ ইত্যাদির বিশেষ মিশ্রণ দিয়ে মন্দিরের গায়ে বসিয়ে দেওয়া হতো।
বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলোকে কেবল এক ধরনের স্থাপত্যে ফেলা যায় না। মল্ল রাজাদের স্থপতিরা বাংলার নিজস্ব গ্রামীণ কুঁড়েঘরের গড়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। এখানে মূলত চার ধরনের স্থাপত্যশৈলী দেখা যায়:
১. চালা শৈলী (এক-চালা, জোর-বাংলা, চার-চালা, আট-চালা) ২. রত্ন শৈলী (এক-রত্ন, পঞ্চ-রত্ন, নব-রত্ন) ৩. দালান শৈলী (সমতল ছাদবিশিষ্ট) ৪. পিরামিড বা বিশিষ্ট মণ্ডপ শৈলী (যেমন রাসপঞ্চচূড়া বা রাসমঞ্চ)
নিচে বিষ্ণুপুরের প্রধান ও ঐতিহাসিক মন্দিরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাজা বীর হাম্বীর দ্বারা নির্মিত 'রাসমঞ্চ' বিষ্ণুপুরের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে অনন্য স্থাপত্য। বিশ্বের কোথাও এই ধরনের গঠনের অন্য কোনো স্থাপত্য দেখা যায় না।
১৬৫৫ খ্রিস্টাব্দে মল্ল রাজা রঘুনাত সিং নির্মিত এই মন্দিরটি বাংলার 'চালা' স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা রঘুনাত সিং নির্মিত এই মন্দিরটি বিষ্ণুপুরের 'পঞ্চরত্ন' বা পাঁচ চূড়াবিশিষ্ট স্থাপত্যের অনন্য উদাহরণ।
১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা দুর্জন সিং নির্মিত 'এক-রত্ন' শৈলীর এই মন্দিরটি আজও এক জীবন্ত উপাসনালয়।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত রাধাশ্যাম মন্দিরটি ল্যাটেরাইট বা মাকড়া পাথরের তৈরি হলেও এর ওপর সূক্ষ্ম পঙ্ক (stucco) ও পোড়ামাটির কারুকার্য দেখা যায়। আবার নন্দলাল মন্দিরটি এক-রত্ন শৈলীর এক পরিচ্ছন্ন নিদর্শন।
বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্পী ও স্থপতিরা কেবল ধর্মীয় ভাবাবেগে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা মন্দিরের গায়ে যা খোদাই করেছেন, তা তৎকালীন সমাজের আয়না স্বরূপ। বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
টেরাকোটা ফলকগুলোতে দেখা যায় মল্ল রাজাদের শিকারের দৃশ্য—হাতি বা ঘোড়ায় চেপে তীর-ধনুক ও বল্লম হাতে শিকারিরা। দেখা যায় মল্লযোদ্ধাদের কুস্তি, নর্তকীদের নাচ, বাদ্যযন্ত্র বাজানোর দৃশ্য।
অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয় হলো, বিষ্ণুপুরের কয়েকটি মন্দিরে টুপি পরা পর্তুগিজ বা ওলন্দাজ বণিক ও সৈন্যদের ছবি খোদাই করা আছে। বঙ্গোপসাগর ও রূপনারায়ণ নদ ধরে আসা ইউরোপীয় বণিকদের পোশাক, বন্দুক ও জাহাজের ছবিও স্থান পেয়েছে মন্দিরগাত্রে।
বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলো কেবল নির্জন স্থাপত্য ছিল না; এগুলো ছিল তৎকালীন সামাজিক উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। তৎকালীন মল্লভূমে উদযাপিত উৎসবগুলো বাংলা পঞ্জিকা এবং তিথিনক্ষত্রের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা সংস্কৃতির সাথে আরও কয়েকটি শিল্পাঙ্গন ও ঐতিহ্যের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে:
মল্ল রাজারা সঙ্গীতের পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ধ্রুপদ সঙ্গীতের যে নিজস্ব ধারা বিষ্ণুপুরে গড়ে ওঠে, তা 'বিষ্ণুপুর ঘরানা' নামে পরিচিত। বৈষ্ণব ভাবাশ্রিত এই শাস্ত্রীয় ধারা বাংলার সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দিরের দেওয়ালচিত্রের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে বাংলার বিখ্যাত 'বালুচরী শাড়ি'র আঁচলে। রেশম সুতোয় বুননের মাধ্যমে শাড়ির আঁচলে ও পাড়ে রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্য ও টেরাকোটার অনুকরণে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
