← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭: ভাগীরথীর তীরে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার রক্তঝরা মহাকাব্য

🏛️ ইতিহাস  ·  ৩১ আগস্ট ২০২৬, সোমবার

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আমবাগানে কী ঘটেছিল? নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ২০০ বছরের ব্রিটিশ পরাধীনতার সূচনার রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

ভূমিকা: ইতিহাসকে থমকে দেওয়া এক দিন

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন। বাংলা পঞ্জিকা মতে, সেদিন ছিল ১১৬৪ বঙ্গাব্দের ১০ই আষাঢ়। নদীয়া জেলার ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী পলাশীর আমবাগানে সূর্যাস্তের সাথে সাথে শুধু একটি যুদ্ধ শেষ হয়নি, বরং বিলুপ্ত হয়েছিল সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতা। প্রায় দুশো বছরের গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশ।

পলাশীর যুদ্ধ কেবল দুটি পরাশক্তির মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল চক্রান্ত, বিশ্বাসঘাতকতা, ব্যক্তিগত লোভ এবং রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীন ষড়যন্ত্রের এক করুণ নাটক। তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার ট্র্যাজিক পতন এবং রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। আজকের নিবন্ধে আমরা পলাশীর যুদ্ধের সেই রক্তঝরা দিন, তার পেছনের নেপথ্য কারণ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


সিরাজউদ্দৌলার উত্থান ও মসনদের চারপাশের ঝড়

১৭৫৬ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলার পরাক্রমশালী নবাব আলীবর্দী খান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর প্রিয় দৌহিত্র ২৩ বছর বয়সী যুবক সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার মসনদের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। কিন্তু সিরাজের এই মসনদ আরোহণ সহজ ছিল না। সিংহাসনে বসার পর থেকেই তাঁকে ঘেরাও করে ফেলেছিল আত্মীয় ও দরবারীদের চক্রান্ত।

রাজপ্রাসাদের প্রধান শত্রুগণ:

নবীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘসেটি বেগমকে গৃহবন্দী করেন এবং শৌকত জংকে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেন। কিন্তু দরবারের অভ্যন্তরীণ এই বিদ্বেষ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এক সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।


ইংরেজদের ঔদ্ধত্য ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ

ইউরোপে ফরাসি ও ইংরেজদের মধ্যে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ শুরু হলে বাংলায় অবস্থানরত ব্রিটিশ ও ফরাসি উভয় শক্তিই নিজ নিজ বাণিজ্য কুঠি সুরক্ষিত করতে শুরু করে। সিরাজউদ্দৌলা স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, কোনো বিদেশী বণিক বাংলায় দুর্গ নির্মাণ করতে পারবে না। ফরাসিরা নবাবের আদেশ মেনে নিলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তা অমান্য করে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের সংস্কার কাজ চালিয়ে যায়।

এর পাশাপাশি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কয়েকটি প্রধান অপরাধ করে: ১. দস্তকের অপব্যবহার: ইংরেজ কর্মচারীরা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা (দস্তক) ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহার করে নবাবের রাজস্বের ক্ষতি করছিল। ২. রাজদ্রোহীকে আশ্রয় প্রদান: নবাবের বিদ্রোহী অমাত্য রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস বিপুল ধনসম্পদ চুরি করে ইংরেজদের কাছে আশ্রয় নিলে ইংরেজরা তাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করে। ৩. নবাবের দূতকে অপমান: সিরাজের প্রেরিত দূতকে কলকাতা থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়।

ক্ষুব্ধ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের জুনে কলকাতা অভিযান করেন। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করেন এবং কলকাতার নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'আলিনগর'। এই সময় তথাকথিত 'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নিয়ে ইংরেজ ইতিহাসবিদ জেন ফোলওয়েল এক মনগড়া গল্প ফাঁদেন, যা পরবর্তীতে রবার্ট ক্লাইভকে বাংলায় সামরিক অভিযান চালানোর বাহানা জুগিয়েছিল।


রবার্ট ক্লাইভের আগমন ও পলাশীর গোপন ষড়যন্ত্র

কলকাতার পতন সংবাদ মাদ্রাজে পৌঁছালে সেখান থেকে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের নেতৃত্বে এক শক্তিশালী জল ও স্থলবাহিনী কলকাতায় পাঠানো হয়। ১৭৫৭ সালের শুরুতে ক্লাইভ কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন এবং নবাবকে ‘আলিনগর সন্ধি’ স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।

