← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস

অন্নপূর্ণা পূজা: দেবী অন্নদাত্রীর পৌরাণিক ইতিহাস, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল ও বাঙালির ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ কাহিনি

🎉 উৎসব  ·  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার

দেবী অন্নপূর্ণার পৌরাণিক উৎপত্তি, কাশীর রহস্য, ভারতচন্দ্র রায়ের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ঈশ্বরী পাটনি এবং বাঙালির রান্নাঘরের চিরায়ত দেবীর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও পূজা পদ্ধতি।

ভূমিকা: খাদ্য, ভক্তি ও বাঙালির চিরন্তন প্রার্থনা

"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"— কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের এই অমর পঙ্ক্তিটি কেবল একজন অতি সাধারণ মাঝির আকুল প্রার্থনা ছিল না, এটি হয়ে উঠেছিল সমগ্র বাঙালি জাতির আবহমান কালের মূল আকাঙ্ক্ষা। পরম মাতৃত্বের কাছে সন্তানের জন্য এর চেয়ে বড় চাওয়া আর কী হতে পারে? আর যিনি সন্তানের ক্ষুধা নিবারণ করেন, যিনি অন্ন বিলিয়ে সৃষ্টিকে রক্ষা করেন, তিনিই দেবী অন্নপূর্ণা।

বাঙালি সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার স্থান অতি উঁচুতে। তিনি জগতজননী পার্বতীরই এক বিশেষ রূপ। যখন পুরো বিশ্ব দুর্ভিক্ষে হাহাকার করছিল, তখন স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবকেও ভিক্ষাপাত্র হাতে দেবীর দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য, রন্ধনশিল্প এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারায় অন্নপূর্ণা পূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট তিথির ধর্মীয় আচার নয়, বরং অন্নকে "ব্রহ্ম" জ্ঞান করার এক পরম দার্শনিক স্বীকৃতি। চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী বা নবমী তিথিতে উদ্যাপিত এই পূজা ঘিরে আজও বাংলার গ্রাম থেকে নগরে এক অপরূপ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


দেবী অন্নপূর্ণা কে? পৌরাণিক পরিচয় ও রূপতত্ত্ব

'অন্ন' শব্দের অর্থ খাদ্য বা ভাত, আর 'পূর্ণা' শব্দের অর্থ যিনি পরিপূর্ণ বা পূর্ণ করেন। অর্থাৎ অন্নপূর্ণা হলেন যিনি খাদ্য ভাণ্ডার পূর্ণ রাখেন এবং ক্ষুধা থেকে বিশ্বজগতকে রক্ষা করেন। রূপতাত্ত্বিক দিক থেকে দেবী অন্নপূর্ণা হলেন মহামায়া পার্বতীরই সমৃদ্ধি ও পুষ্টি রূপ।

দেবীর ধ্যান ও প্রতিমা রূপ

পৌরাণিক শাস্ত্রে ও তন্ত্রে দেবী অন্নপূর্ণার যে ধ্যানকথা বর্ণিত হয়েছে, তা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর:

বেদান্ত ও উপনিষদে বলা হয়েছে— "অন্নং বহু কুর্বীত" (প্রচুর অন্ন উৎপন্ন করো) এবং "অন্নং বৈ ব্রহ্ম" (অন্নই পরম ব্রহ্ম)। কারণ অন্ন ছাড়া জীবের প্রাণ রক্ষা অসম্ভব, আর প্রাণ ছাড়া তত্ত্বজ্ঞান লাভ অসম্ভব। তাই দেবী অন্নপূর্ণা হলেন সেই আদিশক্তি যিনি দৈহিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষুধাই নিবৃত্ত করেন।


পৌরাণিক কাহিনি: মহাদেব, পার্বতী ও বিশ্বব্যাপী মহাদুর্ভিক্ষ

দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাবের পেছনে রয়েছে পুরাণ বর্ণিত এক অপূর্ব নীলাখেলা। স্কন্দপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ ও কাশীখণ্ডে এই কাহিনি বিস্তারিতভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

'সংসার মায়া না সত্য?'— শিব-পার্বতীর বিতর্ক

একদা কৈলাসে দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর মধ্যে এক গভীর দার্শনিক বিতর্ক শুরু হয়। মহাদেব বৈরাগী, তিনি তত্ত্বজ্ঞানের পক্ষপাতী। তিনি বলেন— "এই দৃশ্যমান জগৎ, জীবের ক্ষুধা-তৃষ্ণা এবং রূপ-রস-গন্ধ সবই মিথ্যা, সবই মায়া (ভ্রম)। কেবল এক পরমব্রহ্মই সত্য।"

জগৎজননী পার্বতী এই তত্ত্বের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারলেন না। তিনি বললেন— "যদি দৃশ্যমান জগৎ এবং দৈহিক অস্তিত্বই না থাকে, তবে আত্মজ্ঞান অর্জনের সুযোগ কোথায়? জীবের ক্ষুৎপিপাসা যদি মিথ্যা হয়, তবে সৃষ্টির স্থিতি থাকে কীভাবে?"