বিষ্ণুপুর ও তার নিকটবর্তী পঞ্চমুড়া গ্রামের বিখ্যাত লম্বাকান ও সুউচ্চ গ্রীবার পোড়ামাটির ঘোড়া আজ বিশ্বজুড়ে ভারতীয় লোকশিল্পের প্রতীক। টেরাকোটা মন্দিরের কারিগরদের ঐতিহ্যবাহী বংশধররাই আজও এই শিল্প বাঁচিয়ে রেখেছেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝড়-বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং লোনা ধরার কারণে টেরাকোটার ফলকগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল। বর্তমানে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI) বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলোর সার্বিক দেখভাল ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।
বিষ্ণুপুরের এই অনন্য স্থাপত্যসম্ভারকে ইউনেস্কোর (UNESCO) বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের (World Heritage Site) সম্ভাব্য তালিকায় (Tentative List) রাখা হয়েছে। সঠিকভাবে রাসায়নিক সংরক্ষণ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে বিষ্ণুপুর বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে স্থান পাবে।
পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিষ্ণুপুর পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ:
বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির কেবল ইটের তৈরি কিছু ইমারত নয়; এটি বাংলার লাল মাটির সাথে বাঙালির আবেগ, ভক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও ইতিহাসের এক অনুপম মেলবন্ধন। মল্ল রাজাদের দূরদর্শিতা এবং নামহীন হাজারও মৃৎশিল্পীর আঙুলের ছোঁয়ায় যে কাব্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও আমাদের গর্বিত করে।
ইটের পর ইট সাজিয়ে পোড়ামাটিতে খোদাই করা জীবনের এই মহাকাব্য আজও পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া অতীত গৌরব ও লোকশিল্পের সেই উজ্জ্বল অধ্যায়কে কাছ থেকে অনুভব করতে জীবনে অন্তত একবার হলেও বিষ্ণুপুরের এই লাল মাটির দেওয়ালগুলোর মুখোমুখি দাঁড়ানো উচিত।
গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বাঁকুড়া ও তার আশপাশের সমতল অঞ্চলে পাথরের প্রাকৃতিক উৎস অত্যন্ত অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় ল্যাটেরাইট ও কাদা মাটি ছিল অত্যন্ত নমনীয় এবং সহজে ছাঁচে ফেলার উপযোগী। তাই বাংলার কারিগররা মাটি পুড়িয়ে শক্ত ইট ও অলঙ্কৃত ফলক বানিয়ে মন্দির নির্মাণের এই অনন্য শৈলী উদ্ভাবন করেন।
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত রাসমঞ্চটি বিশ্বের অন্যতম অনন্য স্থাপত্য, কারণ এর ওপরের অংশটি মিশরীয় পিরামিডের মতো ধাপে ধাপে উঠে গেছে এবং এর চারপাশ ইটের খিলানে ঘেরা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেবতার নিত্য উপাসনালয় ছিল না; কার্তিক মাসের রাস পূর্ণিমায় বিষ্ণুপুরের সব মন্দিরের বিগ্রহ এনে এখানে উৎসবে রাখা হতো।
রাজা বীর হাম্বীর বৈষ্ণব সাধক শ্রীনিবাস আচার্যের সংস্পর্শে এসে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। এর ফলে মল্লভূমে বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রসার ঘটে। সামরিক দুর্গ বা প্রাসাদের চেয়েও রাধাকৃষ্ণ ও বিষ্ণুর আরাধনায় নিবেদিত সুদৃশ্য টেরাকোটা মন্দির গঠনে রাজকীয় উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। মন্দিরের গায়ে রাধাকৃষ্ণের রাসলীলা, রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের কাহিনি খোদাই করা শুরু হয়।
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শরৎ ও শীতকাল) বিষ্ণুপুর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময় আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে। এছাড়া শীতকালে (সাধারণত ডিসেম্বর মাসে) আয়োজিত 'বিষ্ণুপুর উৎসব'-এর সময় গেলে স্থানীয় হস্তশিল্প, পোড়ামাটির কাজ, বালুচরী শাড়ি এবং বিষ্ণুপুর ঘরানার সঙ্গীত পরিবেশনা একসাথে প্রত্যক্ষ করা যায়।