তবে ক্লাইভ ভালো করেই জানতেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলায় ইংরেজ বাণিজ্য বা ক্ষমতার প্রসার নিরাপদ নয়। তাই তিনি সামরিক শক্তির চেয়ে চক্রান্তের পথ বেছে নেন।

মীর জাফরের সাথে গোপন চুক্তি:

ক্লাইভ অনুভব করেছিলেন যে, সিরাজের দরবারেই তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুরা বসে আছে। তিনি জগৎ শেঠ ও উমিচাঁদের মধ্যস্থতায় নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের সাথে গোপনে যোগাযোগ করেন। ১৭৫৭ সালের ৪ঠা জুন এক গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার শর্ত ছিল:


২৩ জুন ১৭৫৭: পলাশীর আমবাগানে রক্তঝরা প্রান্তর

১৭৫৭ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্লাইভ মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ২৩শে জুন ভোরে পলাশীর আমবাগানে (যাকে লক্ষবাঘ বলা হতো) মুখোমুখি হয় দুই বাহিনী।

দুই বাহিনীর সামরিক ভারসাম্য:

নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী:

রবার্ট ক্লাইভের বাহিনী:

কাগজে-কলমে সিরাজের বাহিনী ছিল ইংরেজদের চেয়ে ১৫ গুণেরও বেশি শক্তিশালী। যদি এই বাহিনী একযোগে আক্রমণ করত, তবে ক্লাইভের অস্তিত্ব মিনিটেই মুছে যেত।


আষাঢ়ের বৃষ্টি ও ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্ত

২৩শে জুন সকাল আটটায় যুদ্ধ শুরু হয়। ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে এবং নবাবের অনুগত মহান সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলাল ইংরেজ শিবিরের ওপর মারাত্মক কামান হামলা চালান। ক্লাইভের বাহিনী আমবাগানের সীমানা প্রাচীরের পেছনে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের প্রথমার্ধে নবাবের জয় সুনিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু দুপুর বারোটার দিকে বাংলার বর্ষার চিরাচরিত চরিত্র ফুটে ওঠে। আকাশ ভেঙে নেমে আসে প্রবল আষাঢ়ের বৃষ্টি।

বারুদ ও বৃষ্টির খেসারত:

ইংরেজরা তড়িঘড়ি করে তাদের কামান ও বারুদ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলে। কিন্তু নবাবের বাহিনীর অসাবধানতায় তাঁদের গোলাবারুদ ও বারুদ সম্পূর্ণ ভিজে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বৃষ্টি থামার পর মীর মদন মনে করেছিলেন যে ইংরেজদের বারুদও হয়তো ভিজে গেছে। তিনি অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে ইংরেজদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ক্লাইভের শুকনো বারুদের কামানের গোলায় মীর মদন মারাত্মকভাবে আহত হন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।


সিরাজের ঐতিহাসিক ভুল ও মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা

মীর মদনের মৃত্যু ছিল যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ঘটনা। ব্যাকুল ও বিচলিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে তাঁবুতে ডেকে পাঠান। নবাব নিজের মাথার পাগড়ি মীর জাফরের পায়ে রেখে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার আকুল আবেদন জানান।

মীর জাফর কোরআন ছুঁয়ে নবাবকে রক্ষার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরামর্শ দেন আজকের মতো যুদ্ধ স্থগিত রাখার জন্য। তিনি নবাবকে নির্দেশ দিতে বলেন যেন সেনাপতি মোহনলাল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে আসেন।

দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলাল তখন প্রায় ইংরেজদের কোণঠাসা করে ফেলেছেন। তিনি নবাবের বার্তা পেয়েও যুদ্ধ থামানো আত্মঘাতী হবে বলে предупреждение (সতর্ক) করেছিলেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের ছলে বিভ্রান্ত হয়ে পুনরায় যুদ্ধ বন্ধের কঠোর নির্দেশ পাঠান।

মোহনলালের বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলেই মীর জাফরের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত সফল হয়। নবাবের সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ক্লাইভের বাহিনী পূর্ণ শক্তিতে আক্রমণ চালায়। নিমিষেই নিশ্চিত বিজয় এক বিভীষিকাময় পরাজয়ে পরিণত হয়।


সিরাজউদ্দৌলার পতন ও করুণ পরিণতি

পলাশীর ময়দান থেকে পরাজিত ও বিষণ্ণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা দ্রুত মুর্শিদাবাদে ফেরেন। কিন্তু সেখানেও তিনি কারও সাহায্য পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি স্ত্রী লুৎফুন্নিসা ও কন্যা জোহরাকে নিয়ে পাটনার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যেখানে ফরাসি সেনাপতি ল-এর সাথে যুক্ত হয়ে নতুন করে লড়াইয়ের আশা ছিল।