মহাদেব তাঁর যুক্তিতে অটল রইলেন। তখন জগতজননী সিদ্ধান্ত নিলেন, মহাদেবকে এবং এই বিশ্বকে বাস্তব সত্য উপলব্ধি করাবেন। তিনি মর্ত্য ও স্বর্গ থেকে নিজের সমস্ত শক্তি এবং খাদ্যের রস বা অন্ন প্রত্যাহার করে অন্তর্ধাপিত হলেন।

ত্রিলোকের হাহাকার ও কাশীতে দেবী

দেবী পার্বতী অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে অমনি সৃষ্টিতে ঘটল চরম বিপর্যয়। বৃষ্টি বন্ধ হলো, শস্যক্ষেত্র শুকিয়ে খাঁ খাঁ করতে লাগল, গাছপালা ফল দেওয়া বন্ধ করে দিল। জল ও অন্নের অভাবে মর্ত্য, পাতাল ও স্বর্গে মহাদুর্ভিক্ষ দেখা দিল। মুনি-ঋষি, মানব ও দেবকুল ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহারা হয়ে উঠল। স্বয়ং মহাদেব এবং তাঁর অনুচর নন্দী-ভৃঙ্গীও ক্ষুধার যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে পড়লেন। মহাদেব উপলব্ধি করলেন, কেবল আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিয়ে পেট ভরে না; শরীর রক্ষা না হলে ধর্ম চর্চাও অসম্ভব।

অবশেষে রটে গেল, অন্নপূর্ণা নগরী কাশীতে এক পরমেশ্বরী দেবী বিরাজিচ্ছেন এবং তিনি ক্ষুধার্ত সকল জীবকে অন্ন বিলি করছেন। মহাদেব কালবিলম্ব না করে ভিক্ষাপাত্র হাতে কাশীতে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন, এক দিব্য অলৌকিক বেদীতে উপবিষ্ট মহামায়া পার্বতী শস্য ও অন্ন বণ্টন করছেন।

শিবকে দেখে দেবী মৃদু হেসে বললেন— "প্রভু, এখন বুঝলেন তো, সংসার কেবল মায়া নয়, এই খাদ্যই জীবের প্রাণ?" মহাদেব বিনম্র চিত্তে উত্তর দিলেন— "হে দেবী, অন্নই পরম ব্রহ্ম। তুমি ভিন্ন বিশ্বসংসার অচল।" মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা চাইলেন এবং দেবী স্বহস্তে শিবের পাত্রে অন্ন তুলে দিলেন। শিবের ক্ষুধা নিবৃত্ত হলো এবং দেবী বর দিলেন যে কাশীতে কখনো কোনো মানুষ অনাহারে থাকবে না। সেই থেকে কাশী বিশ্বনাথের পাশাপাশি দেবী অন্নপূর্ণা কাশীর প্রধান অধিশাত্রী দেবী।


বাংলা সাহিত্যে অন্নপূর্ণা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ও 'অন্নদামঙ্গল'

বাঙালির কাছে দেবী অন্নপূর্ণার মহিমা পৌঁছে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায়ের (১৭২৪-১৭৬০)। অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজসভায় বসে তিনি রচনা করেছিলেন অমর কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' (বা অন্নপূর্ণামঙ্গল)।

ঈশ্বরী পাটনি ও নদীর ঘাট

অন্নদামঙ্গল কাব্যের সবচেয়ে আবেগঘন এবং বিখ্যাত পর্বটি হলো দেবী অন্নপূর্ণার ভাগীরথী নদী পারাপারের গল্প। দেবী কাশীর পাট চুকিয়ে বাংলায় আসছেন। নদী পার হওয়ার জন্য তিনি এসে দাঁড়ালেন এক সাধারণ মাঝি, ঈশ্বরী পাটনির নৌকায়।

দেবী এক সাধারণ রূপসী নারী সেজে নৌকায় উঠলেন। ঈশ্বরী পাটনি তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে দেবী এক অপূর্ব ছলাকলার ছন্দে নিজের গোপন পরিচয় ব্যক্ত করলেন—

"সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে আসল।
পরিচয় না দিলে না দিবে পারাপার॥"

দেবী এমনভাবে রূপক বাক্যে নিজের পরিচয় দিলেন যার প্রতিটি শব্দের দুটি করে অর্থ ছিল— এক অর্থে তিনি সাধারণ নারী, অন্য অর্থে তিনি জগতজননী। পারাপার শেষে দেবী ঈশ্বরী পাটনিকে আসল রূপ দেখালেন এবং বর দিতে চাইলেন। দেবী ভেবেছিলেন মাঝি ধন-দৌলত, রাজ্য বা সোনাদানার বর চাইবে। কিন্তু সাধারণ গ্রামীণ বাঙালি ঈশ্বরী পাটনি যা চাইল, তা চিরকালের জন্য বাঙালির জাতীয় প্রার্থনায় পরিণত হলো:

"প্রণমিয়া পাটনি কহিছে জোড়হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে॥"

দেবী বর দিলেন, ঈশ্বরী পাটনির বংশে কখনো অন্নের অভাব হলো না এবং তাঁর বরদানেই বাংলার ঘরে ঘরে অন্নপূর্ণার আরাধনা স্থায়ী রূপ পেল।

রাজা ভবানন্দ ও কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি

ভারতচন্দ্রের কাব্যে উঠে এসেছে ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনি। ভবানন্দের ভক্তি ও আতিথ্য লাভ করে দেবী অন্নপূর্ণা প্রীত হন এবং তাঁকে সমৃদ্ধির বর দেন। ইতিহাস বলে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনার প্রেরণা দিয়েছিলেন এবং নিজের রাজবাড়িতে মহাসমারোহে অন্নপূর্ণা পূজার প্রচলন করেছিলেন। নদীয়া ও কৃষ্ণনগরের সেই ঐতিহ্যবাহী পূজা আজও অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয়।


কখন ও কীভাবে পালিত হয় অন্নপূর্ণা পূজা?

পঞ্জিকা অনুসারে, দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা প্রধানত চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী ও নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি বসন্তকালের বাসন্তী পূজার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। অনেক পরিবারে বাসন্তী নবমীর দিন দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করা হয়, আবার কোথাও চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগে এটি উদযাপিত হয়।

শুভ মুহূর্ত ও পঞ্জিকার হিসাব

প্রতি বছর পঞ্জিকা (যেমন গুপDirectory পঞ্জিকা, বেণীমাধব শীল বা গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা) দেখে তিথি ও শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করা হয়। চৈত্র নবরাত্রির সময় যখন সূর্য মীন রাশিতে অবস্থান করে এবং বসন্তের আগমন ঘটে, তখনই চাল, নতুন শস্য ও ফলমূল দিয়ে দেবীকে সাজানো হয়।

যদি আপনার রাশিতে বা কোষ্ঠীতে বৃহস্পতি বা শুক্রের কৃপা লাভের অভাব থাকে, তবে সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিথিতে অন্নদান বা অন্নপূর্ণা পূজার ভোগ গ্রহণ অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী বলে মনে করা হয়।


বাঙালির পূজাপদ্ধতি, অন্নকূট ও ভোগ নিবেদন

অন্নপূর্ণা পূজার মূল আকর্ষণ হলো এর অন্নভোগ এবং 'অন্নকূট' (অন্নের পাহাড় বা স্তূপ)। খাদ্যরসিক এবং ভক্তিপরায়ণ বাঙালির ঘরে এই দিন তৈরি হয় অসাধারণ সব পদ।

পূজার বিশেষ আচার:

১. নবঘট ও শস্য প্রতিষ্ঠা: পূজার বেদীতে তামার ঘট স্থাপন করে তার ওপর ডাব ও আমপল্লব রাখা হয়। ঘটে ও চারপাশে বিভিন্ন প্রকার ধান, গম ও কলাই ছড়ানো হয়, যা প্রাচুর্যের প্রতীক। ২. চতুর্ভূজা মূর্তির আবাহন: পিঁড়িতে দেবীর মাটির বা ধাতুর প্রতিমা স্থাপন করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবীর পাশাপাশি শিবের মূর্তি রাখাও বাধ্যতামূলক। ৩. অন্নকূট উৎসব: পূজার দিন দেবীর সামনে প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চালের ভাত, খিচুড়ি, পঞ্চব্যঞ্জন (পাঁচ রকমের ভাজা), পোলাও, ছানার তরকারি, পায়েস এবং মিষ্টির স্তূপ সাজিয়ে দেওয়া হয়। একে বলা হয় অন্নকূট। ৪. অন্নদান ও দরিদ্র সেবা: অন্নপূর্ণা পূজার মূল দর্শনই হলো অন্যকে অন্ন দেওয়া। তাই পূজার পর ভক্তদের মধ্যে এবং দুস্থ মানুষদের সুস্বাদু ভোগ বিতরণ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, অন্নপূর্ণা পূজার দিন কাউকে খালি পেটে ফিরিয়ে দিতে নেই।


কাশীর অন্নপূর্ণা মন্দির ও বাংলার বিখ্যাত পূজাসমূহ

অন্নপূর্ণা পূজার কথা বললে কাশীর কথা আসবেই। তবে বাংলায় এই পূজার বিস্তার কোনো অংশে কম নয়।

কাশীর অন্নপূর্ণা মন্দির

কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই অবস্থিত ঐতিহাসিক অন্নপূর্ণা মন্দির। বলা হয়, এখানে যে স্বর্ণ অন্নপূর্ণা প্রতিমা রয়েছে, তা সাধারণ দিনে দর্শন করা যায় না। কেবল দীপাবলি ও অন্নকূট উৎসবের সময় বছর অন্তে এই স্বর্ণমূর্তি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ওই দিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত কাশীতে অন্নকূট দর্শনে যান।

বাংলার রাজবাড়ি ও জমিদার বাড়ির পূজা


বাঙালির রান্নাঘর ও লক্ষ্মী-অন্নপূর্ণা চেতনা

বাঙালি সংস্কৃতিতে রান্নাঘর বা পাকশালাকে কেবল গৃহস্থালির একটি অংশ মনে করা হয় না, তাকে দেবী অন্নপূর্ণার পীঠস্থান মনে করা হয়।


আধুনিক যুগে অন্নপূর্ণা পূজার সামাজিক ও নৈতিক বার্তা

আজকের দিনে যখন বিশ্বে খাদ্য সংকট, খাদ্যের অপচয় এবং অপুষ্টি এক বিরাট সমস্যা, তখন দেবী অন্নপূর্ণার পূজা কেবল কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর এক গভীর সামাজিক বার্তা রয়েছে:

১. খাদ্য অপচয় রোধ: প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্য বিশ্বে নষ্ট হয়। অন্নপূর্ণা পূজা আমাদের শেখায় যে প্রতিটি দানা অন্ন হলো ঈশ্বরের দান। ২. ক্ষুধামুক্ত সমাজের শপথ: পূজার আসল উদ্দেশ্য সার্থক হয় তখনই, যখন আমরা আমাদের আশপাশের কোনো ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্ন দিতে পারি। অন্নদানই হলো শ্রেষ্ঠ দান। ৩. কৃষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা: দেবী অন্নপূর্ণা মূলত ভূমির উর্বরতা ও কৃষির প্রতীক। কৃষক ভাইদের পরিশ্রমের ফসলই আমাদের টেবিলে অন্ন হয়ে আসে। তাই কৃষির গুরুত্ব বোঝা এই পূজার অন্যতম বার্তা।


সাধারণ প্রশ্ন

অন্নপূর্ণা পূজা কোন তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়?

অন্নপূর্ণা পূজা প্রধানত চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী বা নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি বসন্তকালের বাসন্তী পূজার সময়ই উদযাপিত হয়।

ঈশ্বরী পাটনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে কী বর চেয়েছিলেন?

ঈশ্বরী পাটনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে ধন-দৌলত বা রাজত্ব চাননি। তিনি চেয়েছিলেন যেন তাঁর সন্তানেরা কোনোদিন অনাহারে না থাকে, অর্থাৎ "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।"

দেবী অন্নপূর্ণার রূপের বৈশিষ্ট্য কী?

দেবী অন্নপূর্ণা স্বর্ণবর্ণা বা রক্তাভ বসনা। তাঁর এক হাতে থাকে রত্নখচিত অন্নপাত্র এবং অন্য হাতে থাকে সোনার হাতা বা চামচ, যা দিয়ে তিনি দেবাদিদেব মহাদেব ও সমগ্র সৃষ্টিকে অন্নদান করেন।

কাশীর সাথে দেবী অন্নপূর্ণার কী সম্পর্ক?

পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মহাদুর্ভিক্ষের সময় দেবী অন্নপূর্ণা কাশীতে আবির্ভূত হয়ে অন্নদান করেছিলেন। স্বয়ং শিব সেখানে এসে দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করেন। তাই কাশীকে অন্নপূর্ণার ক্ষেত্র বা অন্নপূরী বলা হয়।

← বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস  |  সঠিক বাংলা ক্যালেন্ডার