কিন্তু রাজমহলের কাছে এক ফকির (দানা শাহ)—যার কান সিরাজ আগে এক অপরাধের কারণে কেটে দিয়েছিলেন—নবাবকে চিনে ফেলে এবং খবর দেয় মীর জাফরের পুত্র মীরনের কাছে।

১৭৫৭ সালের ২রা জুলাই সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে মুর্শিদাবাদে আনা হয়। মীরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নামক এক ঘাতক নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সিরাজের মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে মুর্শিদাবাদের রাজপথে ঘোরানো হয়—যা ছিল বাংলার স্বাধীন শেষ সূর্য অস্তমিত হওয়ার এক চরম অপমানজনক দৃশ্য।


পলাশীর যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব

পলাশীর যুদ্ধ সামরিক দিক থেকে কোনো বড় যুদ্ধ ছিল না, কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ছিল বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

১. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতার ভিত্তিপ্রস্তর: বাণিজ্যিক কোম্পানি থেকে ইংরেজরা ভারতে রাজনৈতিক শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২. অর্থনৈতিক নিষ্কাশন (Drain of Wealth): পলাশীর জয়ের পর ক্লাইভ ও কোম্পানি নবাবের রাজকোষ থেকে কোটি কোটি টাকা লুট করে লন্ডনে পাঠায়। এর ফলে বাংলায় নামেন দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য। ৩. বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভ: ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পর ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করে, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত পুরোপুরি শক্ত করে। ৪. সামাজিক প্রভাব: বাংলার তৎকালীন উদীয়মান ব্যবসায়ী ও কৃষক সমাজ ইংরেজদের শোষণে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নীল বিদ্রোহ, সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের বীজ এখান থেকেই রোপিত হয়েছিল।


পঞ্জিকা ও ইতিহাস: আষাঢ়ের মেঘ আর চিরন্তন শিক্ষা

বাংলা পঞ্জিকার আষাঢ় মাস বলতেই যেমন ঘন মেঘ ও বর্ষার সোঁদা গন্ধ ভেসে ওঠে, তেমনি বাঙালি মানসে আষাঢ় মাসের ১০ তারিখটি এক চিরন্তন বিষাদের প্রতীক। প্রকৃতি যেভাবে সেদিন বৃষ্টি নামিয়ে যুদ্ধের মোড় বদলে দিয়েছিল, তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সময় ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব।

বাঙালি সংস্কৃতি ও ইতিহাসে সিরাজউদ্দৌলা কোনো ভুলত্রুটির উর্ধ্বে থাকা নায়ক ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন দেশপ্রেমের প্রতীক। পক্ষান্তরে, 'মীর জাফর' নামটি আজও বাংলা ভাষায় 'বিশ্বাসঘাতক'-এর সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


উপসংহার

পলাশীর যুদ্ধ আমাদের শেখায় যে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অতি-বিশ্বাস এবং চক্রান্তের কাছে কীভাবে একটি শক্তিশালী জাতির স্বাধীনতাও ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। ভাগীরথীর তীরে পলাশীর আমবাগান আজ হয়তো আগের মতো বিশাল নেই, কিন্তু ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের সেই রক্তঝরা ইতিহাস আজও প্রতিটা বাঙালির হৃদয়ে এক সতর্কবার্তা হিসেবে রয়ে গেছে।


সাধারণ প্রশ্ন

পলাশীর যুদ্ধ কত সালে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন (বাংলা ১১৬৪ বঙ্গাব্দের ১০ই আষাঢ়) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত পলাশীর আমবাগানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের ভূমিকা কী ছিল?

মীর জাফর ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। তিনি ইংরেজদের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অধীনে থাকা বিশাল বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং নবাবকে বিভ্রান্ত করে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ দেন, যার ফলে সিরাজউদ্দৌলার নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে পরিণত হয়।

পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার কী পরিণতি হয়েছিল?

পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সিরাজউদ্দৌলা পাটনার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দি হন। ১৭৫৭ সালের ২রা জুলাই মীর জাফরের পুত্র মীরনের আদেশে ঘাতক মোহাম্মদী বেগ তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পলাশীর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফলাফল কী ছিল?

পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম ও নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরোক্ষ শাসন শুরু হয়। এটি ভারতে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার